সেপটিক ট্যাংক থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

- Update Time : ১২:১৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৯ Time View
মুন্সীগঞ্জ শহরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তিন নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচাবাজারস্থ খালইস্ট এলাকার আফতাবউদ্দিন কমপ্লেক্স সংলগ্ন সবুজ কাজীর বিল্ডিংয়ের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রথমে সেপটিক ট্যাংকে একজন পড়ে যাওয়ার পর একে অপরকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনজনই সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় দমবন্ধ হয়ে নিহত হন।
নিহতরা হলেন— পঞ্চগড় জেলার বিবিগঞ্জ উপজেলার প্রামানিকপাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে শাহিন ইসলাম (১৮), বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার টেলিহাটা গ্রামের ইব্রাহিম (৪৫) ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধানগড়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ (১৯)। তারা মুন্সীগঞ্জ শহরে ভাড়া বাড়িতে থেকে শ্রমিকের কাজ করতেন। নিহত ফিরোজ তুলশিঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্র। গত এক বছর ধরে মুন্সীগঞ্জে আসা-যাওয়া করে শ্রমিকের কাজ করে বাবাকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন।
স্থানীয়রা বুঝতে পেরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। দেড়ঘণ্টা চেষ্টার পর মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিকেল ৫টার দিকে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ৩ নির্মাণ শ্রমিককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
মুন্সীগঞ্জের সাইড কন্ট্রাক্টর মো. মাসুম জানান, গত ২৫ দিন আগে খালইস্ট এলাকার সবুজ কাজী বিল্ডিংয়ে নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকে ঢালাই করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢালাইয়ের ঢাকনা খুলেই সাইড কন্ট্রাক্টর হাসানের অধীনের ৩ শ্রমিক ঢালাইয়ের ঢাকনা খুলেন। এ সময় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে ইব্রাহিম নিচে নেমে গ্যাসের গন্ধে অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ফিরোজ তাকে উদ্ধারে গেলে সেও সোপটিক ট্যাংকের নিচে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের ২ জনকে উদ্ধারে শাহীন চেষ্টা করলে তিনিও সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যান।
সাইড কন্ট্রাক্টর মাসুম আরও জানান, সেপটিক ট্যাংক ঢালাইয়ের পর তার ঢাকনা খুলে পরিষ্কারের জন্য অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ঢাকনা খুলেই সরাসরি সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারে নেমে পড়ায় ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকে তারা অচেতন হয়ে নিহত হয়েছেন।
নিহত ফিরোজের বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি দুর্ঘনাস্থলের পাশের আরেকটি বিল্ডিংয়ে কাজ করছিলেন। কাজের পাশাপাশি তার ছেলে পড়াশুনাও করতো। সেপটিক ট্যাংক থেকে ছেলেকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েও ছেলেকে জীবিত দেখতে পেয়েছেন। উদ্ধার কাজ বিলম্ব হওয়ায় তার ছেলেকে বাঁচানো যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহত শাহীনের চাচা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তারা চাচা-ভাতিজা মুন্সীগঞ্জে শ্রমিকের কাজ করতেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম কালবেলাকে বলেন, সেপটিক ট্যাংকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়