ভারতকে বুঝতে হবে, এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়: আসিফ নজরুল

- Update Time : ০৩:৪১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ৩৭ Time View
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনকে নিরাপত্তা দিতে ভারত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ভারত সরকারের এই ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতকে বুঝতে হবে, এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। প্রতিবাদের পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমানাধিকার ভিত্তিক বন্ধুত্ব বাংলাদেশ চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
আসিফ নজরুল লিখেছেন, ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ভারতীয়রা। এ ঘটনা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকারকে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকিমিশনকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ভারতীয় সরকারের বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন আসিফ নজরুল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা (ভারতীয় সরকার) এটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার নিন্দা জানান তিনি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন আইন উপদেষ্টা। বলেন, নিন্দা জানাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার মন্তব্যের। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যা ঘটে, সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর, এর জন্য বরং উলটো ভারতের (এবং মমতার) লজ্জিত হওয়া উচিত।
ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকার তোষণ নীতি অবলম্বন করে চলত বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন আসিফ নজরুল। বলেছেন, এখন যে বাংলাদেশ আগের সেও বাংলাদেশ নেই, এটি এখন ভারতকে অনুধাবন করতে হবে।
ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ভারতকে বলি, আমরা সমমর্যাদা আর সমানাধিকারভিত্তিক বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার সরকার বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার লোভে ভারত-তোষণ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। তবে ভারতকে বুঝতে হবে, এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্নমর্যাদাশীল। এই বাংলাদেশ নির্ভীক একটি তরুণ সম্প্রদায়ের।
নওরোজ/এসএইচ