সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ট্রেন চলাচল!

- Update Time : ০২:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৭৪ Time View
রানিং অ্যালাউন্সসহ মূল বেতন যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা প্রদানের জটিলতা নিরসন না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। ফলে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রানিং স্টাফদের দাবির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, একজন রানিং স্টাফ (চালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট চেকার) দায়িত্ব পালনের পর হেডকোয়ার্টারে ১২ ঘণ্টা এবং আউটার স্টেশনে ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। তবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের স্বার্থে বিশ্রামের সময় তাদের কাজে যুক্ত করা হলে মাইলেজ নামে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হয়।
২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় মাইলেজ সুবিধা সীমিত করার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী, আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বাতিল করে মাসিক সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবস সমপরিমাণ মাইলেজ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া রানিং স্টাফদের পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধায় মাইলেজ ভাতা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রানিং স্টাফদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফরা। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল কর্মবিরতির কারণে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল মাইলেজ বিষয়ে আপত্তি প্রত্যাহার করে। একই বছরের জুন মাসে তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা নিয়ে আপত্তি তোলে।
রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু এবার আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হচ্ছি। ২৮ জানুয়ারি প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আমরা ট্রেন চালানো বন্ধ রাখব।”
সমিতি জানিয়েছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ২ হাজার ৩৬ জন রানিং স্টাফ থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩৬ জন। ফলে একজন স্টাফকে দুই জনের কাজ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রানিং স্টাফদের দাবি মানা না হলে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, আমরা রানিং স্টাফদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করছি, তারা কর্মসূচি থেকে সরে আসবে।
সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলো হলো-
মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদান: রানিং স্টাফরা দীর্ঘদিন ধরে মাইলেজ অ্যালাউন্সের ভিত্তিতে পেনশন পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
নতুন নিয়োগপত্রের বৈষম্যমূলক শর্ত বাতিল: নিয়োগপত্রে আরোপিত ১২ ও ১৩ নম্বর শর্তগুলোর মাধ্যমে নতুন কর্মীদের রানিং অ্যালাউন্সে কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা তারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, রেলওয়ের রানিং স্টাফদের বেতন, পেনশন ও আনুতোষিক কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের একতরফা সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেদের দুর্নীতি ও অর্থ অপচয় ঢাকতে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
রানিং স্টাফরা সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে এবং কোনো জাতীয় ছুটি বা সাপ্তাহিক বন্ধ পায় না। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক সংকটকালীন সময়ে ট্রেন চলাচল সচল থাকে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে যে, তাদের দাবিগুলো পূরণের জন্য তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তিনবার আলোচনা করেছে। তবে কোনো সমাধান না আসায় তারা চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, তাদের দাবিগুলো পূরণ করা না হলে ২৭ জানুয়ারির পর থেকে রানিং স্টাফরা কর্মবিরতি পালন করবে এবং ২৮ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বারী, সহসভাপতি খুরশিদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর এ বি এম শফিকুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায়, কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।