ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
বিচারিক সংস্কার এখন নিজেই “সংস্কার” শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে: প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ  মায়ের সাথে গোসলে নেমে পুকুরে ডুবে ২সন্তানের মৃত্যু আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই: সারজিস আলম বিয়ে বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান নোয়াখালীতে জমজ ২ দুই বোনকে ধর্ষণ কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার

গ্রহাণুর ধুলা নিয়ে ফিরল নাসা ক্যাপসুল

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ২০৫ Time View

সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করে উৎক্ষেপণের ৬ বছর পর পৃথিবীতে ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) ক্যাপসুল।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য উটাহর মরুশহর সল্টলেক সিটির কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এলাকায় অবতরণ করেছে ক্যাপসুলটি।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৭ হাজার ফুট উঁচুতে নাসার রকেট ওসিরিস-রেক্স থেকে অবমুক্ত হয় থেকে পৃথিবীতে নেমে এসেছে গামড্রপ (ক্যান্ডি আকৃতির একপ্রকার চিউইংগাম) আকারের এই ক্যাপসুলটি। অবতরণের ওই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে নাসা।

প্রসঙ্গত, সৌরজগতে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে থাকা বেন্নু নামের একটি গ্রহাণু ১৯৯৯ সালে পৃথিবীর কক্ষপথ ছুঁয়ে গিয়েছিল।

মাত্র ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের কার্বন সমৃদ্ধ এই গ্রহাণুটিকে সে সময়ই শনাক্ত করেছিল নাসার টেলিস্কোপ।

সৌরজগতে ঘুরতে থাকা অন্যান্য গ্রহাণু থেকে খানিকটা আলাদা হওয়ায় গ্রহাণুটির মাটির নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় নাসা।

তারপর অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে ওই গ্রহণুর উদ্দেশে পাঠানো হয় ওসিরিস রেক্স নামের একটি রকেট। সেই রকেটেই সংযুক্ত ছিল ক্যাপসুলটি।

উৎক্ষেপণের ৩ বছর পর ২০২০ সালে বেন্নুতে অবতরণে সক্ষম হয় ওসিরিস রেক্স। তারপর সেটি থেকে পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীর কক্ষপথের উদ্দেশে রওনা দেয় নভোযানটি। পৃথিবীর কাছাকাছি আসতেও ওসিরিসের সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর।

গ্রহাণুকে লক্ষ্য করে প্রথম মহাকাশ অভিযান পরিচালনার কৃতিত্ব জাপানের। দেশটির মহাকাশ গবেষনা সংস্থার নেতৃত্বে ২০১০ এবং ২০২০ সালে সফলভাবে দু’টি অভিযান শেষ হয়েছিল।

তবে এবারের অভিযান থেকে যে পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তার পরিমাণ আগের দুই অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি। নাসার ক্যাপসুলটি বেন্নু থেকে মোট ২৫০ গ্রাম মাটি-পাথর-শিলা নিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।

গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড হল প্রধানত পাথর দ্বারা গঠিত বস্তু যা তার তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে।

আমাদের সৌরজগতে গ্রহাণুগুলো ক্ষুদ্র গ্রহ (মাইনর প্ল্যানেট বা প্ল্যানেটয়েড) নামে পরিচিত। সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধের চেয়েও আকারে ছোটো এসব গ্রহাণুর বেশিরভাগ মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রহাণু বেল্টে থেকে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে আবর্তন করে।

বিজ্ঞান বলছে, আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল ছোটো একটি গ্রহাণু, যেটির আকার-আয়তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১০২তলা ভবন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান।

কিন্তু সেই গ্রহণুটির আঘাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পৃথিবী এবং তারা জেরে এই গ্রহ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসররা।

Please Share This Post in Your Social Media

গ্রহাণুর ধুলা নিয়ে ফিরল নাসা ক্যাপসুল

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৬:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করে উৎক্ষেপণের ৬ বছর পর পৃথিবীতে ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) ক্যাপসুল।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য উটাহর মরুশহর সল্টলেক সিটির কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এলাকায় অবতরণ করেছে ক্যাপসুলটি।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৭ হাজার ফুট উঁচুতে নাসার রকেট ওসিরিস-রেক্স থেকে অবমুক্ত হয় থেকে পৃথিবীতে নেমে এসেছে গামড্রপ (ক্যান্ডি আকৃতির একপ্রকার চিউইংগাম) আকারের এই ক্যাপসুলটি। অবতরণের ওই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে নাসা।

প্রসঙ্গত, সৌরজগতে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে থাকা বেন্নু নামের একটি গ্রহাণু ১৯৯৯ সালে পৃথিবীর কক্ষপথ ছুঁয়ে গিয়েছিল।

মাত্র ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের কার্বন সমৃদ্ধ এই গ্রহাণুটিকে সে সময়ই শনাক্ত করেছিল নাসার টেলিস্কোপ।

সৌরজগতে ঘুরতে থাকা অন্যান্য গ্রহাণু থেকে খানিকটা আলাদা হওয়ায় গ্রহাণুটির মাটির নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় নাসা।

তারপর অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে ওই গ্রহণুর উদ্দেশে পাঠানো হয় ওসিরিস রেক্স নামের একটি রকেট। সেই রকেটেই সংযুক্ত ছিল ক্যাপসুলটি।

উৎক্ষেপণের ৩ বছর পর ২০২০ সালে বেন্নুতে অবতরণে সক্ষম হয় ওসিরিস রেক্স। তারপর সেটি থেকে পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীর কক্ষপথের উদ্দেশে রওনা দেয় নভোযানটি। পৃথিবীর কাছাকাছি আসতেও ওসিরিসের সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর।

গ্রহাণুকে লক্ষ্য করে প্রথম মহাকাশ অভিযান পরিচালনার কৃতিত্ব জাপানের। দেশটির মহাকাশ গবেষনা সংস্থার নেতৃত্বে ২০১০ এবং ২০২০ সালে সফলভাবে দু’টি অভিযান শেষ হয়েছিল।

তবে এবারের অভিযান থেকে যে পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তার পরিমাণ আগের দুই অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি। নাসার ক্যাপসুলটি বেন্নু থেকে মোট ২৫০ গ্রাম মাটি-পাথর-শিলা নিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।

গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড হল প্রধানত পাথর দ্বারা গঠিত বস্তু যা তার তারাকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে।

আমাদের সৌরজগতে গ্রহাণুগুলো ক্ষুদ্র গ্রহ (মাইনর প্ল্যানেট বা প্ল্যানেটয়েড) নামে পরিচিত। সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধের চেয়েও আকারে ছোটো এসব গ্রহাণুর বেশিরভাগ মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রহাণু বেল্টে থেকে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে আবর্তন করে।

বিজ্ঞান বলছে, আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল ছোটো একটি গ্রহাণু, যেটির আকার-আয়তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১০২তলা ভবন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান।

কিন্তু সেই গ্রহণুটির আঘাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পৃথিবী এবং তারা জেরে এই গ্রহ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসররা।