ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অস্ট্রেলিয়া

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরাচ্ছে মেটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৮৭ Time View

প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস এবং ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।

সিডনি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

দেশটিতে প্রথমবারের মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

অস্ট্রেলিয়া আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে টিকটক ও ইউটিউবসহ প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।

আইন মানতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোকে ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে।

মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী সব ব্যবহারকারীকে সরিয়ে ফেলার জন্য কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এটি একবারে শেষ হওয়ার মতো প্রক্রিয়া নয়; এটি বহু-স্তরের এবং চলমান একটি কাজ।’

কোম্পানিটি জানায়, কম বয়সী ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের অনলাইন হিস্ট্রি সেভ বা ডাউনলোড করে রাখতে পারবে। ১৬ বছরে পৌঁছানোর আগেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তারা আবার প্রবেশাধিকার পাবে এবং তাদের সব কনটেন্ট যেভাবে রেখে যাবে সেভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞায় কয়েক লাখ কিশোর-কিশোরী প্রভাবিত হবে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ব্যবহারকারী রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোবলক্স, পিন্টারেস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ ও ওয়েবসাইটকে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকাটি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, তারা আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব অ্যাপ স্টোরগুলোর ওপর দেওয়া উচিত।

কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, ‘১৬ বছরের নিচে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করতে চাইলে সরকারের উচিত অ্যাপ স্টোরগুলোকে বয়স যাচাই করতে এবং বাবা-মায়ের সম্মতি নিতে বাধ্য করা। এতে কিশোরদের বারবার বিভিন্ন অ্যাপে বয়স যাচাইয়ের ঝামেলায় পড়তে হবে না। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো নিশ্চিত হতে পারবে, কোন ব্যবহারকারী কোন বয়সের।’

অস্ট্রেলীয় যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস এই সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন ইন্টারনেটের সব ঝুঁকি দূর করবে না। তবে এটি শিশুদের নিজেদের আরও ভালো সংস্করণ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর হয় কি না তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

এদিকে, মালয়েশিয়াও আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

অস্ট্রেলিয়া

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরাচ্ছে মেটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৫:৫৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস এবং ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।

সিডনি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

দেশটিতে প্রথমবারের মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

অস্ট্রেলিয়া আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে টিকটক ও ইউটিউবসহ প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।

আইন মানতে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোকে ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে।

মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী সব ব্যবহারকারীকে সরিয়ে ফেলার জন্য কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এটি একবারে শেষ হওয়ার মতো প্রক্রিয়া নয়; এটি বহু-স্তরের এবং চলমান একটি কাজ।’

কোম্পানিটি জানায়, কম বয়সী ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের অনলাইন হিস্ট্রি সেভ বা ডাউনলোড করে রাখতে পারবে। ১৬ বছরে পৌঁছানোর আগেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তারা আবার প্রবেশাধিকার পাবে এবং তাদের সব কনটেন্ট যেভাবে রেখে যাবে সেভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞায় কয়েক লাখ কিশোর-কিশোরী প্রভাবিত হবে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ব্যবহারকারী রয়েছে বলে জানা গেছে।

রোবলক্স, পিন্টারেস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ ও ওয়েবসাইটকে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকাটি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, তারা আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব অ্যাপ স্টোরগুলোর ওপর দেওয়া উচিত।

কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, ‘১৬ বছরের নিচে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করতে চাইলে সরকারের উচিত অ্যাপ স্টোরগুলোকে বয়স যাচাই করতে এবং বাবা-মায়ের সম্মতি নিতে বাধ্য করা। এতে কিশোরদের বারবার বিভিন্ন অ্যাপে বয়স যাচাইয়ের ঝামেলায় পড়তে হবে না। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো নিশ্চিত হতে পারবে, কোন ব্যবহারকারী কোন বয়সের।’

অস্ট্রেলীয় যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস এই সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, এই আইন ইন্টারনেটের সব ঝুঁকি দূর করবে না। তবে এটি শিশুদের নিজেদের আরও ভালো সংস্করণ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর হয় কি না তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

এদিকে, মালয়েশিয়াও আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে।