ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
বিচারিক সংস্কার এখন নিজেই “সংস্কার” শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে: প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ  মায়ের সাথে গোসলে নেমে পুকুরে ডুবে ২সন্তানের মৃত্যু আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই: সারজিস আলম বিয়ে বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান নোয়াখালীতে জমজ ২ দুই বোনকে ধর্ষণ কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার

মরক্কোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৮০০ ছাড়িয়ে গেল

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৩৭ Time View

ছয় দশকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এক ভূমিকম্পে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।

শুক্রবার গভীর রাতে মরক্কোর হাই এটলাস পর্বতমালায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূমিকম্পের হালনাগাদ তথ্যে বলেছে, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৮২০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬৭২ জন।

স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভূমিকম্পে পার্বত্য অঞ্চলে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এসব এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর মারাখেসের আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়িতে না গিয়ে খোলা জায়গায় রাত কাটিয়েছেন।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত দেশটির পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী মারাখেস শহরের ভবনগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারাখেসের প্রাণকেন্দ্র জেমা আল-ফনা স্কয়ারের একটি মসজিদের মিনার ধসে গেছে। দেশটির উদ্ধারকারী কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছেন।

শহরটির বাসিন্দা মিলোদ স্ক্রউত বলেছেন, সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। তবে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে আহতদের শতাধিক স্বজন মারাখেসের স্থানীয় একটি হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন। মারাখেসের হাসপাতালে ভর্তি আহতদের বেশিরভাগই শহরের বাইরের পার্বত্য অঞ্চল থেকে এসেছেন। স্থানীয় হাসপাতালে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকায় তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির ঐতহ্যবাহী মারাখেস শহরের বাসিন্দা জাওহারি মোহাম্মদ লোকজন ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কীভাবে মরিয়া হলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেই দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কারণে আমি এখনও বাড়িতে ঘুমাতে পারি নাই। পুরোনো শহরটির বাড়িঘরগুলো অনেক পুরোনো।

তিনি বলেন, এখানে যদি একটি ঘর পড়ে যায়, তাহলে সেটির কারণে আরেকটিও পড়ে যাবে।

মরক্কোর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তারৌদন্তের কাছের একটি এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক হামিদ আফকার। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। কয়েকবার আফটারশকও অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হামিদ বলেন, প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে ভূমিকম্পটি স্থায়ী ছিল। আমি দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসার সাথে সাথেই দরজা নিজেই খুলে গেল এবং বন্ধ হয়ে গেল।

দেশটির ভূমিকম্প কেন্দ্র বলেছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার পর হাই এটলাসের ইঘিল এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, ১৯৬০ সালের পর শুক্রবার এই ভূমিকম্প দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ওই বছর দেশটিতে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

মরক্কোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৮০০ ছাড়িয়ে গেল

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ছয় দশকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এক ভূমিকম্পে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।

শুক্রবার গভীর রাতে মরক্কোর হাই এটলাস পর্বতমালায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূমিকম্পের হালনাগাদ তথ্যে বলেছে, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৮২০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬৭২ জন।

স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভূমিকম্পে পার্বত্য অঞ্চলে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এসব এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর মারাখেসের আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়িতে না গিয়ে খোলা জায়গায় রাত কাটিয়েছেন।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত দেশটির পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী মারাখেস শহরের ভবনগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারাখেসের প্রাণকেন্দ্র জেমা আল-ফনা স্কয়ারের একটি মসজিদের মিনার ধসে গেছে। দেশটির উদ্ধারকারী কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছেন।

শহরটির বাসিন্দা মিলোদ স্ক্রউত বলেছেন, সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। তবে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে আহতদের শতাধিক স্বজন মারাখেসের স্থানীয় একটি হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন। মারাখেসের হাসপাতালে ভর্তি আহতদের বেশিরভাগই শহরের বাইরের পার্বত্য অঞ্চল থেকে এসেছেন। স্থানীয় হাসপাতালে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকায় তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির ঐতহ্যবাহী মারাখেস শহরের বাসিন্দা জাওহারি মোহাম্মদ লোকজন ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কীভাবে মরিয়া হলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সেই দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কারণে আমি এখনও বাড়িতে ঘুমাতে পারি নাই। পুরোনো শহরটির বাড়িঘরগুলো অনেক পুরোনো।

তিনি বলেন, এখানে যদি একটি ঘর পড়ে যায়, তাহলে সেটির কারণে আরেকটিও পড়ে যাবে।

মরক্কোর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তারৌদন্তের কাছের একটি এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক হামিদ আফকার। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। কয়েকবার আফটারশকও অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হামিদ বলেন, প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে ভূমিকম্পটি স্থায়ী ছিল। আমি দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসার সাথে সাথেই দরজা নিজেই খুলে গেল এবং বন্ধ হয়ে গেল।

দেশটির ভূমিকম্প কেন্দ্র বলেছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার পর হাই এটলাসের ইঘিল এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, ১৯৬০ সালের পর শুক্রবার এই ভূমিকম্প দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ওই বছর দেশটিতে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।