পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি

- Update Time : ১২:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ৪৪ Time View
বার্থ অপারেটর এবং ভ্যাসেল অপারেটরদের মধ্যে পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিরোধের জেরে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতিতে চলছে। ফলে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ছয়টি জেটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আর কাজের গতি কমে যাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকালও। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমদানি পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের বাজারে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
তাছাড়া রফতানিপণ্য যথাসময়ে জাহাজীকরণ না হওয়ায় রফতানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে। তাতে বিদেশে চট্টগ্রাম বন্দর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আর অলস বসে থাকায় জাহাজগুলোকে দিনে গুণতে হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার লোকসান। চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের ৬টি জেটিতে কন্টেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। ৬টি বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান ওসব জেটিতে বার্থিং নেয়া জাহাজের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে। প্রতিটি বার্থে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে দু’ভাগে কাজ হয়ে থাকে। শিপিং এজেন্টদের পক্ষ থেকে কন্টেইনার হুক পয়েন্ট থেকে জাহাজে ওঠানো-নামানোর (অনবোট হ্যান্ডলিং) কাজ করা হয়। আর বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে হুক পয়েন্ট থেকে ইয়ার্ড পর্যন্ত কাজ করা হয়। অনবোট হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি বার্থ অপারেটরের কর্মচারীরা কার্গো শিপমেন্ট, ইমপোর্ট বা এক্সপোর্ট পারশিমন, ডিপো থেকে কন্টেইনার কল, ভারী পণ্য বোঝাই কন্টেইনার আগে জাহাজীকরণসহ বেশ কিছু বাড়তি কাজও করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মে অনবোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চলে আসছে। বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে অনবোট হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মাশুল পরিশোধ করে শিপিং এজেন্ট বা ভ্যাসেল অপারেটর। আর হুক পয়েন্ট থেকে ইয়ার্ডে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাশুল পরিশোধ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। দুটি মাশুলই নির্ধারিত।
সূত্র জানায়, বার্থ অপারেটরদের বিগত ২০০৭ সালে যে দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিলো ওই দরেই তাদেরকে এখনো কাজ করতে হচ্ছে। গত ১৮ বছরে বহুমুখী খরচ বাড়লেও অনবোট হ্যান্ডলিংয়ে বার্থ অপারেটরদের মাশুল বাড়েনি। তাতে প্রতিটি বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠানই আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈঠকও করে। কিন্তু নানাভাবে চেষ্টা করেও মাশুল বাড়ানো কার্যকর হয়নি। বার্থ অপারেটর্স, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর্স এন্ড টার্মিনাল ওনার্স এসোসিয়েশন বহুদিন ধরে মাশুল বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসলেও কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। তারা কন্টেইনার প্রতি ৫ ডলার বাড়ানোর দাবি করেছে। মূলত ওই দাবিতেই চলতি মাসের শুরু থেকে কোন রকম ঘোষণা ছাড়াই বন্দরে কাজে ধীরগতি শুরু করে তারা।
সূত্র আরো জানায়, বন্দরের সক্ষমতা অতীতের যে কোনো সময়ে তুলনায় বেড়েছে। কমেছে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল। গত বছর নানা সঙ্কটের মধ্যেও দেশের এই প্রধান সমুদ্র বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রের্কড অতিক্রম করেছে। বন্দরকে পুরোদমে সচল রাখতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য আমদানি স্বাভাবিক রাখতে বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওই সময়ে এমন পরিস্থিতি দেশের সার্বিক আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, ধীরে চলো নীতির কারণে দেশের সার্বিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাতে বিদেশে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যথাসময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং না হওয়ায় আমদানি রফতানি ব্যয় বাড়ছে। তাতে ভোক্তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে একটি কন্টেইনারের অনবোট হ্যান্ডলিং চার্জ ৫৬০ টাকার মতো। আর এখন ৫ ডলার অর্থাৎ ৬২৫ টাকা বাড়াতে দাবি করা হচ্ছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়