ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপ উদ্বোধনী টিকিট দিবেন ফুটবলপ্রেমী কিশোরীকে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯০ Time View

ফুটবল কেবল খেলাই নয়, এটি স্বপ্ন দেখার মাধ্যম। সেই স্বপ্নকে আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছেন মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য তার হাতে থাকা প্রথম টিকিট (নম্বর ০০০০১) তিনি দান করবেন এমন এক কিশোরীকে, যিনি ফুটবল ভালোবাসেন কিন্তু টিকিট কেনার সামর্থ্য রাখেন না।

মেক্সিকো সিটিতে সোমবার এই ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট শেইনবাম, বিশ্বকাপ আয়োজন পরিকল্পনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, “আমি চাই এমন এক কিশোরী বা তরুণী উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে পাবে, যিনি ফুটবলকে ভালোবাসেন কিন্তু ভাবেননি কখনো এমন বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।”

উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে, যার ধারণক্ষমতা ৮৩ হাজার দর্শক। এটি মেক্সিকোর ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজন, পূর্বে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে একই স্টেডিয়ামে এই গৌরব অর্জন হয়েছিল।

আগস্টে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সফরের সময় থেকেই শেইনবাম ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নিজের প্রিমিয়াম আসন ছেড়ে দেবেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পায়। প্রেসিডেন্ট জানান, টিকিটটি কাকে দেওয়া হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি, তবে এটি এমন এক মেয়েকে দেওয়া হবে, যিনি ফুটবল স্বপ্ন দেখতে চায় এবং বিশ্বাস করতে পারবে যে খেলায় মেয়েরাও ইতিহাস বদলে দিতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। মেক্সিকোতে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে পাঁচটি মেক্সিকো সিটিতে, বাকি আটটি গুয়াদালাহারা ও মনতেরে শহরে। উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও মেক্সিকো দল দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ১৮ জুন গুয়াদালাহারায় এবং তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে।

শেইনবাম আরও জানান, বিশ্বকাপের আগে দেশের সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুইটি টার্মিনাল সংস্কার, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং রাজধানী থেকে ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর পর্যন্ত ৩০ মাইল দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণ।

প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্বকাপ শুধুই খেলা নয়, এটি হবে দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এক উৎসব। আমি চাই, সেই উৎসবের প্রথম হাসি ফুটে উঠুক এক কিশোরীর চোখে।”

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও নারী ক্ষমতায়নের এই প্রতীকী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই মেক্সিকো জুড়ে প্রশংসা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টিকিটটি শুধু একজন কিশোরীকে আনন্দ দেবে না, বরং নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

শেইনবামের এই পদক্ষেপ ফুটবল প্রেমী কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে স্বপ্ন দেখার, উদ্যমী হওয়ার এবং নারী ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু খেলার মঞ্চ নয়, এটি হবে নতুন প্রজন্মের জন্য সাহস ও আশা তৈরি করার এক উৎসব।

Please Share This Post in Your Social Media

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপ উদ্বোধনী টিকিট দিবেন ফুটবলপ্রেমী কিশোরীকে

স্পোর্টস ডেস্ক
Update Time : ১২:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

ফুটবল কেবল খেলাই নয়, এটি স্বপ্ন দেখার মাধ্যম। সেই স্বপ্নকে আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছেন মেক্সিকোর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য তার হাতে থাকা প্রথম টিকিট (নম্বর ০০০০১) তিনি দান করবেন এমন এক কিশোরীকে, যিনি ফুটবল ভালোবাসেন কিন্তু টিকিট কেনার সামর্থ্য রাখেন না।

মেক্সিকো সিটিতে সোমবার এই ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট শেইনবাম, বিশ্বকাপ আয়োজন পরিকল্পনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন, “আমি চাই এমন এক কিশোরী বা তরুণী উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে পাবে, যিনি ফুটবলকে ভালোবাসেন কিন্তু ভাবেননি কখনো এমন বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।”

উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে, যার ধারণক্ষমতা ৮৩ হাজার দর্শক। এটি মেক্সিকোর ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজন, পূর্বে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে একই স্টেডিয়ামে এই গৌরব অর্জন হয়েছিল।

আগস্টে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সফরের সময় থেকেই শেইনবাম ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নিজের প্রিমিয়াম আসন ছেড়ে দেবেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পায়। প্রেসিডেন্ট জানান, টিকিটটি কাকে দেওয়া হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি, তবে এটি এমন এক মেয়েকে দেওয়া হবে, যিনি ফুটবল স্বপ্ন দেখতে চায় এবং বিশ্বাস করতে পারবে যে খেলায় মেয়েরাও ইতিহাস বদলে দিতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। মেক্সিকোতে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে পাঁচটি মেক্সিকো সিটিতে, বাকি আটটি গুয়াদালাহারা ও মনতেরে শহরে। উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও মেক্সিকো দল দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ১৮ জুন গুয়াদালাহারায় এবং তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ২১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে।

শেইনবাম আরও জানান, বিশ্বকাপের আগে দেশের সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুইটি টার্মিনাল সংস্কার, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং রাজধানী থেকে ফেলিপে অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর পর্যন্ত ৩০ মাইল দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণ।

প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্বকাপ শুধুই খেলা নয়, এটি হবে দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এক উৎসব। আমি চাই, সেই উৎসবের প্রথম হাসি ফুটে উঠুক এক কিশোরীর চোখে।”

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও নারী ক্ষমতায়নের এই প্রতীকী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই মেক্সিকো জুড়ে প্রশংসা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টিকিটটি শুধু একজন কিশোরীকে আনন্দ দেবে না, বরং নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।

শেইনবামের এই পদক্ষেপ ফুটবল প্রেমী কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে স্বপ্ন দেখার, উদ্যমী হওয়ার এবং নারী ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু খেলার মঞ্চ নয়, এটি হবে নতুন প্রজন্মের জন্য সাহস ও আশা তৈরি করার এক উৎসব।