ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে যৌথমূলধন দপ্তরে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল

বেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম
  • Update Time : ০৫:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫ Time View

কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে গোপনে একক ক্ষমতা গড়ে তুলেছেন তিনি। নতুন কোম্পানি নিবন্ধন, নাম ছাড়পত্র, শেয়ার ট্রান্সফার, নবায়ন কিংবা কোম্পানি বন্ধের মতো অধিকাংশ ফাইলের গতি নাকি তার ‘অনুমতি ও নির্দেশে’ নির্ধারিত হয়।

কার্যালয়ে সেবা নিতে যাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জাহিদুল ইসলামকে ‘বিশেষ সুবিধা’ না দিলে ফাইলের অগ্রগতি থমকে যায়। দ্রুত কাজ চাইলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

একজন সেবাপ্রার্থী বলেন, “ফাইলের গতির ওপর তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। টাকা দিলে কাজ হয়, না দিলে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।”

২০২১ সালের শেষ দিকে এক নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার তার অজান্তে অন্যর নামে ট্রান্সফার হওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্তের মুখে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তদন্ত শুরুর পর জাহিদুলের আচরণে ‘অস্বাভাবিক পরিবর্তন’ দেখা দেয় এবং তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে খালেক কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডকে কেন্দ্র করে। আট অংশীদারের মধ্যে মাত্র তিনজনের মতামত নিয়ে কোম্পানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন এক অংশীদার। আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর অংশীদারদের অজান্তে একটি ভুয়া সাধারণ সভার নথি তৈরি করা হয় এবং সেখানে তার ও পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়। মামলার নথিতে এসব অনিয়মে জাহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

নথিপত্র যাচাই করে আরও জানা যায়, সরকারি বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা হওয়া সত্ত্বেও জাহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে সন্দেহজনক বিপুল সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে—চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ঢাকার উত্তর মানিকনগরে জমি–বাড়ি, এবং বিভিন্ন সংগঠনে স্বজনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও জাহিদুল ইসলামের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপনিবন্ধক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “খালেক কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড সংক্রান্ত মামলা আদালতে প্রক্রিয়াধীন। পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়েও প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই চলছে।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি সেবা যেখানে সহজ ও স্বচ্ছ হওয়ার কথা, সেখানে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর ক্ষমতার অপব্যবহারে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের ভাষায়, “সরকারি অফিসে যদি এভাবে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকে, তবে উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে?”

Please Share This Post in Your Social Media

চট্টগ্রামে যৌথমূলধন দপ্তরে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল

বেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম
Update Time : ০৫:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মো. জাহিদুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে গোপনে একক ক্ষমতা গড়ে তুলেছেন তিনি। নতুন কোম্পানি নিবন্ধন, নাম ছাড়পত্র, শেয়ার ট্রান্সফার, নবায়ন কিংবা কোম্পানি বন্ধের মতো অধিকাংশ ফাইলের গতি নাকি তার ‘অনুমতি ও নির্দেশে’ নির্ধারিত হয়।

কার্যালয়ে সেবা নিতে যাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জাহিদুল ইসলামকে ‘বিশেষ সুবিধা’ না দিলে ফাইলের অগ্রগতি থমকে যায়। দ্রুত কাজ চাইলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

একজন সেবাপ্রার্থী বলেন, “ফাইলের গতির ওপর তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। টাকা দিলে কাজ হয়, না দিলে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়।”

২০২১ সালের শেষ দিকে এক নারী উদ্যোক্তার মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার তার অজান্তে অন্যর নামে ট্রান্সফার হওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্তের মুখে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তদন্ত শুরুর পর জাহিদুলের আচরণে ‘অস্বাভাবিক পরিবর্তন’ দেখা দেয় এবং তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে খালেক কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডকে কেন্দ্র করে। আট অংশীদারের মধ্যে মাত্র তিনজনের মতামত নিয়ে কোম্পানি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন এক অংশীদার। আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর অংশীদারদের অজান্তে একটি ভুয়া সাধারণ সভার নথি তৈরি করা হয় এবং সেখানে তার ও পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়। মামলার নথিতে এসব অনিয়মে জাহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

নথিপত্র যাচাই করে আরও জানা যায়, সরকারি বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা হওয়া সত্ত্বেও জাহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে সন্দেহজনক বিপুল সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে—চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ঢাকার উত্তর মানিকনগরে জমি–বাড়ি, এবং বিভিন্ন সংগঠনে স্বজনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও জাহিদুল ইসলামের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপনিবন্ধক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “খালেক কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড সংক্রান্ত মামলা আদালতে প্রক্রিয়াধীন। পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়েও প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই চলছে।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি সেবা যেখানে সহজ ও স্বচ্ছ হওয়ার কথা, সেখানে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর ক্ষমতার অপব্যবহারে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের ভাষায়, “সরকারি অফিসে যদি এভাবে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকে, তবে উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে?”