সিরামিক ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য উপদেষ্টা
ব্যবসায়ীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সরকার মানতে বাধ্য
- Update Time : ০৭:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ৮ Time View
দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, শুধু অভিযোগ নয়, বরং যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসুন। সরকার আপনাদের সহায়ক। আপনাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা (সরকার) বাধ্য। তবে সেটি হতে হবে ন্যায়সংগত ও মানসম্পন্ন শিল্প-আচরণের ভিত্তিতে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
বক্তব্যে রপ্তানি খাত হিসেবে সিরামিক শিল্পের সম্ভবনা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) এই মেলার আয়োজন করে। মেলা চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। সিরামিক এক্সপোতে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ থেকে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান ও ৩০০ ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের ৫০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ক্রেতা অংশ নিয়েছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনীতি প্রমাণ করেছে অতীতের মতো ‘সংযোগনির্ভর ব্যবসা’ আর চলবে না। সময় এখন দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রযুক্তির। পোশাক খাত মাত্র এক যুগে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হলেও সিরামিক খাত কেন পারছে না এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিরামিক কেন সেই অবস্থায় যেতে পারছে না? কারণ আমাদের খরচ-প্রতিযোগিতা, ডিজাইন নবায়ন, লজিস্টিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানে যেতে হবে।
পোশাক খাত মাত্র এক যুগে বড় রফতানিখাতে পরিণত হলেও সিরামিক খাত কেন পারছে না এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিরামিক কেন সেই অবস্থায় যেতে পারছে না? কারণ আমাদের এখনো টেকসই খরচ-প্রতিযোগিতা, ডিজাইন নবায়ন, লজিস্টিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের এগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানে যেতে হবে। চলুন একসাথে উদ্ভাবন করি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
সিরামিক খাতে গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গ্যাস সঙ্কট নিয়ে আমরা অনেক বিতর্ক শুনি। কিন্তু বাস্তবে সরকার যে এ সঙ্কট মোকাবেলায় সফল হয়েছে, তা আমরা স্বীকার করতে চাই না। এখানে উপস্থিত আমাদের সম্মানিত সভাপতি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন গ্যাস সঙ্কটে ভুগেছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখন পরিস্থিতি কেমন? তিনি বলেন, আগের মতো আর সমস্যা নেই। অর্থাৎ আমরা যে উন্নতি দেখছি, তা হঠাৎ করে ঘটেনি। এটি এসেছে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে। তাই এ সাফল্য আমরা স্বীকৃতি না দিলে সমস্যার সমাধানও সম্ভব হবে না।
বিসিএমইএর প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম বলেন, দেশে ইতোমধ্যেই সিরামিক টেবিলওয়্যার, টাইলস্ ও স্যানিটারিওয়্যারের ৭০টিরও অধিক শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রয়ের পরিমাণ বার্ষিক প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। গত দশ বছরে সিরামিক খাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও অধিক দেশে সিরামিক পণ্য রফতানি করে বছরে আয় প্রায় পাঁচশত কোটি টাকা। এ খাতে রফতানি আয় বাড়ছে। বাড়ছে বিনিয়োগও। এ শিল্পে বড় উৎপাদনকারী দেশ চীন ও ভারতসহ অনেক দেশ বিনেয়োগে আগ্রহী। এ শিল্পে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগ রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পঁাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।
ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিসিএমইএর জেনারেল সেক্রেটারি ইরফান উদ্দীন বলেন, উন্নত গুণগতমান ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি সিরামিক পণ্যের কদর বাড়ছে। শুধু তাই নয়, একই সাথে নতুন নতুন বাজারও সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫ দেশের চতুর্থ ও এশিয়ার সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। সিরামিক প্রস্তুতকারক, রফতানিকারক এবং সরবরাহকারীরা এ এক্সপোতে তাদের নতুন পণ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিজেদের দক্ষতা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। এ এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় সিরামিক পণ্য বাজারজাতকরণের পাশাপাশি তা ব্যবহারেও সচেতনতা বাড়ানো হবে।
চার দিনব্যাপী এ প্রর্দশনী দর্শনার্থী ও ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবার জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। মেলার প্রিন্সিপাল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে শেলটেক সিরামিকস্, প্লাটিনাম স্পন্সরস হিসেবে থাকছে ডিবিএল সিরামিকস্, আকিজ সিরামিকস্ ও মেঘনা সিরামিক। এ ছাড়াও গোল্ড স্পন্সরস হিসেবে থাকছে মীর সিরামিক, আবুল খায়ের সিরামিক, এইচএলটি ডিএলটি এবং সাকমি।
সিরামিক এক্সপোতে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ থেকে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান ও ৩০০ ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া মেলায় এ খাতের ৫০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ক্রেতা অংশ নিচ্ছে। সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫ দেশের চতুর্থ ও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
সিরামিক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ইতিমধ্যে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতের ৭০টির বেশি কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব পণ্যের স্থানীয় বাজার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার। গত ১০ বছরে এ শিল্পে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। বর্তমানে ৫০টির বেশি দেশে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ শিল্প খাতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের।
বিসিএমইএ সভাপতি মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তেনিও আলেসান্দ্রো। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং মেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিএমইএ সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
উদ্বোধন শেষ বাণিজ্য উপদেষ্টা সিরামিক এক্সপোতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টল পরিদর্শন করেন। জানা গেছে, বসুন্ধরার আইসিসিবিতে শুরু হওয়া মেলা চলবে চার দিনব্যপী। শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়






































































































































































































