ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
আ’লীগের কেউ এনসিপিতে যুক্ত হবার সাহস দেখালে আইনের কাছে সোপর্দ করব বিচারিক সংস্কার এখন নিজেই “সংস্কার” শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে: প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ  মায়ের সাথে গোসলে নেমে পুকুরে ডুবে ২সন্তানের মৃত্যু আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই: সারজিস আলম বিয়ে বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান নোয়াখালীতে জমজ ২ দুই বোনকে ধর্ষণ কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

প্রেমের টানে সংসদ ছাড়লেন সিঙ্গাপুরের স্পিকার ও এমপি

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
  • / ১০৬ Time View

নিজেদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্বীকার করে নিয়ে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সিঙ্গাপুরের স্পিকার ত্যান চুয়ান জিন এবং এমপি চেন লি হুই।

সোমবার রাজধানী সিঙ্গাপুর সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুন বলেন, তারা দুজনই আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।

প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের স্পিকার ত্যান চুয়ান জিন ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের পিতা। তিনি এবং এমপি চেন লি হুই উভয়েই ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) উচ্চপর্যায়ের সদস্য। ২০২০ সাল থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়।

কিন্তু দলের পক্ষ থেকে তাদের এর আগেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছিল, যেহেতু ত্যান চুয়ান জিন বিবাহিত, তাই তাদের ঘনিষ্ঠতা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা যেন নিজেদের সম্পর্ককে আর বাড়তে না দেন।

ত্যান চুয়ান জিন এবং চেন লি হুই দলের উচ্চপর্যায়ের এ সিদ্ধান্ত সেই সময় মেনে নিলেও পরে সেখান থেকে সরে আসেন। সম্প্রতি পিএপির ভেতরে তাদের দুইজনের সম্পর্ক নিয়ে পিএপির বিরুদ্ধে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সিঙ্গাপুরের পরিবহণমন্ত্রী এস ঈশ্বরণ। পরিবহণক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন ব্যুরো।

তার এ গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সিঙ্গাপুরে প্রায় ৪০ বছর পর কোনো মন্ত্রী গ্রেফতার হলেন। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে দেশটির মন্ত্রিসভার এক সদস্য দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

এস ঈশ্বরণের গ্রেফতারের কিছু দিন আগে মন্ত্রিসভার অপর দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যদেরও বিরুদ্ধেও সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করে বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়, আবার বেশিরভাগক্ষেত্রে এসব দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়াও নতুন কিছু নয়।

তবে সিঙ্গাপুর এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দেশটি আক্ষরিক অর্থেই দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স মেনে চলে।

একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন পিএপি যখন বিপর্যস্ত, সেই সময় বিবাহিত স্পিকারের সঙ্গে এমপির প্রেমে দেশজুড়ে যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছিল, তার ইতি টানতে দলের নীতি-নির্ধাকরদের নির্দেশে এইপদক্ষেপ নিয়েছেন দুজন।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রেমের টানে সংসদ ছাড়লেন সিঙ্গাপুরের স্পিকার ও এমপি

Reporter Name
Update Time : ০৮:২২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

নিজেদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্বীকার করে নিয়ে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সিঙ্গাপুরের স্পিকার ত্যান চুয়ান জিন এবং এমপি চেন লি হুই।

সোমবার রাজধানী সিঙ্গাপুর সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুন বলেন, তারা দুজনই আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।

প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের স্পিকার ত্যান চুয়ান জিন ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের পিতা। তিনি এবং এমপি চেন লি হুই উভয়েই ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) উচ্চপর্যায়ের সদস্য। ২০২০ সাল থেকে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়।

কিন্তু দলের পক্ষ থেকে তাদের এর আগেও সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছিল, যেহেতু ত্যান চুয়ান জিন বিবাহিত, তাই তাদের ঘনিষ্ঠতা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা যেন নিজেদের সম্পর্ককে আর বাড়তে না দেন।

ত্যান চুয়ান জিন এবং চেন লি হুই দলের উচ্চপর্যায়ের এ সিদ্ধান্ত সেই সময় মেনে নিলেও পরে সেখান থেকে সরে আসেন। সম্প্রতি পিএপির ভেতরে তাদের দুইজনের সম্পর্ক নিয়ে পিএপির বিরুদ্ধে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সিঙ্গাপুরের পরিবহণমন্ত্রী এস ঈশ্বরণ। পরিবহণক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন ব্যুরো।

তার এ গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সিঙ্গাপুরে প্রায় ৪০ বছর পর কোনো মন্ত্রী গ্রেফতার হলেন। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে দেশটির মন্ত্রিসভার এক সদস্য দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

এস ঈশ্বরণের গ্রেফতারের কিছু দিন আগে মন্ত্রিসভার অপর দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যদেরও বিরুদ্ধেও সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করে বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়, আবার বেশিরভাগক্ষেত্রে এসব দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়াও নতুন কিছু নয়।

তবে সিঙ্গাপুর এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দেশটি আক্ষরিক অর্থেই দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স মেনে চলে।

একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন পিএপি যখন বিপর্যস্ত, সেই সময় বিবাহিত স্পিকারের সঙ্গে এমপির প্রেমে দেশজুড়ে যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছিল, তার ইতি টানতে দলের নীতি-নির্ধাকরদের নির্দেশে এইপদক্ষেপ নিয়েছেন দুজন।