ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রিফাত রশিদ

রাতের মধ্যে মাহদীকে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৩:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি, হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করাসহ দুই দফা দাবি জানিয়ে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আটক হন। তাঁর মুক্তির দাবিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রাত ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। সেখানে তাঁরা একটু পরপর ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, ডিবি পুলিশ সাদা পোশাকে মাহদীকে তুলে নিয়ে গেছে, যা ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে দেখা গেছে। হাসিনার পুলিশ আর ড. ইউনূসের পুলিশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তখনও মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো, এখনো দেওয়া হচ্ছে, প্যাটার্ন বদলায়নি।

তিনি আরও বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকলেও দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

রাত সোয়া ১২টার দিকে মাহদী হাসানের মুক্তিসহ দুই দফা দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, রাতের মধ্যেই মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–শ্রমিক–জনতাকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কার্যক্রম থেকে দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তিনি মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথায় প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করে আজকের মতো অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। তবে রাতের মধ্যে মুক্তি না দেওয়া হলে আগামীকাল সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।’

এ সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

১. রাতের মধ্যে মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

রিফাত রশিদ

রাতের মধ্যে মাহদীকে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
Update Time : ০৩:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি, হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করাসহ দুই দফা দাবি জানিয়ে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আটক হন। তাঁর মুক্তির দাবিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রাত ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। সেখানে তাঁরা একটু পরপর ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, ডিবি পুলিশ সাদা পোশাকে মাহদীকে তুলে নিয়ে গেছে, যা ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে দেখা গেছে। হাসিনার পুলিশ আর ড. ইউনূসের পুলিশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তখনও মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো, এখনো দেওয়া হচ্ছে, প্যাটার্ন বদলায়নি।

তিনি আরও বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকলেও দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

রাত সোয়া ১২টার দিকে মাহদী হাসানের মুক্তিসহ দুই দফা দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, রাতের মধ্যেই মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–শ্রমিক–জনতাকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কার্যক্রম থেকে দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তিনি মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথায় প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করে আজকের মতো অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। তবে রাতের মধ্যে মুক্তি না দেওয়া হলে আগামীকাল সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।’

এ সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

১. রাতের মধ্যে মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।