ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার লোহাগাড়া সড়ক দূর্ঘটনা ট্রাজেডি: মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হল আরও ৩জন লোহাগাড়ায় থামছেইনা মহাসড়কের মৃত্যুর মিছিল, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫ আহত ৯ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রংপুরে ১২০ পরিবারে ঈদ পালন লঞ্চ থেকে আবর্জনা নদীতে ফেললে নেয়া হবে ব্যবস্থা রংপুরে প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে আটটায় বরগুনায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন ভাই নিহত
মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ

বিএডিসির বিতর্কিত যুগ্মপরিচালক শওকত আলীকে অবশেষে বদলি

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
  • Update Time : ০৭:৩২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ১৩৪ Time View

অবশেষে বদলি করা হয়েছে,বিএডিসি-দিনাজপুর অঞ্চলের বিতর্কিত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলী’কে। সার কেলেঙ্কারি,ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ কর্মক্ষেত্রে ঘুষের টাকা নিয়ে দরকষাকষি,বাথরুমে গোপন কক্ষ তৈরি’র একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। এনিয়ে তুলকালাম সৃষ্টি হয় কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় কৃষি ভবনে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলীকে কারণ দর্শানো হয়।

সার কেলেঙ্কারি ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকে কাছে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে বিএডিসি’র সার গুদাম এবং ডিলারদের দোকানগুলো নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রের মাধ্যমে মনিটরিং এর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এতে দিকভ্রম হয়ে পড়েন,বিএডিসি’র অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলী। তিনি প্রথমে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা,সাংবাদিক এবং
হোমরা চোমরা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক শাহ্ আলম শাহীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু,এতেও কোন কাজ না হওয়ায় কথিত সন্ত্রাসী-মাস্তানদের দিয়ে প্রতিবেদক শাহ্ আলম শাহীকে অপদস্থ ও নাজেহাল করার অপচেষ্টা করে।

এতেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তথাকথিত সাংবাদিকের মাধ্যমে একটি স্থানীয় ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ করে।

পরে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা দিয়ে প্রতিবেদককে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আর প্রকাশের জন্য হুশিয়ারি দেয় । মিডিয়ায় এ রিপোর্ট প্রকাশের পর বেশকিছু মিডিয়া নড়ে নড়ে বসে।

এতে চাকুরি বাঁচাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্ত মোহা.শওকত আলী। দৌঁড়ঝাপ শুরু করে সর্বমহলে। রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের দু’জন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে।

কিন্তু,এতেও কোন কাজ হয়নি শওকত আলীর।অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে তাকে বদলির অফিস আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিএডিসি’র সচিব ড.কে.এম.মামুন উজ্জামান স্বাক্ষরিত (নম্বর: ১২.০৬.০০০০.২০৩.১৯.০০১.২৩.৪৩১১) অফিস আদেশে অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা. শওকত আলীকে বিএডিসি-রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্মপরিচালক (বীবি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবং তার স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্মপরিচালক (বীবি) মো.ফজলে রব।

বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো.রুহুল আমিন খান ওমরা পালনে দেশের বাইরে অবস্থান করায় বদলি বিলম্বিত হয়েছে,সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে। সূত্রটি মতে,তিনি দেশে ফিরেই বদলির এই আদেশ কার্যকর করেছেন।

প্রসঙ্গত: যুগ্মপরিচালক মোহা. শওকত আলী দিনাজপুর অঞ্চলে যোগদানের পর থেকেই বিএডিসি’র সার নিয়ে শুরু হয় তুঘলকি। সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ে কৃষক। চাষিরা ফসল চাষাবাদে নিয়ে দু:চিন্তায় পড়ে। অধিক মূল্য দিয়েও সার সময় মতো না পাওয়ায় চাষাবাদে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়।

ডিলারদের অভিযোগ এপরিস্থিতি জন্য বিএডিসি’র দিনাজপুর অঞ্চলের সার এর দায়িত্বে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক মোহা:শওকত আলী দায়ি। তার অনিয়ম,দূর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্য ছিলো ওপেন সিক্রেট। উৎকোচের টাকা গ্রহণ সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এই কর্মকর্তা সরকারি দপ্তরটিকে আওয়ীলীগের কার্যালয় বানিয়ে রাখে। তার কক্ষের বাথরুমের পাশে গড়ে তুলে গোপন প্রমোদ কক্ষ। খাট-পালং,সোফা রয়েছে সেই কক্ষে। সেখানে নেশা পানসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছিলো বলে অভিযোগ করেছে ডিলারেরা।

সার ডিলার এবং অফিসের নিন্ম পদবী লোকজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত উগ্রতা ও খারাপ আচরণ করে আসছিলেন তিনি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ডিলাররা বিএডিসি’র পূর্ববর্তী ও বর্তমান চেয়ারম্যানকে পৃথকভাবে দুইটি অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু,এতে কোন প্রতিকার পায়নি তারা। বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন,যুগ্ম পরিচালক মোহা: শওকত আলী। তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, যা ইচ্ছে,তাই করেন। ডিলারদের সার সরবরাহে আরো অনিয়ম ও দূর্নীতি বেড়ে যায়। ইচ্ছে করেই ডিলারদের হয়রানী করেন,এমন অভিযোগ অনেকের।

২ নভেম্বর দিনাজপুরে সফরে আসা বিএডিসি’র চেয়ারম্যান রুহুল আমিন খানের হাতে দেয়া ডিলারদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে,ডিলারদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে উৎকোচ নিচ্ছেন তিনি। ডিও,ডেলিভারি অর্ডার, চালান সই (সারের ইন ভয়েস),গুদাম বা অবকাঠামো (সীমানাপ্রাচীর) নির্মাণ,ক্রয় থেকে শুরু করে সর্বত্রই তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। ডেলিভারি অর্ডারে স্বাক্ষর করার সময় টাকা না দিলে তার ইচ্ছে মতো দূরবর্তী গুদাম থেকে সার উত্তোলনের বরাদ্দ দিচ্ছেন।

বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ডিলারের কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে তার নিজ মোবাইল নাম্বারে উৎকোচ গ্রহণ করে আসছেন।

সারের গুদাম গুলো থেকে সার সরবরাহের সময় তার নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে যুগ্ম পরিচালক শওকত আলী ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিবস্তা তিউনেশিয়ে টি এসপি সারে ৮০টাকা থেকে ১০০টাকা, চায়না ডিএপি সারে ৬০টাকা থেকে ৮০টাকা এবং কানাডা এমওপি সারে ২০টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। কোন ডিলার নির্ধারিত পরিমাণ টাকা অস্বীকৃতি জানালে তাকে ( ডিলার) সার দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন।

আবার কোন গুদাম রক্ষক উক্ত টাকা ডিলারের কাছ থেকে উত্তোলনে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হয়রানি করে আসছেন। অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস রুমে ধুমপান করে থাকেন শওকত আলী। অফিস চলাকালীন সময়ে তার কথাবার্তা আচার-আচরণ দেখে মনে হয় তিনি নেশা করে এসেছেন। তার নির্দেশনায় ভুয়া বিল ভাউচার ও কোটেশন দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মোট অংকের টাকা।

বিভিন্ন সার গুদামে সার আনলোড করার জন্য লেবার সর্দারের কাছে থেকে জোরপূর্বক উৎকোচ নেন তিনি। উৎকোচ না দেওয়ায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন সার গুদামের সার সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে লেবার সর্দারা উৎকোচ প্রদানে রাজি হয়। ডিলারদের সামনেই নিজ অফিস স্টাফদের অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আসছেন।

চলতি রবি মৌসুমে বিএডিসি -দিনাজপুর অঞ্চলে ৩১ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ করেছে সরকার। এরমধ্যে টিউনেশিয়া-টিএসপি ( কালো) ৫ হাজার ৮৯৮ মে.টন, পটাশ-এমওপি ১০ হাজার ৬৩৫ মে.টন এবং ডেপ-ডিএপি ১৪ হাজার ৬৫৭ মে.টন সার রয়েছে। ১০ টি গুদামে মজুদ এসব সার

এ অঞ্চলের বিএডিসি’র নিয়োগ করা ৩০০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্ত, ডিলাররা সময় মতো সরবরাহ না পাওয়ায় এসব সার কৃষদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেনি। ফলে অধিক মূল্য দিয়েও সময় মতো সার না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারেনি অনেক কৃষক।

Please Share This Post in Your Social Media

মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ

বিএডিসির বিতর্কিত যুগ্মপরিচালক শওকত আলীকে অবশেষে বদলি

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
Update Time : ০৭:৩২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

অবশেষে বদলি করা হয়েছে,বিএডিসি-দিনাজপুর অঞ্চলের বিতর্কিত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলী’কে। সার কেলেঙ্কারি,ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ কর্মক্ষেত্রে ঘুষের টাকা নিয়ে দরকষাকষি,বাথরুমে গোপন কক্ষ তৈরি’র একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। এনিয়ে তুলকালাম সৃষ্টি হয় কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় কৃষি ভবনে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলীকে কারণ দর্শানো হয়।

সার কেলেঙ্কারি ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকে কাছে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে বিএডিসি’র সার গুদাম এবং ডিলারদের দোকানগুলো নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রের মাধ্যমে মনিটরিং এর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এতে দিকভ্রম হয়ে পড়েন,বিএডিসি’র অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা.শওকত আলী। তিনি প্রথমে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা,সাংবাদিক এবং
হোমরা চোমরা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক শাহ্ আলম শাহীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু,এতেও কোন কাজ না হওয়ায় কথিত সন্ত্রাসী-মাস্তানদের দিয়ে প্রতিবেদক শাহ্ আলম শাহীকে অপদস্থ ও নাজেহাল করার অপচেষ্টা করে।

এতেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তথাকথিত সাংবাদিকের মাধ্যমে একটি স্থানীয় ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবাদ সংবাদ প্রকাশ করে।

পরে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা দিয়ে প্রতিবেদককে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আর প্রকাশের জন্য হুশিয়ারি দেয় । মিডিয়ায় এ রিপোর্ট প্রকাশের পর বেশকিছু মিডিয়া নড়ে নড়ে বসে।

এতে চাকুরি বাঁচাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্ত মোহা.শওকত আলী। দৌঁড়ঝাপ শুরু করে সর্বমহলে। রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের দু’জন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে।

কিন্তু,এতেও কোন কাজ হয়নি শওকত আলীর।অবশেষে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে তাকে বদলির অফিস আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিএডিসি’র সচিব ড.কে.এম.মামুন উজ্জামান স্বাক্ষরিত (নম্বর: ১২.০৬.০০০০.২০৩.১৯.০০১.২৩.৪৩১১) অফিস আদেশে অভিযুক্ত যুগ্মপরিচালক মোহা. শওকত আলীকে বিএডিসি-রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্মপরিচালক (বীবি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবং তার স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্মপরিচালক (বীবি) মো.ফজলে রব।

বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো.রুহুল আমিন খান ওমরা পালনে দেশের বাইরে অবস্থান করায় বদলি বিলম্বিত হয়েছে,সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে। সূত্রটি মতে,তিনি দেশে ফিরেই বদলির এই আদেশ কার্যকর করেছেন।

প্রসঙ্গত: যুগ্মপরিচালক মোহা. শওকত আলী দিনাজপুর অঞ্চলে যোগদানের পর থেকেই বিএডিসি’র সার নিয়ে শুরু হয় তুঘলকি। সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়ে কৃষক। চাষিরা ফসল চাষাবাদে নিয়ে দু:চিন্তায় পড়ে। অধিক মূল্য দিয়েও সার সময় মতো না পাওয়ায় চাষাবাদে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়।

ডিলারদের অভিযোগ এপরিস্থিতি জন্য বিএডিসি’র দিনাজপুর অঞ্চলের সার এর দায়িত্বে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক মোহা:শওকত আলী দায়ি। তার অনিয়ম,দূর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্য ছিলো ওপেন সিক্রেট। উৎকোচের টাকা গ্রহণ সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এই কর্মকর্তা সরকারি দপ্তরটিকে আওয়ীলীগের কার্যালয় বানিয়ে রাখে। তার কক্ষের বাথরুমের পাশে গড়ে তুলে গোপন প্রমোদ কক্ষ। খাট-পালং,সোফা রয়েছে সেই কক্ষে। সেখানে নেশা পানসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছিলো বলে অভিযোগ করেছে ডিলারেরা।

সার ডিলার এবং অফিসের নিন্ম পদবী লোকজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত উগ্রতা ও খারাপ আচরণ করে আসছিলেন তিনি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ডিলাররা বিএডিসি’র পূর্ববর্তী ও বর্তমান চেয়ারম্যানকে পৃথকভাবে দুইটি অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু,এতে কোন প্রতিকার পায়নি তারা। বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন,যুগ্ম পরিচালক মোহা: শওকত আলী। তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, যা ইচ্ছে,তাই করেন। ডিলারদের সার সরবরাহে আরো অনিয়ম ও দূর্নীতি বেড়ে যায়। ইচ্ছে করেই ডিলারদের হয়রানী করেন,এমন অভিযোগ অনেকের।

২ নভেম্বর দিনাজপুরে সফরে আসা বিএডিসি’র চেয়ারম্যান রুহুল আমিন খানের হাতে দেয়া ডিলারদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে,ডিলারদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে উৎকোচ নিচ্ছেন তিনি। ডিও,ডেলিভারি অর্ডার, চালান সই (সারের ইন ভয়েস),গুদাম বা অবকাঠামো (সীমানাপ্রাচীর) নির্মাণ,ক্রয় থেকে শুরু করে সর্বত্রই তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। ডেলিভারি অর্ডারে স্বাক্ষর করার সময় টাকা না দিলে তার ইচ্ছে মতো দূরবর্তী গুদাম থেকে সার উত্তোলনের বরাদ্দ দিচ্ছেন।

বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ডিলারের কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে তার নিজ মোবাইল নাম্বারে উৎকোচ গ্রহণ করে আসছেন।

সারের গুদাম গুলো থেকে সার সরবরাহের সময় তার নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে যুগ্ম পরিচালক শওকত আলী ডিলারদের কাছ থেকে প্রতিবস্তা তিউনেশিয়ে টি এসপি সারে ৮০টাকা থেকে ১০০টাকা, চায়না ডিএপি সারে ৬০টাকা থেকে ৮০টাকা এবং কানাডা এমওপি সারে ২০টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। কোন ডিলার নির্ধারিত পরিমাণ টাকা অস্বীকৃতি জানালে তাকে ( ডিলার) সার দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন।

আবার কোন গুদাম রক্ষক উক্ত টাকা ডিলারের কাছ থেকে উত্তোলনে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হয়রানি করে আসছেন। অফিস চলাকালীন সময়ে অফিস রুমে ধুমপান করে থাকেন শওকত আলী। অফিস চলাকালীন সময়ে তার কথাবার্তা আচার-আচরণ দেখে মনে হয় তিনি নেশা করে এসেছেন। তার নির্দেশনায় ভুয়া বিল ভাউচার ও কোটেশন দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে মোট অংকের টাকা।

বিভিন্ন সার গুদামে সার আনলোড করার জন্য লেবার সর্দারের কাছে থেকে জোরপূর্বক উৎকোচ নেন তিনি। উৎকোচ না দেওয়ায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন সার গুদামের সার সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে লেবার সর্দারা উৎকোচ প্রদানে রাজি হয়। ডিলারদের সামনেই নিজ অফিস স্টাফদের অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আসছেন।

চলতি রবি মৌসুমে বিএডিসি -দিনাজপুর অঞ্চলে ৩১ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ করেছে সরকার। এরমধ্যে টিউনেশিয়া-টিএসপি ( কালো) ৫ হাজার ৮৯৮ মে.টন, পটাশ-এমওপি ১০ হাজার ৬৩৫ মে.টন এবং ডেপ-ডিএপি ১৪ হাজার ৬৫৭ মে.টন সার রয়েছে। ১০ টি গুদামে মজুদ এসব সার

এ অঞ্চলের বিএডিসি’র নিয়োগ করা ৩০০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্ত, ডিলাররা সময় মতো সরবরাহ না পাওয়ায় এসব সার কৃষদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেনি। ফলে অধিক মূল্য দিয়েও সময় মতো সার না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারেনি অনেক কৃষক।