ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে এয়ারবাসের ৬ হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬ Time View

এয়ারবাসের সফটওয়্যার হালানাগাদ নির্দেশনার পর বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিঘ্নিত হচ্ছে

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাস তাদের এ৩২০ সিরিজে তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে বলায় হাজার হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, সূর্যের তীব্র বিকিরণ ফ্লাইট কন্ট্রোলের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নষ্ট করতে পারে—এটি জানতে পারার পরই সফটওয়্যার হালানাগাদ করতে বলা হয়েছে। এ হালনাগাদের ফলে বেশিরভাগ উড়োজাহাজ ঠিক হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়া, উইজ এয়ার, এয়ার নিউ জিল্যান্ড—সব কোম্পানিই ফ্লাইট ব্যাঘাতের সতর্কতা দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ছয় হাজার উড়োজাহাজ এতে প্রভাবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এয়ারবাসের বৈশ্বিক বহরের প্রায় অর্ধেক।

যুক্তরাষ্ট্রে বড় ছুটির মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে; এয়ারবাস এ৩২০ সিরিজের চারটি বৃহত্তম অপারেটর—আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইন্স, জেটব্লু ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তির মধ্যে।

বিবিসি লিখেছে, গত অক্টোবরে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি জেটব্লুর ফ্লাইটে ‘হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার’ পর বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়। তখন উড়োজাহাজটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয় এবং সেই সময় ১৫-২০ জনের ছোটখাটো আঘাতের খবর বেরিয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে ফ্লাইট কন্ট্রোল সহায়ক কম্পিউটারের ডেটা বিকৃত হয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের সমস্যা যাতে অন্য ফ্লাইটেও দেখা না দেয়, সেজন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে বলেছে এয়ারবাস। এ৩২০ সিরিজের পাশাপাশি এ৩১৯ ও এ৩২১ মডেলের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সৌর বিকিরণ কীভাবে বিমানের ইলেকট্রনিক্সকে প্রভাবিত করে তার ব্যাখ্যায় কান্তাস এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট ইয়ান গেটলি বলেন, “করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই)—অর্থাৎ সূর্য থেকে প্লাজমা নির্গমনে উড়োজাহাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”

কসমিক ও সৌর বিকিরণে এ পিএইচডিধারী বলেন, “সিএমই’র তীব্রতা যত বেশি, ২৮ হাজার ফুটের উপরে স্যাটেলাইট ও উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্স সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা ততো বেশি।”

সিএমই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভারী শক্তিযুক্ত কণা ছড়ায়। এগুলো উপরের বায়ুমণ্ডলে আরও শক্তিযুক্ত কণা তৈরি করে, যা উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্সে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ পারে।

ড. গেটলি জানান, ২০০৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউ ইয়র্কগামী এক ফ্লাইটে তিনি নিজে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর থেকেই এ বিষয়ে তিনি গবেষণা শুরু করেন।

ব্রিটিশ ‘লো-কোস্ট’ এয়ারলাইন্স ইজি জেট জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের অনেক উড়োজাহাজে সফটওয়্যার হালানাগাদ সম্পন্ন করেছে এবং শনিবার ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলবে। তারা গ্রাহকদের ফ্লাইট ট্র্যাকার চেক করতে বলেছে।

হিথ্রো বিমানবন্দর জানিয়েছে, এয়ারবাসের সফটওয়্যার হালানাগাদের কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়েনি। তবে গ্যাটউইক বিমানবন্দর কিছু ব্যাঘাতের আশঙ্কা করছে।

সেখানকার এক মুখপাত্র বলেন, “এটি কয়েকটি এয়ারলাইনকে প্রভাবিত করছে। যাত্রীরা তাদের এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

Please Share This Post in Your Social Media

বিশ্বজুড়ে এয়ারবাসের ৬ হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৬:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাস তাদের এ৩২০ সিরিজে তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে বলায় হাজার হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, সূর্যের তীব্র বিকিরণ ফ্লাইট কন্ট্রোলের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নষ্ট করতে পারে—এটি জানতে পারার পরই সফটওয়্যার হালানাগাদ করতে বলা হয়েছে। এ হালনাগাদের ফলে বেশিরভাগ উড়োজাহাজ ঠিক হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়া, উইজ এয়ার, এয়ার নিউ জিল্যান্ড—সব কোম্পানিই ফ্লাইট ব্যাঘাতের সতর্কতা দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ছয় হাজার উড়োজাহাজ এতে প্রভাবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এয়ারবাসের বৈশ্বিক বহরের প্রায় অর্ধেক।

যুক্তরাষ্ট্রে বড় ছুটির মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে; এয়ারবাস এ৩২০ সিরিজের চারটি বৃহত্তম অপারেটর—আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইন্স, জেটব্লু ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তির মধ্যে।

বিবিসি লিখেছে, গত অক্টোবরে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি জেটব্লুর ফ্লাইটে ‘হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার’ পর বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়। তখন উড়োজাহাজটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয় এবং সেই সময় ১৫-২০ জনের ছোটখাটো আঘাতের খবর বেরিয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে ফ্লাইট কন্ট্রোল সহায়ক কম্পিউটারের ডেটা বিকৃত হয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের সমস্যা যাতে অন্য ফ্লাইটেও দেখা না দেয়, সেজন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ করতে বলেছে এয়ারবাস। এ৩২০ সিরিজের পাশাপাশি এ৩১৯ ও এ৩২১ মডেলের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সৌর বিকিরণ কীভাবে বিমানের ইলেকট্রনিক্সকে প্রভাবিত করে তার ব্যাখ্যায় কান্তাস এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট ইয়ান গেটলি বলেন, “করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই)—অর্থাৎ সূর্য থেকে প্লাজমা নির্গমনে উড়োজাহাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”

কসমিক ও সৌর বিকিরণে এ পিএইচডিধারী বলেন, “সিএমই’র তীব্রতা যত বেশি, ২৮ হাজার ফুটের উপরে স্যাটেলাইট ও উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্স সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা ততো বেশি।”

সিএমই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভারী শক্তিযুক্ত কণা ছড়ায়। এগুলো উপরের বায়ুমণ্ডলে আরও শক্তিযুক্ত কণা তৈরি করে, যা উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্সে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ পারে।

ড. গেটলি জানান, ২০০৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউ ইয়র্কগামী এক ফ্লাইটে তিনি নিজে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর থেকেই এ বিষয়ে তিনি গবেষণা শুরু করেন।

ব্রিটিশ ‘লো-কোস্ট’ এয়ারলাইন্স ইজি জেট জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের অনেক উড়োজাহাজে সফটওয়্যার হালানাগাদ সম্পন্ন করেছে এবং শনিবার ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলবে। তারা গ্রাহকদের ফ্লাইট ট্র্যাকার চেক করতে বলেছে।

হিথ্রো বিমানবন্দর জানিয়েছে, এয়ারবাসের সফটওয়্যার হালানাগাদের কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়েনি। তবে গ্যাটউইক বিমানবন্দর কিছু ব্যাঘাতের আশঙ্কা করছে।

সেখানকার এক মুখপাত্র বলেন, “এটি কয়েকটি এয়ারলাইনকে প্রভাবিত করছে। যাত্রীরা তাদের এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”