ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

বাণিজ্য ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৬ Time View

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার রাজধনীর গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চৌধুরী নাফিস সরাফাতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, তাদের ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরী ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।

গতকাল শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবৈধ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। পরে স্ত্রী ও সহযোগী কাহের ইমামকে নিয়ে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক পদ লাভ করেন। এমনকি কৌশলে চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রীকে সাউথইস্ট ব্যাংকেরও পরিচালক করেন। এরপর অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে ফান্ডের টাকায় মাল্টি সিকিউরিটিজ নামে একটি ব্রোকার হাউজ করে তার ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতারণা করে ফান্ডের অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া চৌধুরী নাফিস সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের টাকা দিয়ে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি নামে ফান্ড কেনেন বা বিনিয়োগ করেন, যার অধীন একাধিক ফান্ড রয়েছে।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, জাল-জালিয়াতির ব্যাপ্তি এতই বিস্তিৃত ছিল যে, হিসাব বিও ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ রাজউক থেকে একাধিক প্লট হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছিলেন অভিযুক্তরা।

অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে ৭৮টি হিসাব পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ওই হিসাবগুলোতে ১ হাজার ৮০৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা এবং প্রায় ১ হাজার ৮০৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকালে সিআইডি আরও জানতে পেরেছে, চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন কানাডা ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানি এবং আঞ্জুমান আরা শাহীদের নামে সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরীর নামে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে ৭৬টি হিসাব পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়। চৌধুরী নাফিস সরাফাতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ রুমের একটি ভিলা রয়েছে বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

Please Share This Post in Your Social Media

নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

বাণিজ্য ডেস্ক
Update Time : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার রাজধনীর গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চৌধুরী নাফিস সরাফাতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, তাদের ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরী ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।

গতকাল শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবৈধ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। পরে স্ত্রী ও সহযোগী কাহের ইমামকে নিয়ে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক পদ লাভ করেন। এমনকি কৌশলে চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রীকে সাউথইস্ট ব্যাংকেরও পরিচালক করেন। এরপর অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে ফান্ডের টাকায় মাল্টি সিকিউরিটিজ নামে একটি ব্রোকার হাউজ করে তার ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতারণা করে ফান্ডের অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া চৌধুরী নাফিস সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের টাকা দিয়ে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি নামে ফান্ড কেনেন বা বিনিয়োগ করেন, যার অধীন একাধিক ফান্ড রয়েছে।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, জাল-জালিয়াতির ব্যাপ্তি এতই বিস্তিৃত ছিল যে, হিসাব বিও ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ রাজউক থেকে একাধিক প্লট হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছিলেন অভিযুক্তরা।

অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে ৭৮টি হিসাব পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ওই হিসাবগুলোতে ১ হাজার ৮০৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা এবং প্রায় ১ হাজার ৮০৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানকালে সিআইডি আরও জানতে পেরেছে, চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন কানাডা ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানি এবং আঞ্জুমান আরা শাহীদের নামে সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরীর নামে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে ৭৬টি হিসাব পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়। চৌধুরী নাফিস সরাফাতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ রুমের একটি ভিলা রয়েছে বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি।