ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে অন্য কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা আব্বাস

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৪০ Time View

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সরকার পতনের আগে ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছিলেন। সেখানে অনেকেই বক্তব্য বলেছেন, শেখ হাসিনার মরলেও নাকি তার সঙ্গে আছে। অনেকে আবার বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। সেই বক্তব্য দেওয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এখনো ভাঙা হয়নি। তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যতদিন আপনারা সেই সবার বক্তব্য শুনে, তাদের সিন্ডিকেট না ভাঙবেন, তাদের গ্রেপ্তার না করবেন, ততদিন এই দ্রব্যমূল্য কমবে না।

এই নারায়ণগঞ্জে অনেক কুলাঙ্গার আছে, যারা এখন ঘরে বসে আছে। আর ভারত থেকে নির্দেশ আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে। ওরা বলে নির্বাচনের কথা, যারা বলে তারা নাকি জাতির শত্রু। শেখ হাসিনা ১৫ বছর ছিলেন, আপনারাও থাকেন, দেখেন পারেন কিনা। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে চায়।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা কোনো ভাইকে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে দেখতে চাই না। সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অন্য কোনো নির্বাচন নয়। ১৭ বছর রাজপথে লড়াই করেছি। আমাদের পাঁচ হাজার নেতা জীবন দিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে। মামলা খেয়েছি। এটা স্থানীয় নির্বাচনে জন্য নয়, এটা সংসদ নির্বাচনে জন্য। যারা স্থানীয় নির্বাচনে কথা বলছে তাদের উদ্দেশ্য দুরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রমূলক। কোনো পরিস্থিতিতে দেশের মঙ্গলের জন্য এটা আপনারা চান না।

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। পত্র-পত্রিকা পড়লে সেটা আপনারা বুঝে যাবেন। স্থানীয় সংসদ নির্বাচন হলে এক দলের অনেক সুবিধা হয়। কারণ গ্রামে পা ফেলার জায়গা নেই। গ্রামে অনেকের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে পায়ের তলায় মাটি তৈরি করতে চাইছে। আমরা স্থানীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এতো লড়াই করিনি। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছি। যখন স্থানীয় সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন হবে তখন হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, ওরা বলে নির্বাচনের কথা যারা বলে তারা নাকি জাতির শত্রু। তাহলে বলে দেন, বাংলাদেশে আর নির্বাচনে প্রয়োজন নেই। যেমন করে শেখ হাসিনা বিগত ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সেভাবে আপনিও থাকেন। দেখেন এভাবে থাকতে পারেন কিনা। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ লড়াই করেছে, আন্দোলন করেছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা অপেক্ষা করব নির্বাচন পর্যন্ত। কিন্তু আজীবন অপেক্ষা করব না। আজীবন আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। সব ষড়যন্ত্রকে আমরা মোকাবিলা করব।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেন, নির্বাচন যারা চায় তারা এ দেশের মঙ্গল চায় না। আমি তাদের বলতে চাই, এ ১৭ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন। যারা ধরেই নিয়েছেন ভোট হলে বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে, তাহলে তো এর কারণও আপনারা জানেন। কারণ হলো, বিএনপি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দল। এ দলের জনপ্রিয়তাকে ধ্বংস করার জন্য এক শ্রেণির লোক মাঠে নেমেছে। তারা বিএনপির সুনাম ধ্বংস করতে চায়। অপকর্ম করছে আরেকজন নাম হচ্ছে বিএনপির।

বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিডিআর যারা বেঁচে আছেন ও বিনা অপরাধে যারা জেলে আছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ওই দিন তাদের হত্যা করেছিল একদল প্রশিক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক একটি বাহিনীর লোক। যারা এ দেশে থাকে না, যারা এ দেশের লোক না। বিদেশ থেকে এসে আমার দেশের ৫৭ সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। এই সেনা হত্যার বিচার আজও হলো না। যাদের বিচার হচ্ছে, যাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং যাদের বিচার হয়েছে তারা সবাই নির্দোষ। তারা কেউ দোষী নয়। জেলের ভেতরে তাদের কান্না দেখে আমরা আমাদের চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি। আর যারা এখন জেলে আছে তাদের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা শুনতে চাই না। তারা দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর জেলে পচে মরছে। এ সরকার তাদের কেন ছাড়ছে না তা আমি জানি না। আমার দাবি, যারা এ ঘটনায় জেলে আছে তাদের জেলের গেট অবিলম্বে খুলে দিয়ে বিনা বিচারে মুক্ত করা হোক। তাদের কোনো সাজার প্রয়োজন নেই। তাদের যথেষ্ট সাজা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যারা আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেন, তাদের এই চাওয়া উদ্দেশ্যমূলক। তাদের এই উদ্দেশ্য ষড়যন্ত্রমূলক। দেশে এখন অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আর এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য। গ্রামেগঞ্জে অনেকের পায়ের তলার মাটি নেই, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে তারা পায়ের তলার মাটি করতে চাচ্ছে। আমরা আন্দোলন লড়াই করেছি গণতন্ত্র ও সংসদ নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য লড়াই করিনি। ঘোড়ার আগে গাড়িতে উঠতে হয় না।

মির্জা আব্বাস বলেন, এখন অপকর্ম যেই করুক না কেন, নাম হচ্ছে বিএনপির। বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে কিছু দল বা মানুষ হিংসা করে বিএনপিকে দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। বিএনপি ভারতীয় তাবেদারি করে না। বিএনপি নির্দোষ দল না, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর মধ্যে একজন খারাপ হতে পারে। কিন্তু তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা আমাদের তথ্য দিন, যদি কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে আমি মির্জা আব্বাস কথা দিচ্ছি, সে বিএনপিতে থাকতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের সময় আমি এই নারায়ণগঞ্জে মিটিং করতে এসেছিলাম। আমার নেতাকর্মীরা অনেক ভয়ে হলেও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বসার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আজ কোনো ভয় ছাড়াই এই লাখো মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। প্রথমে আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে, পরে জাতির মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে।

৭১ সালে আমরা অনেক কষ্ট করে স্বাধীন করেছি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, স্বাধীন হয়েছি ৭১-এ। আমরা বাংলাদেশকে পরপর ২ বার স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। প্রথমে এরশাদ, পরে শেখ হাসিনাকে পতন করিয়েছি। কেউ ২য় স্বাধীনতা বলবেন না। এতে স্বাধীনতাকে ও সেই শহীদদের ছোট করা হয়, আপনারা স্বৈরাচারের পতন বলবেন।

জনসভায় তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা মিথ্যা মামলায় এখনও জেলে পচে মরছে, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হোক। আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে তাদের কারণেই পুলিশ এদেরকে ছাড়তে পারেনি। কিন্তু এ সরকার থাকা অবস্থায় কেন তাদের ছাড়া হচ্ছে না তা আমার জানা নেই। আমি মনে করি, তাদেরকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হোক।

এদেশের মানুষের ঐক্য কখনও কেউ ভাঙতে পারবে না। মানুষ শান্তি চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। কিন্তু যারা এই শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না, তাদের জনগণ ছেড়ে দেবে না।

এই সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল দ্রব্যমূল্য কমানো ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া। এই সরকার আসার সময় আমরাই সমর্থন করেছিলাম। আমরা বলেছি, এ সরকারকে সফল করতে হবে, যদি এ সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে দেশের জনগণ ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আজীবন ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র হয় তাহলে সেই ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেবো।

অনেকেই বলে, যারা নির্বাচন চায় তারা দেশের ভালো চায় না, যারা এগুলো বলেছে তারা এই ১৭ বছর কোথায় ছিল? আমরা নিজেদের জন্য নির্বাচন চাই না। অনেকেই ধরে নিয়েছে, নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তারা ধরে নিয়েছে কারণ তারা বুঝেছে, এই দেশে বিএনপিকে মানুষ চায়।

এ সময় জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব, শরীফ আহমেদ টুটুল, সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে অন্য কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা আব্বাস

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
Update Time : ০৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সরকার পতনের আগে ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছিলেন। সেখানে অনেকেই বক্তব্য বলেছেন, শেখ হাসিনার মরলেও নাকি তার সঙ্গে আছে। অনেকে আবার বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। সেই বক্তব্য দেওয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এখনো ভাঙা হয়নি। তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যতদিন আপনারা সেই সবার বক্তব্য শুনে, তাদের সিন্ডিকেট না ভাঙবেন, তাদের গ্রেপ্তার না করবেন, ততদিন এই দ্রব্যমূল্য কমবে না।

এই নারায়ণগঞ্জে অনেক কুলাঙ্গার আছে, যারা এখন ঘরে বসে আছে। আর ভারত থেকে নির্দেশ আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে। ওরা বলে নির্বাচনের কথা, যারা বলে তারা নাকি জাতির শত্রু। শেখ হাসিনা ১৫ বছর ছিলেন, আপনারাও থাকেন, দেখেন পারেন কিনা। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে চায়।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা কোনো ভাইকে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে দেখতে চাই না। সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অন্য কোনো নির্বাচন নয়। ১৭ বছর রাজপথে লড়াই করেছি। আমাদের পাঁচ হাজার নেতা জীবন দিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে। মামলা খেয়েছি। এটা স্থানীয় নির্বাচনে জন্য নয়, এটা সংসদ নির্বাচনে জন্য। যারা স্থানীয় নির্বাচনে কথা বলছে তাদের উদ্দেশ্য দুরভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রমূলক। কোনো পরিস্থিতিতে দেশের মঙ্গলের জন্য এটা আপনারা চান না।

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। পত্র-পত্রিকা পড়লে সেটা আপনারা বুঝে যাবেন। স্থানীয় সংসদ নির্বাচন হলে এক দলের অনেক সুবিধা হয়। কারণ গ্রামে পা ফেলার জায়গা নেই। গ্রামে অনেকের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে পায়ের তলায় মাটি তৈরি করতে চাইছে। আমরা স্থানীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এতো লড়াই করিনি। আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছি। যখন স্থানীয় সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন হবে তখন হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, ওরা বলে নির্বাচনের কথা যারা বলে তারা নাকি জাতির শত্রু। তাহলে বলে দেন, বাংলাদেশে আর নির্বাচনে প্রয়োজন নেই। যেমন করে শেখ হাসিনা বিগত ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সেভাবে আপনিও থাকেন। দেখেন এভাবে থাকতে পারেন কিনা। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ লড়াই করেছে, আন্দোলন করেছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা অপেক্ষা করব নির্বাচন পর্যন্ত। কিন্তু আজীবন অপেক্ষা করব না। আজীবন আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। সব ষড়যন্ত্রকে আমরা মোকাবিলা করব।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেন, নির্বাচন যারা চায় তারা এ দেশের মঙ্গল চায় না। আমি তাদের বলতে চাই, এ ১৭ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন। যারা ধরেই নিয়েছেন ভোট হলে বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসবে, তাহলে তো এর কারণও আপনারা জানেন। কারণ হলো, বিএনপি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দল। এ দলের জনপ্রিয়তাকে ধ্বংস করার জন্য এক শ্রেণির লোক মাঠে নেমেছে। তারা বিএনপির সুনাম ধ্বংস করতে চায়। অপকর্ম করছে আরেকজন নাম হচ্ছে বিএনপির।

বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিডিআর যারা বেঁচে আছেন ও বিনা অপরাধে যারা জেলে আছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ওই দিন তাদের হত্যা করেছিল একদল প্রশিক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক একটি বাহিনীর লোক। যারা এ দেশে থাকে না, যারা এ দেশের লোক না। বিদেশ থেকে এসে আমার দেশের ৫৭ সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। এই সেনা হত্যার বিচার আজও হলো না। যাদের বিচার হচ্ছে, যাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং যাদের বিচার হয়েছে তারা সবাই নির্দোষ। তারা কেউ দোষী নয়। জেলের ভেতরে তাদের কান্না দেখে আমরা আমাদের চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি। আর যারা এখন জেলে আছে তাদের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা শুনতে চাই না। তারা দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর জেলে পচে মরছে। এ সরকার তাদের কেন ছাড়ছে না তা আমি জানি না। আমার দাবি, যারা এ ঘটনায় জেলে আছে তাদের জেলের গেট অবিলম্বে খুলে দিয়ে বিনা বিচারে মুক্ত করা হোক। তাদের কোনো সাজার প্রয়োজন নেই। তাদের যথেষ্ট সাজা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যারা আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেন, তাদের এই চাওয়া উদ্দেশ্যমূলক। তাদের এই উদ্দেশ্য ষড়যন্ত্রমূলক। দেশে এখন অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, আর এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য। গ্রামেগঞ্জে অনেকের পায়ের তলার মাটি নেই, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে তারা পায়ের তলার মাটি করতে চাচ্ছে। আমরা আন্দোলন লড়াই করেছি গণতন্ত্র ও সংসদ নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য লড়াই করিনি। ঘোড়ার আগে গাড়িতে উঠতে হয় না।

মির্জা আব্বাস বলেন, এখন অপকর্ম যেই করুক না কেন, নাম হচ্ছে বিএনপির। বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে কিছু দল বা মানুষ হিংসা করে বিএনপিকে দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। বিএনপি ভারতীয় তাবেদারি করে না। বিএনপি নির্দোষ দল না, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর মধ্যে একজন খারাপ হতে পারে। কিন্তু তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা আমাদের তথ্য দিন, যদি কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে আমি মির্জা আব্বাস কথা দিচ্ছি, সে বিএনপিতে থাকতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের সময় আমি এই নারায়ণগঞ্জে মিটিং করতে এসেছিলাম। আমার নেতাকর্মীরা অনেক ভয়ে হলেও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বসার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আজ কোনো ভয় ছাড়াই এই লাখো মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। প্রথমে আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে, পরে জাতির মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে।

৭১ সালে আমরা অনেক কষ্ট করে স্বাধীন করেছি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, স্বাধীন হয়েছি ৭১-এ। আমরা বাংলাদেশকে পরপর ২ বার স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। প্রথমে এরশাদ, পরে শেখ হাসিনাকে পতন করিয়েছি। কেউ ২য় স্বাধীনতা বলবেন না। এতে স্বাধীনতাকে ও সেই শহীদদের ছোট করা হয়, আপনারা স্বৈরাচারের পতন বলবেন।

জনসভায় তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা মিথ্যা মামলায় এখনও জেলে পচে মরছে, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হোক। আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে তাদের কারণেই পুলিশ এদেরকে ছাড়তে পারেনি। কিন্তু এ সরকার থাকা অবস্থায় কেন তাদের ছাড়া হচ্ছে না তা আমার জানা নেই। আমি মনে করি, তাদেরকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হোক।

এদেশের মানুষের ঐক্য কখনও কেউ ভাঙতে পারবে না। মানুষ শান্তি চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায়। কিন্তু যারা এই শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না, তাদের জনগণ ছেড়ে দেবে না।

এই সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল দ্রব্যমূল্য কমানো ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া। এই সরকার আসার সময় আমরাই সমর্থন করেছিলাম। আমরা বলেছি, এ সরকারকে সফল করতে হবে, যদি এ সরকার ব্যর্থ হয় তাহলে দেশের জনগণ ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আজীবন ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র হয় তাহলে সেই ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেবো।

অনেকেই বলে, যারা নির্বাচন চায় তারা দেশের ভালো চায় না, যারা এগুলো বলেছে তারা এই ১৭ বছর কোথায় ছিল? আমরা নিজেদের জন্য নির্বাচন চাই না। অনেকেই ধরে নিয়েছে, নির্বাচন হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তারা ধরে নিয়েছে কারণ তারা বুঝেছে, এই দেশে বিএনপিকে মানুষ চায়।

এ সময় জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব, শরীফ আহমেদ টুটুল, সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।