মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে কেকেআরকে নির্দেশ
- Update Time : ০৩:২৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩০ Time View
মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া।
ভারতের এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের নিয়মিত প্রতিনিধি মুস্তাফিজ। এই টুর্নামেন্টে এবার তার নবম মৌসুম হওয়ার কথা।
গত মাসে নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে এই বাঁহাতি পেসারকে দলে নেয় কলকাতা। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে যা আইপিএলে রেকর্ড পারিশ্রমিক। গত কিছুদিন ধরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর উঠে আসছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস নানা ঘটনার পর ভারতে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। মুস্তাফিজের আইপিলে খেলতে দেওয়া নিয়েও নানা বিতর্ক চলছিল।
এর মধ্যেই ভারতীয় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত। কলকাতা দল চাইলে মুস্তাফিজের বদলি নিতে পারবে বলেও জানালেন বোর্ডের সচিব।
“সাম্প্রতিক সময় যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেসবের কারণেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বিসিসিআই নির্দেশ দিয়েছে তাদের ক্রিকেটারদের একজন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে। বিসিসিআই এটাও জানিয়েছে যে, তারা যদি বদলি হিসেবে কোনো ক্রিকেটারকে নিতে চায়, তাদেরকে সেই সুযোগ দেবে বোর্ড।”
আরেক বার্তা সংস্থা পিটিআইকে সাইকিয়া বলেন, “বাংলাদেশে একজন হিন্দুকে হত্যা করা এবং সেখানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের শঙ্কার প্রেক্ষিতে বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছিল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে।”
২০২৪ সালে ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে, সেটির প্রভাব ক্রিকেটে পড়েছে প্রবলভাবেই। গত বছর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতীয় দলের। সেই সিরিজ পরে পিছিয়ে যায়। এই বছরের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে সিরিজটি হওয়ার কথা। এবার মুস্তাফিজকে নিয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই।
আইপিএলে বাংলাদেশ থেকে শুধু মৃস্তাফিজই দল পেয়েছিলেন। তাসকিন আহমেদের নাম নিলামে উঠলেও আগ্রহী হয়নি কোনো দল। সাকিব আল হাসানসহ আরও বেশ কজনের নাম নিলামের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়নি। গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএলের নিলামে বেশ কাড়াকাড়ি ছিল মুস্তাফিজকে নিয়ে।
বাংলাদেশের পেসারকে পেতে তুমুল লড়াই হয় চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের। গত বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অসাধারণ বোলিং করা ক্রিকেটারকে দলে পেয়ে কলকাতা ম্যানেজমেন্ট ছিল উচ্ছ্বসিত।
কিন্তু মুস্তাফিজের খেলা নিয়ে গত কিছুদিনে নানা বিতর্কের খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছিল। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে। হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনা ও বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের নানা অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু অংশ, ধর্মীয় কিছু সংগঠন ও ধর্মীয় গুরুদের কয়েকজন প্রশ্ন তুলছিলেন মুস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে। কিছু সংগঠন ও নেতাদের কেউ কেউ হুমকিও দিয়েছেন ভারতীয় বোর্ড ও কলকাতা ম্যানেজমেন্টকে।
বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচি সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, “আইপিএলের কোনো দলে যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার রাখা হয় এবং কলকাতায় ম্যাচ খেলতে চায়, আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে আমরা শাহরুখ খানকেও (কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্ণধারদের একজন) কলকাতায় ঢুকতে দেব না। মুস্তাফিজুর রহমানের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এখান থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিয়ে যাবে, আবার ওখানে আমাদের হিন্দু ভাইদের জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মারবে বাংলাদেশিরা। দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না।”
আরেক বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম আগেই ‘গাদ্দার’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছেন কলকাতা ম্যানেজমেন্ট ও শাহরুখ খানকে। আধ্যাত্মিক গুরু দেবকিনান্দান ঠাকুর কলকাতা দল ও শাহরুখের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন মুস্তাফিজকে সরিয়ে দিতে।
মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান শিব সেনা নেতা সাঞ্জায় নিরুপাম। কংগ্রেস নেতা সুপ্রিয়া শ্রিনাতে প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলের নিলামে রাখা হলো কেন। এমনকি অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের প্রধান ইমাম উমার আহমেদ ইলিয়াসিও কলকাতার সমালোচনা করে ক্ষমা চাইতে বলেন শাহরুখকে। সেসবের ধারাবাহিকতায় ভারতীয় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত এলো।
মুস্তাফিজ আইপিএল খেলছেন ২০১৬ সাল থেকে। অভিষেক আসরেই দারুণ বোলিং করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি সাতের কম রান দিয়ে ১৭ উইকেট নিয়ে সেরা ইমার্জিং ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছিলেন। এই পুরস্কারজয়ী একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার এখনও তিনিই। সব মিলিয়ে ৫ দলের হয়ে আইপিএলে ৬০ ম্যাচ খেলে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরে আইপিএলের সেই প্রথম আসরের পর থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদেরকে আর নেওয়া হয় না এই টুর্নামেন্টে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজও বন্ধ আছে এক যুগের বেশি সময় ধরে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আগামী মাসে বাংলাদেশ দলের যাওয়ার কথা ভারতে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটিই কলকাতায়, আরেকটি মুম্বাইয়ে।
পাকিস্তান বিশ্বকাপে নিজেদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়















































































































