বাইডেন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছেন: ল্যাভরভ

- Update Time : ০৭:৫১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
- / ৬৯ Time View
মস্কো এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন চলছে, সেজন্য বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দায়ী করছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, পশ্চিমারা অন্য দেশ থেকে লাভবান হওয়ার বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রুশ সংবাদমাধ্যম তাস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এতে ল্যাভরভ আরো বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে রাশিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতোই রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের ১২০ জন কর্মচারীকে বহিষ্কার করে নতুন প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
এছাড়াও বর্তমান প্রশাসন সার্বিয়ার তেল শিল্প থেকে রাশিয়ার বিনিয়োগ অপসারণের দাবি করে সার্বিয়ার ওপর একটি নোংরা কৌশল চালানোর চেষ্টা করছে।
তবে, এ বিষয়ে রাশিয়া বেলগ্রেডের সঙ্গে জরুরি পরামর্শের অনুরোধ করেছে। খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে একটি আশানুরূপ উত্তর পাওয়া যাবে বলে আশা রুশ মন্ত্রীর।
লাভরভের মতে, বাইডেন ন্যাটোকে শক্তিশালী করার জন্য এবং ইউক্রেনকে সাহায্য করতে ৫০টি দেশের সমর্থন সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ইউক্রেনকে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
তার ফলসরূপ মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ক্ষতি প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে লাভরভ বলেন, এটি ইউক্রেনকে মার্কিন সহায়তার চেয়ে অনেক বেশি।
ট্রাম্পই হলেন প্রথম পশ্চিমা রাজনীতিবিদ যিনি সততার সঙ্গে স্বীকার করেছেন, ন্যাটো অসংখ্য নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার সময় খারাপ চিন্তা থেকে করেছে।
লাভরভ বলেন, ন্যাটো চুক্তি ভঙ্গ করে রাশিয়া এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে একাধিক নথি স্বাক্ষর করেছে এটি প্রথমবার শুধু একজন মার্কিন নেতাই নয়, বরং কোনো পশ্চিমা নেতাও সততার সঙ্গে স্বীকার করলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে রাশিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য রাশিয়া অপেক্ষা করবে।
মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, তিনি সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের আশপাশের পরিস্থিতিতে রাশিয়া উদ্বিগ্ন, ভূমি নিয়ে নয়। অবৈধ এবং অসাংবিধানিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল ইউক্রেনীয় বর্তমান সরকার। অভ্যুত্থানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করায় জনগণকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল তারা।
এরপরই ইউক্রেনীয় সরকার রাশিয়ার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে। তবে বর্তমানে ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত রাশিয়া।