ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দয়াগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তাকারীর হামলায় জবি শিক্ষার্থী আহত, আটক ৪

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:২৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৮৯ Time View

ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাগুরাগামী একটি বাসের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তাকারীর হাতে হামলার শিকার হয়েছেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে তুলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত সহকারী সার্জেন্ট ও ট্রাফিক সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁদের পুলিশ সদস্যদের সামনেই মারধর করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দয়াগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ বক্স ঘেরাও করে বিক্ষোভে নামেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ট্রাফিক সহায়তাকারী চারজনকে আটক করা হয়।

জানা যায়, সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার পর ট্রাফিক সহায়তাকারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

এতে ২ জন গুরুতরসহ মোট ৫ জন আহত হন।

এরা হলেন, তালহা (সিএসই-২০), আল-আমিন (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা-১৯), সোহেল (সমাজবিজ্ঞান-১৯), চৈতি আলম ( সমাজবিজ্ঞান-১৫ ), মোহন খন্দকার (সমাজবিজ্ঞান-১৯), সোহান প্রামাণিক (ইসলামিক স্টাডিজ-১৫) ও আল-আমিন (রসায়ন-১৯) রয়েছেন। গুরুতর আহতদের দয়াগঞ্জ ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে মাগুরাগামী সাদ সুপার নামের একটি বাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দয়াগঞ্জ মোড়ে সিগনালে থামে। সে সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী যানজট সরাতে নামলে দায়িত্বরত তিন ট্রাফিক সহায়তাকারী তাদের পরিচয় জানতে চান। এতে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে সহায়তাকারীরা পুলিশের লাঠি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশ বক্সে আটকে মারধর করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ট্রাফিক সহায়তাকারীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গালিগালাজ করে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা শুরু হয়। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দয়াগঞ্জ মোড়ে জড়ো হয়ে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একজন অভিযুক্তকে বের করা হলে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা তাঁকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে গেলে কয়েকজন সহকারী প্রক্টর আহত হন। এরপর সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাকি তিন অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছবিঃ সংগৃহীত

হামলার শিকার সিএসই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের বলেন, “আমাদের বাস দয়াগঞ্জ মোড়ে ট্র্যাফিকে ছিল। আমাদের বাসের কিছু বড় ভাই ট্র্যাফিকে দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে বলেছিলেন বাসটি ছাড়তে। তারা বাস ছেড়ে দেওয়ার পর হঠাৎ বড় ভাইদের ওপর আক্রমণ করে। পরে আমরা বাস থেকে নেমে তাঁদের বাঁচাতে গেলে আমাদের ওপরও আক্রমণ চালায়। আমি গিয়ে দেখি আলামিন ভাইকে মারছে। ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারে। তারা পুলিশের লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ তখন নীরব দর্শক ছিল।”

হামলার শিকার অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন বলেন, “আমাকে সহ ৪/৫ জনকে তারা হামলা করে। কালো হুডি পরা এক ব্যক্তি পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাদের মারধর করে। আমি, সোহান ভাই, সোহাইল, আলামিন, মিনু আপুসহ অনেকে হামলার শিকার হয়েছি। পুলিশ তখন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।”

জবি প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ওয়ারী জোনের ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি। ঘটনায় যারা যেভাবে অভিযুক্ত, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

দয়াগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তাকারীর হামলায় জবি শিক্ষার্থী আহত, আটক ৪

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Update Time : ০৯:২৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাগুরাগামী একটি বাসের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ সহায়তাকারীর হাতে হামলার শিকার হয়েছেন।

রাজধানীর পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে তুলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত সহকারী সার্জেন্ট ও ট্রাফিক সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁদের পুলিশ সদস্যদের সামনেই মারধর করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দয়াগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ বক্স ঘেরাও করে বিক্ষোভে নামেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ট্রাফিক সহায়তাকারী চারজনকে আটক করা হয়।

জানা যায়, সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার পর ট্রাফিক সহায়তাকারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

এতে ২ জন গুরুতরসহ মোট ৫ জন আহত হন।

এরা হলেন, তালহা (সিএসই-২০), আল-আমিন (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা-১৯), সোহেল (সমাজবিজ্ঞান-১৯), চৈতি আলম ( সমাজবিজ্ঞান-১৫ ), মোহন খন্দকার (সমাজবিজ্ঞান-১৯), সোহান প্রামাণিক (ইসলামিক স্টাডিজ-১৫) ও আল-আমিন (রসায়ন-১৯) রয়েছেন। গুরুতর আহতদের দয়াগঞ্জ ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে মাগুরাগামী সাদ সুপার নামের একটি বাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দয়াগঞ্জ মোড়ে সিগনালে থামে। সে সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী যানজট সরাতে নামলে দায়িত্বরত তিন ট্রাফিক সহায়তাকারী তাদের পরিচয় জানতে চান। এতে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে সহায়তাকারীরা পুলিশের লাঠি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশ বক্সে আটকে মারধর করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ট্রাফিক সহায়তাকারীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গালিগালাজ করে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা শুরু হয়। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দয়াগঞ্জ মোড়ে জড়ো হয়ে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একজন অভিযুক্তকে বের করা হলে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা তাঁকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে গেলে কয়েকজন সহকারী প্রক্টর আহত হন। এরপর সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাকি তিন অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ছবিঃ সংগৃহীত

হামলার শিকার সিএসই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের বলেন, “আমাদের বাস দয়াগঞ্জ মোড়ে ট্র্যাফিকে ছিল। আমাদের বাসের কিছু বড় ভাই ট্র্যাফিকে দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে বলেছিলেন বাসটি ছাড়তে। তারা বাস ছেড়ে দেওয়ার পর হঠাৎ বড় ভাইদের ওপর আক্রমণ করে। পরে আমরা বাস থেকে নেমে তাঁদের বাঁচাতে গেলে আমাদের ওপরও আক্রমণ চালায়। আমি গিয়ে দেখি আলামিন ভাইকে মারছে। ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারে। তারা পুলিশের লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ তখন নীরব দর্শক ছিল।”

হামলার শিকার অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন বলেন, “আমাকে সহ ৪/৫ জনকে তারা হামলা করে। কালো হুডি পরা এক ব্যক্তি পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাদের মারধর করে। আমি, সোহান ভাই, সোহাইল, আলামিন, মিনু আপুসহ অনেকে হামলার শিকার হয়েছি। পুলিশ তখন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।”

জবি প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ওয়ারী জোনের ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি। ঘটনায় যারা যেভাবে অভিযুক্ত, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”