ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৯:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৪ Time View

জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

ব্রাজিল, মিশর, প্যালেস্টাইন, নেপাল ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ-সমর্থনমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিকে তিনি ‘বিচার কূটনীতির নতুন অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি সংস্কারমুখী বিচার বিভাগকে সমর্থন করার জন্য রূপান্তরমুখী বার অপরিহার্য। সারা বিশ্বের আইন পেশায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। একটি আধুনিক, কার্যকর ও গণমুখী বিচারব্যবস্থা গড়তে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং নৈতিক সক্ষমতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইনজীবীদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) প্রোগ্রাম এবং বার কাউন্সিলের ডিজিটাল বিএলডির উদ্বোধন উপলক্ষে বার কাউন্সিল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সুপরিকল্পিত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের জন্য আইনজীবীদেরও প্রস্তুত হতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন, সারাদেশের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও বিভাগীয় আদালতে চালু হওয়া হেল্পলাইন সার্ভিস, পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হওয়া হাইকোর্টের দুটি পেপার-ফ্রি বেঞ্চ, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা, দ্রুত মামলা প্রসেসিং সিস্টেম চালুকরণ এবং পেপার-ফ্রি পারিবারিক আদালতের মতো উদ্যোগ বা সংস্কার বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে।

ডিজিটাল বিএলডি প্ল্যাটফর্মকে বিচার বিভাগের ডিজিটাল উন্নয়ন অভিযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রশিক্ষণ তদারকি, দক্ষতার মানদণ্ড নির্ণয় এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। একটি তথ্যসমৃদ্ধ বার কাউন্সিল আইন পেশার স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনজীবীদের সিপিডি কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য। আইনজীবীরা নিয়মিতভাবে তাদের জ্ঞানকে হালনাগাদ করলে যুক্তি উপস্থাপন উন্নত হয়, বিচারপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়, আদালতের সময় বাঁচে। আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিচার বিলম্ব কমে। একজন সুশিক্ষিত আইনজীবী কেবল মক্কেলেরই সম্পদ নন, বরং তিনি একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থারও অন্যতম স্তম্ভ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার। বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলী এবং ব্যারিস্টার এহসান হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

Please Share This Post in Your Social Media

বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
Update Time : ০৯:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

ব্রাজিল, মিশর, প্যালেস্টাইন, নেপাল ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব এবং প্রশিক্ষণ-সমর্থনমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিকে তিনি ‘বিচার কূটনীতির নতুন অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি সংস্কারমুখী বিচার বিভাগকে সমর্থন করার জন্য রূপান্তরমুখী বার অপরিহার্য। সারা বিশ্বের আইন পেশায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। জাতীয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিচার বিভাগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। একটি আধুনিক, কার্যকর ও গণমুখী বিচারব্যবস্থা গড়তে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং নৈতিক সক্ষমতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইনজীবীদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) প্রোগ্রাম এবং বার কাউন্সিলের ডিজিটাল বিএলডির উদ্বোধন উপলক্ষে বার কাউন্সিল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সুপরিকল্পিত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল রূপান্তর, তথ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের জন্য আইনজীবীদেরও প্রস্তুত হতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন, সারাদেশের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও বিভাগীয় আদালতে চালু হওয়া হেল্পলাইন সার্ভিস, পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হওয়া হাইকোর্টের দুটি পেপার-ফ্রি বেঞ্চ, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা, দ্রুত মামলা প্রসেসিং সিস্টেম চালুকরণ এবং পেপার-ফ্রি পারিবারিক আদালতের মতো উদ্যোগ বা সংস্কার বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে।

ডিজিটাল বিএলডি প্ল্যাটফর্মকে বিচার বিভাগের ডিজিটাল উন্নয়ন অভিযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রশিক্ষণ তদারকি, দক্ষতার মানদণ্ড নির্ণয় এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। একটি তথ্যসমৃদ্ধ বার কাউন্সিল আইন পেশার স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনজীবীদের সিপিডি কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অপরিহার্য। আইনজীবীরা নিয়মিতভাবে তাদের জ্ঞানকে হালনাগাদ করলে যুক্তি উপস্থাপন উন্নত হয়, বিচারপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়, আদালতের সময় বাঁচে। আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিচার বিলম্ব কমে। একজন সুশিক্ষিত আইনজীবী কেবল মক্কেলেরই সম্পদ নন, বরং তিনি একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থারও অন্যতম স্তম্ভ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ও বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার। বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলী এবং ব্যারিস্টার এহসান হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।