সিলেট-ছাতক রেলপথের সংস্কার কাজ চলছে ধীরগতিতে

- Update Time : ০৯:৫১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৪৫ Time View
দীর্ঘ বিরতির পর সিলেট-ছাতক রেলপথে আবারো ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নিয়ছে বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকার। তাই ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ১৮ মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাজ ধীর গতিতে চলছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। সংস্কার কাজ শেষ হলে মানুষের পদচারণায় মুখরিত হবে স্টেশনগুলো। বাড়বে স্টেশনে ব্যস্ততা । যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ফিরবে প্রাণ।
সিলেট-ছাতক রেলপথের সংস্কার কাজ চলায় এ অঞ্চলের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
সরেজমিন রেলপথের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ও লামাকাজী ইউনিয়ন অংশে গিয়ে দেখা যায় ধীর গতিতে চলছে সংস্কার কাজ। অপসারণ করা হচ্ছে পুরনো রেললাইন ও স্লিপার। শ্রমিকরা জানান, ইতোমধ্যেই ছাতক থেকে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন অংশ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার পুরনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছাতক বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছিলো ১৯৫৪ সালে। তখন সিলেট বিভাগের মধ্যে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক অঞ্চল। যে কারণে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পণ্য পরিবহনের জন্য সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেলপথটি স্থাপন করা হয়। গত করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে এ রুটে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এরমধ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১২ কিলোমিটার রেলপথ। তখন কার্যত পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে এই পথ। পরে আওয়ামীলীগ সরকার এ রেলপথ নিয়ে বড় প্রকল্প হাতে নেয়। পরে অন্তবর্তী কালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহন করে। তারপর চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় সিলেট-ছাতক সেকশনের ক্ষতিগ্রস্ত মিটার গেজ সংস্কারের অনুমোদন করা হয়। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা যায়, বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার সেকশন (মিটার গেজ ট্র্যাক) পুনর্বাসন প্রকল্পের ডবি্ল উডি-১ প্যাকেজের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান করা হলে ৪টি দরপত্র জমা পড়ে। ৪টি দরপত্রই টেকনিক্যালি রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। প্রকল্পটি একনেক থেকে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই প্রকল্পের ব্যয়ের ৮০ শতাংশ ইউএস ডলার এবং ২০ শতাংশ বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করা হবে। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট থেকে ছাতকবাজার পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রেললাইনের এম ব্যাংকমেন্ট ও রেলপথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথটি পুনর্বাসন করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
ব্রিটিশ আমল থেকে শিল্পশহর হিসেবে ছাতকের খ্যাতি। সে সময় সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হয়েছিল বাণিজ্যিক কারণে। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা শহর (তৎকালীন মহকুমা) পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা ছিল। এ রেলপথ সংস্কার কাজে মোট ব্যয় হবে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। ১৮ মাসের মধ্যে যে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, ‘৩৪ কিলো মিটারের সিলেট-ছাতক রেলপথের ১৮ কিলোমিটার অংশের পুরনো রেললাইন ইতোমধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম জানান, সিলেট- ছাতক রেলপথের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলেই এ পথে আবারো যাত্রা করবে ট্রেন। আশা করছি, ১৮ মাসের মধ্যেই পুরো সংস্কার কাজটি সম্পন্ন করতে পারব। ’
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়