ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুটবল নিয়ে আসিফের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
  • Update Time : ০১:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭৩ Time View

দেশের ৬৪ জেলার ক্রিকেট কোচ, সংগঠক ও ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট কনফারেন্স। সেখানে বিসিবি পরিচালক ও সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ফুটবলবিরোধী মন্তব্যে ক্রীড়া অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আসিফ দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুটবলের কারণে ক্রিকেট খেলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ফুটবলারদের জন্য খেলা যাচ্ছে না সারা দেশে। তারা উইকেট ভেঙে ফেলছে, স্টেডিয়াম দখল করে রেখেছে। ফুটবলারদের ব্যবহারও খারাপ।”

তাঁর এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ফুটবল অঙ্গনে বিক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা একে “অপমানজনক” মন্তব্য আখ্যা দিয়ে আসিফ আকবরের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, “তিনি যদি ক্ষমা না চান, তাঁর বিরুদ্ধে বড় অ্যাকশনে যাব। বিসিবিতে চিঠি দিয়ে তাঁকে অপসারণের দাবি জানাব। এমন মন্তব্য আমাদের জন্য মানহানিকর।”

এমিলির অভিযোগ, বিসিবির অন্য কর্মকর্তারাও তখন উপস্থিত থেকে বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “যারা তালি দিয়েছেন, তারাও দায় এড়াতে পারেন না।”

জাতীয় দলের ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু ফেসবুকে লেখেন, “একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে ফুটবল ও ফুটবলারদের নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি—সব খেলাই আমাদের। কোনো খেলাকে ছোট করে দেখা যায় না। আসিফ ভাইকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।”

অন্য ডিফেন্ডার জাহিদ হাসান শান্ত মন্তব্য করেন, “পদ পেয়ে মাথা নষ্ট হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। আপনি ফুটবল-ক্রিকেটের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। ইউরোপের দেশগুলো যদি ক্রিকেট খেলত, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেট কোথায় থাকত ভাবুন।”

জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমিন তাঁর পোস্টে লেখেন, “ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। আসিফ আকবরের মন্তব্য খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী। ফুটবলে শৃঙ্খলা শেখাতে তিনি কে? তাঁর এই বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হওয়া উচিত।”

ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মতে, বাংলাদেশে ফুটবল ও ক্রিকেট—দুটি খেলাই জনগণের আবেগের সঙ্গে জড়িত। এক খেলার উন্নতির জন্য অন্য খেলাকে দায়ী করা বা অপমান করা ‘অপেশাদার আচরণ’।

এক সাবেক কোচ বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম বহুমুখী ব্যবহারের জন্য তৈরি। ফুটবল খেললে উইকেট নষ্ট হচ্ছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

গতকাল ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত “ক্রিকেট কনফারেন্সে” বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, “ফুটবলারেরা মাঠ দখল করে রেখেছে। কুমিল্লা থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলায় একই অবস্থা। এমনকি যেসব জেলায় ফুটবলের কোনো কার্যক্রম নেই, সেখানেও মাঠ দখল করে রেখেছে ফুটবল।”

তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত অনেক ক্রিকেট কর্মকর্তার সমর্থন পায়, তবে পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

ফুটবলারদের দাবি—আসিফ আকবর প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাঁরা বিসিবিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, দুই খেলাই দেশের ক্রীড়ার অংশ—তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিসিবির কোনো কর্মকর্তা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।

Please Share This Post in Your Social Media

ফুটবল নিয়ে আসিফের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
Update Time : ০১:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

দেশের ৬৪ জেলার ক্রিকেট কোচ, সংগঠক ও ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট কনফারেন্স। সেখানে বিসিবি পরিচালক ও সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ফুটবলবিরোধী মন্তব্যে ক্রীড়া অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আসিফ দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুটবলের কারণে ক্রিকেট খেলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ফুটবলারদের জন্য খেলা যাচ্ছে না সারা দেশে। তারা উইকেট ভেঙে ফেলছে, স্টেডিয়াম দখল করে রেখেছে। ফুটবলারদের ব্যবহারও খারাপ।”

তাঁর এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ফুটবল অঙ্গনে বিক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা একে “অপমানজনক” মন্তব্য আখ্যা দিয়ে আসিফ আকবরের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, “তিনি যদি ক্ষমা না চান, তাঁর বিরুদ্ধে বড় অ্যাকশনে যাব। বিসিবিতে চিঠি দিয়ে তাঁকে অপসারণের দাবি জানাব। এমন মন্তব্য আমাদের জন্য মানহানিকর।”

এমিলির অভিযোগ, বিসিবির অন্য কর্মকর্তারাও তখন উপস্থিত থেকে বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “যারা তালি দিয়েছেন, তারাও দায় এড়াতে পারেন না।”

জাতীয় দলের ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু ফেসবুকে লেখেন, “একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে ফুটবল ও ফুটবলারদের নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি—সব খেলাই আমাদের। কোনো খেলাকে ছোট করে দেখা যায় না। আসিফ ভাইকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।”

অন্য ডিফেন্ডার জাহিদ হাসান শান্ত মন্তব্য করেন, “পদ পেয়ে মাথা নষ্ট হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। আপনি ফুটবল-ক্রিকেটের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। ইউরোপের দেশগুলো যদি ক্রিকেট খেলত, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেট কোথায় থাকত ভাবুন।”

জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমিন তাঁর পোস্টে লেখেন, “ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। আসিফ আকবরের মন্তব্য খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী। ফুটবলে শৃঙ্খলা শেখাতে তিনি কে? তাঁর এই বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হওয়া উচিত।”

ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক খেলোয়াড়দের মতে, বাংলাদেশে ফুটবল ও ক্রিকেট—দুটি খেলাই জনগণের আবেগের সঙ্গে জড়িত। এক খেলার উন্নতির জন্য অন্য খেলাকে দায়ী করা বা অপমান করা ‘অপেশাদার আচরণ’।

এক সাবেক কোচ বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম বহুমুখী ব্যবহারের জন্য তৈরি। ফুটবল খেললে উইকেট নষ্ট হচ্ছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

গতকাল ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত “ক্রিকেট কনফারেন্সে” বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, “ফুটবলারেরা মাঠ দখল করে রেখেছে। কুমিল্লা থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলায় একই অবস্থা। এমনকি যেসব জেলায় ফুটবলের কোনো কার্যক্রম নেই, সেখানেও মাঠ দখল করে রেখেছে ফুটবল।”

তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত অনেক ক্রিকেট কর্মকর্তার সমর্থন পায়, তবে পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

ফুটবলারদের দাবি—আসিফ আকবর প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাঁরা বিসিবিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, দুই খেলাই দেশের ক্রীড়ার অংশ—তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিসিবির কোনো কর্মকর্তা এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।