ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

যেভাবে গুগল থেকে ২৪০ কোটি ইউরো আদায় করল দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
  • / ৬৯ Time View

গুগলের বিরুদ্ধে মামলায় জিতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায় করে ছাড়লো এক দম্পতি। নিজেদের জনপ্রিয় ব্যবসায়ীক ওয়েবসাইটকে ডাউন করার পেছনে গুগলকে দায়ী করে ইউরোপীয় কমিশনে মামলা করে যুক্তরাজ্যের ওই দম্পতি। বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য গুগল তার স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের ব্যবসায়ে ধস নামায়, এমন গুরুতর অভিযোগ আনা হয় গুগলের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা সেই মামলায় হেরে সেই দম্পতিকে ২৪০ কোটি ইউরো ডলার দিতে বাধ্য হয় গুগল। যুক্তরাজ্যের দম্পতি শিভাউন র‍্যাফ ও তার স্বামী অ্যাডাম ২০০৬ সালের জুনে ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে শপিং কম্পারিজন ওয়েবসাইট ‘ফাউন্ডেম’ চালু করেন। কিছুদিনের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে সেরা শপিং কম্পারিজন ওয়েবসাইটে পরিণত হয় সাইটটি।

শিভাউন র‍্যাফ-অ্যাডাম দম্পতি জানায়, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো সাইবার আক্রমণ, কিন্তু আদতে তা ছিল না। ছিল গুগলের কারসাজি। নিজস্ব শপিং কম্পারিজন সার্ভিস ব্যবহার করে বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য গুগলের স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম ফিল্টার ফাউন্ডেম ওয়েবসাইটকে সার্চ ফলাফলের নিচের দিকে ঠেলে দেয়। এটি এমনভাবে সাইটটির অবস্থান নিচে নামিয়ে দেয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের সাইট খুঁজে পায় না।

তবে গুগল তখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। গুগলের দাবি ছিল, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাদের শপিং পরিষেবাগুলো যেভাবে দেখানো হতো, সেটি তাঁরা এরই মধ্যে সংশোধন করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় বিচারিক আদালত গুগলের আপিল খারিজ করে দেয় এবং ফাউন্ডেমের পক্ষে রায় ঘোষণা করে।

দম্পতিটি বিশ্বাস করেন, গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম এখনো প্রতিযোগিতাবিরোধী রয়ে গেছে এবং ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে তদন্ত করছে। চলতি বছরের মার্চ ইসি নতুন ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা গুগল সার্চ রেজাল্টে এখনো নিজস্ব পণ্য ও সেবা অগ্রাধিকার দিচ্ছে কিনা—তা খতিয়ে দেখছে।

গুগলের এক মুখপাত্র বলেছেন, ২০২৪ সালের আপিলি রায়ে ইউরোপীয় বিচারিক আদালতের (সিজেইইউ) শুধুমাত্র ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আমাদের পণ্য সার্চের ফলাফল বিবেচনা করেছে। অথচ ২০১৭ সালে ইউরোপীয় কমিশনের শপিং সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত মেনে আমরা অ্যালগরিদমে পরিবর্তন এনেছি। গত সাত বছর ধরে সেটি সফলভাবে কাজ করে আসছে, যা ৮০০-রও বেশি ‘কমপারিজন শপিং সাইটে’ কোটি কোটি ক্লিক এনে দিয়েছে। এ কারণেই আমরা ফাউন্ডেমের আনা দাবির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে বিরোধিতা করছি এবং এটি অব্যাহত রাখব।

দম্পতিটি গুগলের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের দাবিতে আরেকটি মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শুরু হওয়ার কথা। তবে এই মামলায় চূড়ান্ত বিজয় এলেও তা তাঁদের জন্য হয়তো বড় ধরনের সাফল্য হবে না কারণ ২০১৬ সালেই তাঁরা ফাউন্ডেম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই মামলা তাঁদের জন্য এটি এক কঠিন লড়াই। দীর্ঘদিন কোর্ট-কাছারি ঘুরে এখন ক্লান্ত অ্যাডাম। তিনি ক্লান্তির স্বরে বলেন, যদি আমরা জানতাম যে, এত দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলবে, তাহলে হয়তো আমরা এই আইনি লড়াইয়ে যেতাম না।

নওরোজ/এসএইচ

Please Share This Post in Your Social Media

যেভাবে গুগল থেকে ২৪০ কোটি ইউরো আদায় করল দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৮:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

গুগলের বিরুদ্ধে মামলায় জিতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায় করে ছাড়লো এক দম্পতি। নিজেদের জনপ্রিয় ব্যবসায়ীক ওয়েবসাইটকে ডাউন করার পেছনে গুগলকে দায়ী করে ইউরোপীয় কমিশনে মামলা করে যুক্তরাজ্যের ওই দম্পতি। বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য গুগল তার স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের ব্যবসায়ে ধস নামায়, এমন গুরুতর অভিযোগ আনা হয় গুগলের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা সেই মামলায় হেরে সেই দম্পতিকে ২৪০ কোটি ইউরো ডলার দিতে বাধ্য হয় গুগল। যুক্তরাজ্যের দম্পতি শিভাউন র‍্যাফ ও তার স্বামী অ্যাডাম ২০০৬ সালের জুনে ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে শপিং কম্পারিজন ওয়েবসাইট ‘ফাউন্ডেম’ চালু করেন। কিছুদিনের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে সেরা শপিং কম্পারিজন ওয়েবসাইটে পরিণত হয় সাইটটি।

শিভাউন র‍্যাফ-অ্যাডাম দম্পতি জানায়, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো সাইবার আক্রমণ, কিন্তু আদতে তা ছিল না। ছিল গুগলের কারসাজি। নিজস্ব শপিং কম্পারিজন সার্ভিস ব্যবহার করে বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য গুগলের স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম ফিল্টার ফাউন্ডেম ওয়েবসাইটকে সার্চ ফলাফলের নিচের দিকে ঠেলে দেয়। এটি এমনভাবে সাইটটির অবস্থান নিচে নামিয়ে দেয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের সাইট খুঁজে পায় না।

তবে গুগল তখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। গুগলের দাবি ছিল, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাদের শপিং পরিষেবাগুলো যেভাবে দেখানো হতো, সেটি তাঁরা এরই মধ্যে সংশোধন করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় বিচারিক আদালত গুগলের আপিল খারিজ করে দেয় এবং ফাউন্ডেমের পক্ষে রায় ঘোষণা করে।

দম্পতিটি বিশ্বাস করেন, গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম এখনো প্রতিযোগিতাবিরোধী রয়ে গেছে এবং ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে তদন্ত করছে। চলতি বছরের মার্চ ইসি নতুন ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা গুগল সার্চ রেজাল্টে এখনো নিজস্ব পণ্য ও সেবা অগ্রাধিকার দিচ্ছে কিনা—তা খতিয়ে দেখছে।

গুগলের এক মুখপাত্র বলেছেন, ২০২৪ সালের আপিলি রায়ে ইউরোপীয় বিচারিক আদালতের (সিজেইইউ) শুধুমাত্র ২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আমাদের পণ্য সার্চের ফলাফল বিবেচনা করেছে। অথচ ২০১৭ সালে ইউরোপীয় কমিশনের শপিং সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত মেনে আমরা অ্যালগরিদমে পরিবর্তন এনেছি। গত সাত বছর ধরে সেটি সফলভাবে কাজ করে আসছে, যা ৮০০-রও বেশি ‘কমপারিজন শপিং সাইটে’ কোটি কোটি ক্লিক এনে দিয়েছে। এ কারণেই আমরা ফাউন্ডেমের আনা দাবির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে বিরোধিতা করছি এবং এটি অব্যাহত রাখব।

দম্পতিটি গুগলের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের দাবিতে আরেকটি মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শুরু হওয়ার কথা। তবে এই মামলায় চূড়ান্ত বিজয় এলেও তা তাঁদের জন্য হয়তো বড় ধরনের সাফল্য হবে না কারণ ২০১৬ সালেই তাঁরা ফাউন্ডেম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই মামলা তাঁদের জন্য এটি এক কঠিন লড়াই। দীর্ঘদিন কোর্ট-কাছারি ঘুরে এখন ক্লান্ত অ্যাডাম। তিনি ক্লান্তির স্বরে বলেন, যদি আমরা জানতাম যে, এত দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলবে, তাহলে হয়তো আমরা এই আইনি লড়াইয়ে যেতাম না।

নওরোজ/এসএইচ