ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার মানুষের দীর্ঘশ্বাসের অবসান; চলছে নদীতীর রক্ষার কাজ

মাইদুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৪ Time View

সঠিক তদারকিতে ব্যস্ত গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী সাগর।

জীবন যাপনের স্থানগুলো যখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়,সেই শোক আর ক্লান্ত দৃষ্টিতে লুকানো কষ্ট মানুষের মনে দীর্ঘশ্বাসের বাসা বাধে। এমনই দীর্ঘশ্বাসে ভুগছিল গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামরী এলাকার লোকজন। নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার পরে শেষ আশ্রয়টুকু নিয়ে ছিলেন দুশ্চিন্তায়। কখন নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে স্থায়ী তীর রক্ষা কাজ শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষ নতুন স্বপ্ন বুনছেন।

পাউবো গাইবান্ধা সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, গাইবান্ধার অধীনে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী এলাকায় যমুনা নদীর ডানতীর বরাবর ৫০০ মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের দায়িত্ব পায় বগুড়ার ঠিকাদার শাহরিয়ার কনস্ট্রাকশন। যার চুক্তিমূল্য ব্যয় প্রায় ৩১ কোটি ৫২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা। সম্প্রতি কাজটির উদ্বোধনসহ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের এখানে সিসি ব্লক তৈরি হচ্ছে নদীর কাজের জন্য। আমরা দেখেছি ঠিকাদার ভালো ভালো পাথর বালু দিয়ে কাজ করছে। ভালো কাজ হওয়ায় আমরাও এখানে সহযোগিতা করছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাতলামারী নদীর পয়েন্টে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে শ্রমিকরা সিসি ব্লক তৈরির কাজ করছে। পরিষ্কার ব্লকের ছাঁচে বালু,পাথর,সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে ভাইব্রেটর কম্পন দিচ্ছে। সেই কাজগুলোর সঠিক তদারকিতে ব্যস্ত গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী সাগর।

শ্রমিক মঞ্জু মিয়া বলেন, ভালে কাজ করে মনেও প্রশান্তি আসে। অনেক জায়গায় কাজ করেছি কিন্তু এখানে কাজ করে অনেক ভালো লাগছে। মালিক পক্ষের লোকজন অনেক ভালো ব্যবহার করে।

কথা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান, কাজের মান নিয়ে যদি কিছু বলতে হয় তবে বলবো সব থেকে ভালো কাজ আমাদের এখানে হচ্ছে। সরকার টাকা দিচ্ছে আমরা সরকারের সর্বোচ্চ উন্নয়নের অংশীদার মাত্র। নদী এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ সেটা যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সেই লক্ষে আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েম স্যার সকলে কাজের প্রতি অনেক সচেতন। তারা সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন।পাশাপাশি কাজের সর্বোচ্চ মান অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের সাইট ভিজিটে আসেন।

সচেতনমহল বলছেন, শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত কাতলামারীতে নদীর তীর রক্ষা কাজের জন্য সিসি ব্লক তৈরিতে ভালো মানের মেটা রিয়েল ব্যবহার করা হয়েছে। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

গাইবান্ধার মানুষের দীর্ঘশ্বাসের অবসান; চলছে নদীতীর রক্ষার কাজ

মাইদুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
Update Time : ০৮:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

জীবন যাপনের স্থানগুলো যখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়,সেই শোক আর ক্লান্ত দৃষ্টিতে লুকানো কষ্ট মানুষের মনে দীর্ঘশ্বাসের বাসা বাধে। এমনই দীর্ঘশ্বাসে ভুগছিল গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামরী এলাকার লোকজন। নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার পরে শেষ আশ্রয়টুকু নিয়ে ছিলেন দুশ্চিন্তায়। কখন নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে স্থায়ী তীর রক্ষা কাজ শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষ নতুন স্বপ্ন বুনছেন।

পাউবো গাইবান্ধা সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, গাইবান্ধার অধীনে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী এলাকায় যমুনা নদীর ডানতীর বরাবর ৫০০ মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের দায়িত্ব পায় বগুড়ার ঠিকাদার শাহরিয়ার কনস্ট্রাকশন। যার চুক্তিমূল্য ব্যয় প্রায় ৩১ কোটি ৫২ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা। সম্প্রতি কাজটির উদ্বোধনসহ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের এখানে সিসি ব্লক তৈরি হচ্ছে নদীর কাজের জন্য। আমরা দেখেছি ঠিকাদার ভালো ভালো পাথর বালু দিয়ে কাজ করছে। ভালো কাজ হওয়ায় আমরাও এখানে সহযোগিতা করছি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাতলামারী নদীর পয়েন্টে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে শ্রমিকরা সিসি ব্লক তৈরির কাজ করছে। পরিষ্কার ব্লকের ছাঁচে বালু,পাথর,সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে ভাইব্রেটর কম্পন দিচ্ছে। সেই কাজগুলোর সঠিক তদারকিতে ব্যস্ত গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী সাগর।

শ্রমিক মঞ্জু মিয়া বলেন, ভালে কাজ করে মনেও প্রশান্তি আসে। অনেক জায়গায় কাজ করেছি কিন্তু এখানে কাজ করে অনেক ভালো লাগছে। মালিক পক্ষের লোকজন অনেক ভালো ব্যবহার করে।

কথা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান, কাজের মান নিয়ে যদি কিছু বলতে হয় তবে বলবো সব থেকে ভালো কাজ আমাদের এখানে হচ্ছে। সরকার টাকা দিচ্ছে আমরা সরকারের সর্বোচ্চ উন্নয়নের অংশীদার মাত্র। নদী এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ সেটা যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সেই লক্ষে আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েম স্যার সকলে কাজের প্রতি অনেক সচেতন। তারা সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন।পাশাপাশি কাজের সর্বোচ্চ মান অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের সাইট ভিজিটে আসেন।

সচেতনমহল বলছেন, শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত কাতলামারীতে নদীর তীর রক্ষা কাজের জন্য সিসি ব্লক তৈরিতে ভালো মানের মেটা রিয়েল ব্যবহার করা হয়েছে। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা।