থ্রি হুইলার গাড়িতে সিটবেল্টের মামলা দিলেন টিএসআই নারায়ণ

- Update Time : ১১:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
- / ২৪ Time View
বাংলাদেশের সড়ক আইনে বেটারী চালিত অটো রিক্সা, রিক্সা, থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা), ট্রাক্টর, টমটম এর মতো যান চলাচলের নেই কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন। তবুও অটো রিক্সাকে পৌরসভার মধ্যে চলতে পৌর কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র একটি নাম্বার প্লেট দিয়ে বৈধ ঘোষণা করে দিয়েছে। স্বাধীন চিত্তে বেটারী চালিত এসকল অটোরিক্সার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা) ও ট্রাক্টর। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। অসময়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষ। এসকল অবৈধ গাড়িগুলো কোনো না কোনো সিস্টেম ব্রেক করে প্রতিনিয়ত রাস্তায় চলতে দেখা যায়। সড়ক দুর্ঘটনার পরে ট্রাফিকিং এর দায়িত্বে থাকা পুলিশ বিভাগ কয়েকদিনের জন্য নড়েচড়ে বসলেও একসময় আবার স্থবির হয়ে যায় আইনি সকল প্রক্রিয়া।
তেমনি করে কিছু কিছু ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা নিজের ইচ্ছা স্বাধীন আইনে না থাকা মামলাগুলো ঠুকে দেয় এসকল থ্রি হুইলার কিংবা ট্রাক্টর ড্রাইভারদের। চলতি বছরের গত ১২ জানুয়ারি বরগুনার শহরতলী নতুন বাসস্ট্যান্ডে বরিশাল থেকে বরগুনায় আসা ঢাকা মেট্রো-থ-৫৪-২৯৭৯ নাম্বারের থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা) গাড়ির চালক মেহেদী হাচানকে সিট বেল্ট না বাঁধায় ট্রাফিক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অথচ থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা) গাড়িতে সিট বেল্ট এর কোনো প্রক্রিয়া নেই। এসকল থ্রি হুইলার কেবল ওই সকল জেলাতেই চলতে পারবে, যে জেলা থেকে তাকে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়মের বাইরে গিয়ে ঢাকা মেট্রো-থ-৫৪-২৯৭৯ নাম্বারের থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা) গাড়ির ড্রাইভারকে মামলাটি ঠুকে দেয় ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা বরগুনা সদর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর (টিএসআই) নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকা মেট্রো-থ-৫৪-২৯৭৯ নাম্বারের এই গাড়িটি থ্রি হুইলার কী না, তা নিশ্চিত হতে এ বিষয়ে মুঠোফোনে ওই গাড়ির চালক মেহেদী হাচান এর কাছে কল করে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটি থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা গাড়ি। গাড়িটি একটি কোম্পানির গাড়ি। আমি কোম্পানির কাজে বরিশাল থেকে বরগুনা গেছিলাম। তখন সিটবেল্ট না বাঁধায় আমাকে তিন হাজার টাকার একটি মামলা দেয়া হয়। পরে আমি মামলাটি ভাঙিয়েছি।
অন্যদিকে, বরগুনা শহরের ট্রাফিক বিভাগের এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য’র ঘুষ লেনদেন এর একটি ভিডিও আসে এই প্রতিবেদকের হাতে। যেখানে চলতি বছরের গত ৩০ জানুয়ারি নতুন বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ঝিনাইদাহ থেকে আসা যশোর ট-১১-০৮৩৮ নম্বরের একটি ট্রাক ড্রাইভারকে সকল কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও টিএসআই নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার এর নেতৃত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মঞ্জুরুল এর মাধ্যমে দুই শত টাকা ঘুষ নেয়া হয়।
সেখানে কোনো একজন জিজ্ঞেস করছে “নারায়ণ স্যারে কো¤েœ গ্যাল্লে? আমনেরা গ্যাল্লেন কোই?” উত্তরে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মঞ্জুরুল নামে ওই ব্যক্তি বলেন “আইজগো দিনডাই গ্যাছে মাডি ব্যাডা, টোটাল টাহা পাইছি আগে দুইশ’ আর এই দুইশ’, এই চাইরশ’।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত টিএসআই নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার’র কাছে অবৈধ থ্রি হুইলার (মাহিন্দ্রা) এর চালককে সিট বেল্ট বাঁধার মামলা দিতে পারবে কিনা এবং ভিডিও’র বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন- “মামলাটি দেয়ার রাইটস্ ছিলো। কারণ ওনার গাড়িটা ছিলো মাহেন্দ্র কোম্পানির। মাহেন্দ্র কোম্পানির হলেও গাড়ি যখন চালাবে, মটর সাইকেল ব্যতিত, যখন থ্রি হুইলার হবে অথবা ফোর চাকার হবে, তখন তার সিট বেল্ট থাকতে হবে। গাড়িটা কাভার্ড সিস্টাম করা, মানে গাড়ির মতো করা। ওটার একশ’ পার্সেন্ট সিট বেল্ট থাকতে হবে। থ্রি হুইলার (মাহেন্দ্র) গাড়িটিতে কয়টা চাকা ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন “এইটা অঅমার খেয়াল নাই।”
ঘুষ লেনদেন এর ভিডিও’র ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- ভিডিও না দেখলে বুজব না আমি। তবে এরকম আমি কেনো বলব।”
এ বিষয়ে বরগুনা সদর ট্রাফিক বিভাগ এর দায়িত্বে থাকা নবাগত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই, প্রশাসন) মেহেদী হাসান বলেন- “আমি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে বরগুনা ট্রাফিক বিভাগে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে (নিয়মে না থাকা মামলা) আমি স্ট্রেট না করে দিয়েছি। এই বিষয়টি আমার নলেজে আসছে। তবে মাহেন্দ্রর সাথে এটা যায় না। আইনগত নিয়মে এটি নেই। তার বিরুদ্ধে অবৈধ যেটা থাকবে, সেটার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারবে। যেহেতু এসকল গাড়িতে সিট বেল্ট এর অপশনই নেই, সেক্ষেত্রে এই ধরণের মামলা দিতে পারবে না।
বরগুনা জেলা বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ)- (অঃদাঃ) মোঃ হাবিবুর রহমান থ্রি হুইলার সম্পর্কে মুঠোফোনে বলেন- “গাড়ি যদি থ্রি হুইলার হয়, তাহলে এর ড্রাইভারের কোনো সিটবেল্ট পরার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু সে পারমিট ছাড়া চলতেই পারবে না। সেখানে সে সম্পূর্ণ অবৈধ। ঢাকা মেট্রোর গাড়ি বরগুনায় চলার এখতিয়ারই নেই। শুধুমাত্র বরগুনার রেজিস্ট্রেশন আছে, এসকল থ্রি হুইলার বরগুনায় চলতে পারবে। তাও মহাসড়কে নয়। এতেকরে পরমিট ও রেজিস্ট্রেশনের মামলা হতে পারে, কিন্তু এই থ্রি হুইলার গাড়িতে সিটবেল্ট এর মামলা দিতে পারবে না। সিটবেল্ট এর মামলাটি এই গাড়ির জন্য সম্পূর্ণ অবৈধ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়