কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করায় ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার করতে পারেনি আওয়ামী লীগপন্থি সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি)। তবে নির্ধারিত সময়ে অন্যত্র সেমিনারের আয়োজন করে সংগঠনটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। তবে সেনিমারের আমন্ত্রণপত্রে ১০ জন বক্তার নাম ছিল; তাদের আটজনই অনুপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় সেমিনারটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা অডিও বক্তব্য দেন। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কির আলটো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এনসিপি জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডে তাদের নেতাকর্মীদের তৎপরতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য জানানোর পর আলটো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেমিনারের বুকিং বাতিল করে।
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ টার্নিং পয়েন্ট: ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল জিসিডিজি। সংগঠনটির সভাপতি ডা. হাবিবে মিল্লাত। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন সেমিনারে। সঞ্চালনা করেন ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম নামে একটি সংগঠনের যোগাযোগ পরিচালক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামীপন্থিদের বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থিত থাকছেন। এ দুজন ছাড়াও সেমিনারে বক্তৃতা করেন ইউরোপের আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট নুরে জামান ভূঁইয়া।
একটি কক্ষের জানালার পর্দার সামনে বসে মোবাইল ফোনে সম্প্রচার করা ৩৫ মিনিটের এই সেনিমারের শেষ বক্তা ছিলেন শেখ হাসিনা। ছিল না কোনো ব্যানার, মঞ্চ। সেমিনারে যে বক্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে আগে প্রচার করা হয়েছিল, সেই অতিথিরাও ছিলেন না। অতিথি তালিকায় নাম ছিল হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পেক্কা তুওমিনেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেলা গভর্নর জেরে জানতুনেন, ভান্তা সিটির কাউন্সিলর সোইলে এরিকসন, হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা, ভান্তা সিটির কাউন্সিলর দ্রিলন ক্লোকোকি ও শেখর আচার্য, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিলস হেনরিক ওয়াসেনিয়ুস, মানবাধিকারকর্মী মিক্কো ডামসক্যাগ এবং লেখক হাসান ব্লাসিমের। তারা উপস্থিত ছিলেন না।
অল্টারনেটিভ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, তারা দুইজন অতিথির সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা জানান, তাদের সম্মতি ছড়াই সেমিনারের অতিথি হিসেবে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা নিজের ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম পোস্টেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির ফিনল্যান্ড শাখার এনসিপির আহ্বায়ক আহাদ শিকদারের বরাতে বলা হয়েছে, আলটো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ইমেইলে জুলাই গণহত্যায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়। তাদের বলা হয়, আদালতে প্রমাণিত খুনি ইউরোপের কোনো দেশে সেমিনার করতে পারেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেমিনারটির বুকিং বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে ফিনল্যান্ডের দৃঢ় অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবগত। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত অপরাধী সংগঠন আওয়ামী লীগ সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজনের চেষ্টা করায় তা জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। পুরোনো ছবি
রাজধানীর মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে মধ্যরাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি একথা লেখেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, মধ্যরাতে মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে একেরপর এক অগ্নিসন্ত্রাস, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরেও যদি বিরোধীদল মনে করে তারা চুপচাপ সব দেখে যাবে। তাহলে বলতেই হবে, নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিরোধীদলেরও মৌন সমর্থন আছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সায় তারা যদি আওয়ামী দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দেয়, এর খেসারত তাদেরও চরমভাবে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল দেশের মঙ্গল চাইলে রাজপথে নেমে এদের প্রতিহত করুক। তাহলেই বুঝব আসলেই বিরোধীদল প্রকৃতপক্ষে গণহত্যার বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার চায়। অন্যথায় পতিত স্বৈরাচার গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির আপস মীমাংসার বিষয়ে সন্দেহ সংসয় তো থেকেই যায়।
জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। কারামুক্তির পরপরই জামায়াত আমিরের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আখতারুজ্জামান।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কারাফটকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জামায়াতে নেতাকর্মীরা। পরে তিনি সরাসরি জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান।
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় গত ২ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তার বজামিন মঞ্জুর করেন। পরে ২ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন। আজ সকালে তিনি কারামুক্ত হন।
বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে মুনাফিকের দল। তারা জন্মগতভাবেই জাতির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের যে ৩১ দফার কথা বিএনপি বারবার বলে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেই ৩১ দফা ছুড়ে ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রত্যকটি জায়গায় অন্ধ দলীয়করণে মেতে উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মূল দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তারা ৫ বছর শাসন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপন করেনি।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমের রক্তের উপর দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিজেদের মতো ম্যানিপুলেশন করতে চায়। PSC সংস্কার করতে চায় না। ভাইভার নম্বর ৪-৫ গুণ বাড়িয়ে আবার তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা এবং শুধুমাত্র লিস্ট নিয়ে নিজেদের নেতাকর্মীদের চাকরি দেওয়ার জন্য জনগণের সাথে, তরুণ প্রজন্মের রক্তের সাথে বেইমানি করার ছক আর কৌশল তারা করছে।
তিনি আরও বলেন, চা খাওয়ার দাওয়াতের নাম করে PSC-এর সদস্যদেরকে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই—যদি জনগণের সাথে, তরুণ প্রজন্মের চাকরি নিয়ে আবারও এই বেইমানি এবং প্রতারণার আশ্রয় আপনারা নেন, শেখ হাসিনাকে তখন সামলাতে পারেন নাই, সে তখন আপনাদের সামলানোর ক্ষমতা নাই।
সাদ্দাম হুশিয়ারী করে বলেন, জুলাই সনদই আপনাদের অস্তিত্ব। জুলাই সনদই আপনাদের ক্ষমতার ভিত্তি, জনগণের ম্যান্ডেটই আপনাদের ক্ষমতার ভিত্তি। সুতরাং সেটাকে যদি ডিনাই করেন, আপনাদের ওই ক্ষমতার মসনদ দুমড়ে-মুচড়ে শেষ হয়ে যাবে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু হয়েছে। সকাল ৭টায় লংমার্চ শুরুর আগে উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যুব সমাজকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা। যদি এ দাবি আদায় হতো তাহলে বাকি ৬টি দাবি মাথাচাড়া দিতো না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, আশাহত করেছে। বিএনপি যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে তাহলে চড়া মূল্য দিতে হবে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। বরং, তারা নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা তাদের পরিণতি ভোগ করছে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা আমাদের দাবি মেনে নেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। আমাদের দাবি আদায় করে আমরা ছাড়বো।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত ও দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি। এসব জনগণের দাবি। আমাদের আগের দুটি লংমার্চ জনগণের সহযোগিতায় সফল হয়েছে।
এর আগে দাবি আদায়ে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে, দ্বিতীয়টি ১৯ সেপ্টেম্বর করে রংপুর অভিমুখে।
ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুরে পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গতকল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার শহীদ আফনান চত্বরে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে জুমার নামাজের পর শহরের চকবাজার এলাকা থেকে তিন দফা দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জুলাইযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পথসভায় বক্তব্য দেন- ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের, সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা ও জুলাইযোদ্ধা সানজিদা আনোয়ার চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বক্তারা বলেন- বিগত ১৭ বছরেও যে সংবিধান স্বৈরাচারী শাসন ও শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা ঠেকাতে পারেনি, সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে এখন সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। সংবিধান ও সংস্কারের অজুহাতে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সরকার জুলাই শহীদদের বিচার এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে দেশে আরেকটি জুলাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আগামী ১৮ ডিসেম্বরের আলটিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে তারা সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, পথসভা শেষে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি লক্ষ্মীপুরের জকসিন ও চন্দ্রগঞ্জ হয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা করে।
একসময় দেশের প্রগতিশীল আন্দোলন, মুক্তচিন্তা ও অসংখ্য গুণী মানুষের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখন ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের কারখানায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, যে প্রতিষ্ঠান একসময় বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেখানে এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি টাঙিয়ে তাদের জাতির নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? কেউ ভর্তি হওয়া উচিত না। একটা সিনিয়র মাদ্রাসা, অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করে? এটা কী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?’বিশ্ববিদ্যালয়টির অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান আন্দোলনের, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় মুক্তির। সেই ২৭ সাল, ২৮ সাল, ২৯ সাল, ৩০ সাল, আবদুল ওহাব, আবুল হোসেনসহ সমস্ত কবি-সাহিত্যিক যারা ছিলেন, তাদের জন্ম দিয়েছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকদের জন্ম দিয়েছে, মোজাফফর আহমদ চৌধুরীদের মতো লোক, নীলিমা ইব্রাহিমদের মতো লোক, ড. নাজমা চৌধুরীর মতো লোক, আহমদ শরীফদের মতো লোক, হুমায়ুন আজাদদের মতো লোক, হুমায়ূন আহমেদদের মতো লোকের জন্ম দিয়েছে।’
এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এটা এখন স্বাধীনতাবিরোধী, অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হয়ে? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা! সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘চিন্তা করতে পারতাম, যদি সেই বাঙালি জাতি একদিন মনে করত, আমাদের নেতার নাম ছিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। আমাদের নেতার নাম ছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। আমাদের নেতার নাম ছিল নেতাজি সুভাষ বোস। আমাদের শহীদের নাম ছিল ক্ষুদিরাম, আমাদের শহীদের নাম ছিল সূর্য সেন।’
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যদি একবার মনে করতে পারতাম, আমাদের ভাষা আন্দোলনের শহীদ, মা বলার স্বীকৃতি যারা দিয়ে গেলেন, তাদের নাম ছিল বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার। যদি আজও মনে করতে পারেন, এই যে বাঙালির ছেলেরা, যাদের ভীরু বাঙালি বলা হয়, ৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলো, সেদিন যারা বাবাকে-মাকে কাঁদিয়ে, বাবার বাহুবন্ধন উপেক্ষা করে কেউ গিয়েছিলাম ত্রিপুরার পাহাড়ে, কেউ গিয়েছিলাম মেঘালয়ের পাহাড়ে, কেউ গিয়েছিলাম কলকাতা, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে।’
মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা যারা দেরাদুনে ট্রেনিং নিয়েছিলাম, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে যারা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই সন্তান যদি আবার বাংলায় আসে, তাহলে এটার নাম হবে বাংলাদেশ। না হলে এখানে অমানুষরা জিতে যাবে। আমরা সব ইতিহাসের জঞ্জাল এবং কঙ্কালে পরিণত হব।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের আশীর্বাদে আর পাঁচটা বছর বাঁচতে চাই। আমি বাংলাদেশটাকে দেখে যেতে চাই, এটা কি বাঙালির বাংলাদেশ থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান? এটা আমি দেখে যেতে চাই এবং এটার জন্য শেষ যুদ্ধটা করে যেতে চাই।’
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা যারা এখন সাহসী হয়ে উঠছে বা তাদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, তারা এখন আমাদের হয়তো গুলি করে মেরে ফেলবে। প্রথম ফার্স্ট টার্গেট ফজলুর রহমান টু কিল হিম উইথ অ্যা শট অব অ্যা বুলেট। কিন্তু অসহায় মুক্তিযোদ্ধা মরলে এ দেশে কবরও পাবে না, যেটা প্রমাণ হচ্ছে এ দেশে। আমার নিমদা তো অন্তত তার দাহটা পেয়েছেন শ্মশানে গিয়ে। আমি নাও পেতে পারি কবর। দেশটা এই জায়গায় চলে গেছে।’