প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত

- Update Time : ১০:১৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪ Time View
‘অধিকাংশ দলের মতামতকে উপেক্ষা করে যদি পুরনো পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তবে তা সংকট সৃষ্টি করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে’- ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের
৩১ আগস্ট (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৪টায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল যমুনায় সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সাবেক এমপি ডা. হামিদুর রহমান আযাদ।
যমুনা থেকে বের হয়ে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং-এ ডা. তাহের বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে করণীয়, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র এবং দেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ সংগ্রাম, রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরিবর্তনের আশা করেছিল। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর মানুষ প্রত্যাশা করেছিল রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সূচনা ঘটিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।
ডা. তাহের জানান, প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, ১. সংস্কার (রিফর্মস) করা, যাতে বারবার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, ২. বিচারকে দৃশ্যমান করা, ৩. বিশ্বমানের আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিশ্রুতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে এবং ৩১ দলের মধ্যে অধিকাংশই গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর দাবি।
তিনি বলেন, ২৫টি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে। আমরা চাই লোয়ার হাউস ও আপার হাউস- দুই স্তরেই পিআর প্রণয়ন করা হোক। পিআর প্রবর্তিত হলে দিনের ভোট রাতে হওয়ার সুযোগ থাকবে না, ভোট ডাকাতি রোধ হবে এবং একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অধিকাংশ দলের মতামত উপেক্ষা করে যদি কয়েকটি দলের চাপে পুরনো পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তবে তা সংকট সৃষ্টি করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।
ডা. তাহের জোর দিয়ে বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন চাই। তবে সে নির্বাচন হতে হবে সকল দলের সম্মতি, অংশগ্রহণ ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে। তবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নুরুল হক নুরুর ওপর হামলার ঘটনা তারই প্রমাণ। দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নায়ক এবং নতুন বাংলাদেশের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতৃত্বের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বড় ধরনের হুমকি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দাবি জানাই অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, যদি নির্বাচন পূর্ব সময়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে নির্বাচনের সময় আরও ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলো, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি। যে সরকার একটি বাসস্ট্যান্ড দখলদারদের উচ্ছেদ করতে পারে না, একটি চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, সে সরকার কীভাবে একটি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। তবুও আমরা বলতে চাই, এখনো সময় আছে। সরকার যদি আন্তরিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং কার্যকর উদ্যোগ নেয়, তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় আশ্বাস দিয়েছেন যে, আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো তিনি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়