ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
কাপ্তান বাজার মুরগি পট্টি

দুই নেতার ছত্রছায়ায় পিতা-পুত্রের চাঁদাবাজি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:১৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • / ৯৪ Time View

হামিদুর রহমান হামিদ ও আবুল বাশার

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাপ্তান বাজারের মুরগি পট্টিতে চলছে বাপ-বেটার চাঁদাবাজির রাম-রাজত্ব। ব্যবসায়ীরা ফের চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের খপ্পওে পড়ে পর্যুদস্ত। নুর ইসলাম ও তার ছেলে সজিবের নেতৃত্বে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার ও মুরগি পট্টি নিয়ন্ত্রণের ‘কাপ্তানীতে’ ব্যবসায়িরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অতিতে ছিলো আওয়ামী লীগের মনোনিত কাউন্সিলর বর্তমানে বিএনপির দুই নেতার নাম শুনা যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুরগি পট্টির এই চাঁদাবাজির সেল্টার দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুর রহমান হামিদ ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাশার। তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সংম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। আর আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

নুর ইসলাম সম্পর্কে জানতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নুর ইসলাম ভাইয়ের বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। আমরা দিন আনি দিন খাই, হেয় কয় তিনি হলেন হামিদ সাহেব ও বাসার সাহেবের লোক। কিছু কইলে, জানতে পারলে আমগো খবর আছে। এই দিকে মজার বিষয় হচ্ছে মূলত এই নুর ইসলাম আসলে কার লোক? নাকি তিনি সবার। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাশারের সাথেও তার ছিল গভীর সখতা। আর কাপ্তান বাজারও ৩৮নং ওয়ার্ডেই পড়েছে । মুলত এই ২ নেতা হামিদ আর বাশার এর সখ্যতায় মুরগী ব্যবসায়ী নুর ইসলাম এখন কাপ্তান বাজারের নিয়ন্ত্রক। তারই ছেলে সজীব হচ্ছে তার লাঠিয়াল। হোটেল ওসমানী ইন্টারন্যাশনালের সামনে অবৈধ মুরগীর ব্যবসা বন্ধের জন্য ইতিমধ্যেই দরখাস্ত করা হয়েছে। এমদাদের নিয়ন্ত্রনে চলছে ৩৯নং ওয়ার্ডের পাশের অবৈধ মুরগীর বিট।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ অক্টোবর স্বাক্ষরিত চিঠির স্মারক নম্বর- ৪৮৬৭ মূলে নির্দেশ দেয়া হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের ব্লকে ২৪৪৮ বর্গফুট ও পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ব্লকে ৩৯৭৭ বর্গফুটসহ সর্বমোট ৬৪২৫ বর্গফুট জায়গায় রাত্রিকালীন পাইকারি মুরগি বাজারের টোল আদায়ে এবং কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্স-৩ এ মুরগি পট্টির অবশিষ্টাংশে ১০ হাজার ২০০ বর্গফুট চলমান মুরগির দোকান চাঁদা আদায়ের জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নুর ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে ও দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ বছর ধরে চলমান দেশের প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। সংস্কারের কাজ চলছে দেশের সর্বত্র। শুধু রাজধানীর যে সকল জায়গাগুলো টাকা কামানোর জন্য প্রসিদ্ধ, সেগুলোর সবকিছুই বহাল রয়েছে। ছাত্র-জনতার বিরোধীতার কারণে কিছুদিন টাকা উঠানো বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে ফুটপাত ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উঠানোর কাজ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে এই এলাকা ছিল স্থানীয় কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরবের দখলে । আর এখন অন্য রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা উঠাচ্ছে নতুন চাঁদাবাজরা ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিরাতে উঠানো হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা। মূলত দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নামে সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মুরগির বাজার বসিয়ে খাজনা কালেকশন করার কথা বলা হলেও বৈধ কাগজের সূত্র ধরে অবৈধভাবে মুরগির বিট বসিয়ে দোকান সম্প্রসারণ করে প্রতিরাতেই লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র। কাপ্তানবাজারের এই মুরগির বিট দোকান যেন আলাউদ্দিনের জাদুর চেরাগ হয়ে দেখা দিয়েছে। কাপ্তান বাজার থেকে প্রতিরাতে উঠে পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকার চাঁদা।

মুরগি পট্টিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে দৈনিক নওরোজ পত্রিকার প্রতিনিধিকে সজিব বলেন, নিউজ হলে হোক তাতে কিছু আসে যায় না, যতো নিউজ হবে দোকান প্রতি চাঁদার পরিমাণ ততোই বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

কাপ্তান বাজার মুরগি পট্টি

দুই নেতার ছত্রছায়ায় পিতা-পুত্রের চাঁদাবাজি

বিশেষ প্রতিনিধি
Update Time : ০৯:১৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাপ্তান বাজারের মুরগি পট্টিতে চলছে বাপ-বেটার চাঁদাবাজির রাম-রাজত্ব। ব্যবসায়ীরা ফের চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের খপ্পওে পড়ে পর্যুদস্ত। নুর ইসলাম ও তার ছেলে সজিবের নেতৃত্বে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার ও মুরগি পট্টি নিয়ন্ত্রণের ‘কাপ্তানীতে’ ব্যবসায়িরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অতিতে ছিলো আওয়ামী লীগের মনোনিত কাউন্সিলর বর্তমানে বিএনপির দুই নেতার নাম শুনা যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুরগি পট্টির এই চাঁদাবাজির সেল্টার দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুর রহমান হামিদ ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাশার। তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সংম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। আর আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

নুর ইসলাম সম্পর্কে জানতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নুর ইসলাম ভাইয়ের বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। আমরা দিন আনি দিন খাই, হেয় কয় তিনি হলেন হামিদ সাহেব ও বাসার সাহেবের লোক। কিছু কইলে, জানতে পারলে আমগো খবর আছে। এই দিকে মজার বিষয় হচ্ছে মূলত এই নুর ইসলাম আসলে কার লোক? নাকি তিনি সবার। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাশারের সাথেও তার ছিল গভীর সখতা। আর কাপ্তান বাজারও ৩৮নং ওয়ার্ডেই পড়েছে । মুলত এই ২ নেতা হামিদ আর বাশার এর সখ্যতায় মুরগী ব্যবসায়ী নুর ইসলাম এখন কাপ্তান বাজারের নিয়ন্ত্রক। তারই ছেলে সজীব হচ্ছে তার লাঠিয়াল। হোটেল ওসমানী ইন্টারন্যাশনালের সামনে অবৈধ মুরগীর ব্যবসা বন্ধের জন্য ইতিমধ্যেই দরখাস্ত করা হয়েছে। এমদাদের নিয়ন্ত্রনে চলছে ৩৯নং ওয়ার্ডের পাশের অবৈধ মুরগীর বিট।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ অক্টোবর স্বাক্ষরিত চিঠির স্মারক নম্বর- ৪৮৬৭ মূলে নির্দেশ দেয়া হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের ব্লকে ২৪৪৮ বর্গফুট ও পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ব্লকে ৩৯৭৭ বর্গফুটসহ সর্বমোট ৬৪২৫ বর্গফুট জায়গায় রাত্রিকালীন পাইকারি মুরগি বাজারের টোল আদায়ে এবং কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্স-৩ এ মুরগি পট্টির অবশিষ্টাংশে ১০ হাজার ২০০ বর্গফুট চলমান মুরগির দোকান চাঁদা আদায়ের জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নুর ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে ও দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ বছর ধরে চলমান দেশের প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। সংস্কারের কাজ চলছে দেশের সর্বত্র। শুধু রাজধানীর যে সকল জায়গাগুলো টাকা কামানোর জন্য প্রসিদ্ধ, সেগুলোর সবকিছুই বহাল রয়েছে। ছাত্র-জনতার বিরোধীতার কারণে কিছুদিন টাকা উঠানো বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে ফুটপাত ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উঠানোর কাজ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে এই এলাকা ছিল স্থানীয় কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরবের দখলে । আর এখন অন্য রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা উঠাচ্ছে নতুন চাঁদাবাজরা ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিরাতে উঠানো হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা। মূলত দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নামে সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মুরগির বাজার বসিয়ে খাজনা কালেকশন করার কথা বলা হলেও বৈধ কাগজের সূত্র ধরে অবৈধভাবে মুরগির বিট বসিয়ে দোকান সম্প্রসারণ করে প্রতিরাতেই লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছে একটি চক্র। কাপ্তানবাজারের এই মুরগির বিট দোকান যেন আলাউদ্দিনের জাদুর চেরাগ হয়ে দেখা দিয়েছে। কাপ্তান বাজার থেকে প্রতিরাতে উঠে পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকার চাঁদা।

মুরগি পট্টিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে দৈনিক নওরোজ পত্রিকার প্রতিনিধিকে সজিব বলেন, নিউজ হলে হোক তাতে কিছু আসে যায় না, যতো নিউজ হবে দোকান প্রতি চাঁদার পরিমাণ ততোই বাড়বে।