পাওনা আদায়ে এস আলমের বাসায় ব্যাংকাররা

- Update Time : ০৬:৫৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ৭৭ Time View
দেশের আলোচিত-সমালোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ৫৭/এ ‘এস আল হাউস’-এর সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ব্যাংকটির চট্টগ্রাম অঞ্চল ও নগরের ১১টি শাখার প্রায় ১০০ কর্মকর্তা।
এদিন বেলা ১১টা থেকে ব্যাংকটির প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি (মহিলা শাখা), জুবিলী রোড, বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, কদমতলীসহ অন্যান্য শাখার কর্মকর্তারা এস আলমের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। এর আগে এ মাসের শুরুতে নগরের আছদগঞ্জ এলাকায় এস আলমের করপোরেট অফিসের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিলেন বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকেরা।
এতে বক্তব্য দেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোস্তফা, আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেইন চৌধুরী, জুবিলী রোড শাখার আনোয়ারুল আলম।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ব্যাংকের কাজ হলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিপোজিট নিয়ে অন্যত্র বিনিয়োগ করা। আর বিনিয়োগের টাকা সময়মতো আদায় করা। যদি বিনিয়োগের টাকা সময়মতো আদায় করতে না পারি, তাহলে যারা ডিপোজিট করেছে তাদের টাকা সময়মতো ফেরত দিতে পারি না। ফলে আমাদের একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংকট সমাধানে আমাদের সবচেয়ে বড় গ্রাহক এস আলম গ্রুপ এবং এই গ্রাহক সংশ্লিষ্ট যে বিনিয়োগগুলো আছে তা আদায়ের জন্য প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।
বিনোয়োগের সময় যাচাই-বাছাই ছাড়া বিনিয়োগ করা প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তখন যাচাই করে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। ম্যানেজার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ ছিল না।
আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেইন চৌধুরী বলেন, ব্যাংক তো ডিপোজিট এবং বিনিয়োগের কাজ করে। আমাদের ডিপোজিটের একটা বড় অংশ আমরা বিনিয়োগ করে ফেলেছি। আমাদের এক্স চেয়ারম্যান স্যারের প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের কাছে আমাদের ব্যাংকের একটা বড় বিনিয়োগ আছে। সেটা আদায়ে আমাদের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এখানে অবস্থান নিয়েছি।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকরা যখন জানতে পেরেছেন তাদের টাকাগুলো সুরক্ষিত নয়, তখন তারা একসঙ্গে এসে ডিপোজিট উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাইছেন। কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা কোনো ব্যাংকের পক্ষে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উদ্যোগ নেওয়ার ফলে কিছু টাকা ফেরত দিতে পেরেছি। তবে বড় অঙ্কের খেলাপিগুলো আদায়ে আমরা এখানে অবস্থান নিয়ে একটি বার্তা দিচ্ছি।
জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আলম বলেন, ডিপোজিটারদের টাকা নিয়ে আমরা বিনিয়োগ করেছি। তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার দায়বদ্ধতার কারণেই আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। ফেরত দেওয়ার দায়বদ্ধতা থেকে অবস্থান নিয়েছি।
এ সময় বক্তারা বলেন, এস আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৪০-৪৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। বকেয়া এই টাকা আদায় না হওয়ায় তারল্য–সংকট দেখা দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, ‘গ্রাহকেরা যখন জানতে পেরেছেন তাঁদের টাকা সুরক্ষিত নয়, তখন তাঁরা তখন একসঙ্গে এসে সঞ্চয় উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাইছেন। কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা কোনো ব্যাংকের পক্ষে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উদ্যোগ নিয়েছে, ফলে আমরা কিছু টাকা ফেরত দিতে পারছি। তবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের টাকা আদায়ে আমরা এখানে অবস্থান নিয়ে একটি বার্তা দিচ্ছি।’
জানা গেছে, ২০০৪ সালে সিকদার গ্রুপ থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ যায় এস আলম গ্রুপের কাছে। এর পর থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম নিজেই। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। সারা দেশে ব্যাংকটির বিনিয়োগ প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এস আলম ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ব্যাংকটির বিনিয়োগ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।