ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় বাদীকে সাজা

চৌধূরী মুনীর হোসেন, বরগুনা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫২৯ Time View

বরগুনার পাথরঘাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রাখতে দ্রুত বিচার আইনে একটি চাঁদাবাজীর মামলা করেন বরগুনার আইনজীবী সহকারী (মহরার) মো: বাদশা মিয়া।কিন্তু বাদী বাদশা মিয়ার দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।

আজ রোববার (৯ নভেম্বর) আদালত এই রায় প্রদান করেন। বাদী বাদশা মিয়া’র উপস্থিতিতে তার দায়ের করা মামলা ও পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন এবং চলমান বিচার কার্যক্রম এজলাসে বাদীর করা সাক্ষীদের সাক্ষ্য মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় বাদী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলাধীন নাচনাপাড়া ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের মৃত হামেজ সিকদার এর ছেলে মোঃ বাদশা মিয়া (৫৮) কে সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়- চলতি বছরের গত ২৯ এপ্রিল মোঃ বাদশা মিয়া মোকাম বরগুনা বিজ্ঞ আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দমন (দ্রত বিচার) ট্রাইব্যুনাল-এ দ্রুত বিচার আইন ২০০০ সংশোধিত ২০১০ এর ৪/৫ অনুযায়ী ওই একই ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডের নাসির হাওলাদার, রিয়াজ, সবুজ, হায়দার মিয়া, বাদল, তিতাস ও কাকচিড়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া গ্রামের মোশারেফ হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সি/আর ৭০/২০২৫ (পাথরঘাটা)।

মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক তদন্তের জন্য পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে দিলে তিনি তদন্তপূর্বক একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন- মামলায় উল্লেখ করা দু’টি তারিখে আসামি কর্তৃক বাদীর স্ত্রী’র নিকট চাঁদা দাবী করা এবং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাদশা’র স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫) বিবাদীদের হাতে জখম হওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর চিকিৎসাপত্রানুযায়ী পিরোজপুর জেলাধীন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ চঞ্চল গোলদার বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে চিকিৎসা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

বাদী উক্ত প্রতিবেদনের অসত্য দাবি করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আজ শুনানির দিন ধার্য করা হয়। শুনানিকালেও মামলাটি মিথ্যা মর্মে আদালতের নিকট স্পস্টরূপে প্রতীয়মান হয়। আদালত মামলাটি খারিজ করেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করায় কেন বাদীকে সাজা প্রদান করা হবেনা সেমর্মে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু বাদী সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে ক্ষমা প্রর্থনা করেন।আদালত অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বিবেচনায় বাদী মোঃ বাদশা মিয়া (৫৮) কে সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

বরগুনায় মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় বাদীকে সাজা

চৌধূরী মুনীর হোসেন, বরগুনা প্রতিনিধি
Update Time : ০৮:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বরগুনার পাথরঘাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রাখতে দ্রুত বিচার আইনে একটি চাঁদাবাজীর মামলা করেন বরগুনার আইনজীবী সহকারী (মহরার) মো: বাদশা মিয়া।কিন্তু বাদী বাদশা মিয়ার দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ।

আজ রোববার (৯ নভেম্বর) আদালত এই রায় প্রদান করেন। বাদী বাদশা মিয়া’র উপস্থিতিতে তার দায়ের করা মামলা ও পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন এবং চলমান বিচার কার্যক্রম এজলাসে বাদীর করা সাক্ষীদের সাক্ষ্য মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় বাদী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলাধীন নাচনাপাড়া ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের মৃত হামেজ সিকদার এর ছেলে মোঃ বাদশা মিয়া (৫৮) কে সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়- চলতি বছরের গত ২৯ এপ্রিল মোঃ বাদশা মিয়া মোকাম বরগুনা বিজ্ঞ আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দমন (দ্রত বিচার) ট্রাইব্যুনাল-এ দ্রুত বিচার আইন ২০০০ সংশোধিত ২০১০ এর ৪/৫ অনুযায়ী ওই একই ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডের নাসির হাওলাদার, রিয়াজ, সবুজ, হায়দার মিয়া, বাদল, তিতাস ও কাকচিড়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া গ্রামের মোশারেফ হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সি/আর ৭০/২০২৫ (পাথরঘাটা)।

মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক তদন্তের জন্য পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে দিলে তিনি তদন্তপূর্বক একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন- মামলায় উল্লেখ করা দু’টি তারিখে আসামি কর্তৃক বাদীর স্ত্রী’র নিকট চাঁদা দাবী করা এবং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাদশা’র স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫) বিবাদীদের হাতে জখম হওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর চিকিৎসাপত্রানুযায়ী পিরোজপুর জেলাধীন মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ চঞ্চল গোলদার বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে চিকিৎসা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

বাদী উক্ত প্রতিবেদনের অসত্য দাবি করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আজ শুনানির দিন ধার্য করা হয়। শুনানিকালেও মামলাটি মিথ্যা মর্মে আদালতের নিকট স্পস্টরূপে প্রতীয়মান হয়। আদালত মামলাটি খারিজ করেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করায় কেন বাদীকে সাজা প্রদান করা হবেনা সেমর্মে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু বাদী সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে ক্ষমা প্রর্থনা করেন।আদালত অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি বিবেচনায় বাদী মোঃ বাদশা মিয়া (৫৮) কে সাত দিনের কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।