ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
নেসকোতে প্রকৌশলী রোকনের গ্রেপ্তারের দাবিতে লংমার্চ ঘোষণা মদ বিক্রি না করায় টঙ্গীর জাবান হোটেলে ভাংচুরের অভিযোগ ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি স্বজনদের গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের দশ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ১০৩টি ফোন মুনিয়া হত্যাকাণ্ডে আফ্রিদির সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখবে সিআইডি : রাষ্ট্রপক্ষ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ কোটি টাকা নিজের জুস পান করে নিজেই বেহুঁশ অজ্ঞান পার্টির সদস্য ! জামাতের গায়ে ছুঁচোর গন্ধ বনাম নির্বাচন বানচালের নতুন তত্ত্ব “পি আর”  ফরিদপুরের গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী চুন্নু লাগামহীন দুর্নীতির পরও বহাল তবিয়তে হাত বেঁধে-মুখ ঢেকে নৌকায় চাপিয়ে জোর করে সাগরে ফেলা হয়

তামাকের রঙিন মোড়কে লুকানো মৃত্যুর হাতছানি

তাসলিমা আখতার
  • Update Time : ০২:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২০ Time View

তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে হাজির হয়েছে। একেইসাথে এ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ ও সীমাবদ্ধতার দিকগুলো নিয়ে তামাক বিরোধী আন্দোলনকারীরা জরুরি প্রশ্ন তুলছেন। এটি এমন এক পণ্য যা ব্যবহারে নিজের অজান্তেই বিপদ বাসা বাধে শরীরে-মনে ও পরিবেশে। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ—যার বেশির ভাগই কর্মক্ষম বয়সের। এই পরিসংখ্যান আতঙ্কের এবং মর্মান্তিক। পাশাপাশি এ তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় তামাক নিয়ন্ত্রণে আমরা কতটা পিছিয়ে। তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোকসহ নানা মরণব্যাধির কারণ। অর্থনৈতিক ক্ষতির দিক থেকেও ভয়ংকর বোঝা। সমাজে বাসা বাধা নানা বৈষম্য, হতাশা-বিচ্ছিন্নতা- একাকীত্বে তরুণ সমাজও তামাকের প্রতি এক ধরনের আসক্তিতে আটকে আছে। ফলে সমাজে প্রাণবন্ত তরুণ প্রজন্মের বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার এ নিয়ে কার্যকর আইনের সাথে সাথে সামাজিক সচেতনাও জরুরি।

ইতিমধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে সরকারের কিছু কার্যকর উদ্যোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু গলদ রয়ে গেছে। যার মধ্যে বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ। মুদি দোকান, চায়ের স্টল বা সুপার শপে প্রায়ই দেখা যায় রঙ্গিন মোড়কে সিগারেট, বিড়ি কিংবা অন্যান্য তামাক দ্রব্য সাজানো যা সহজেই ক্রেতার নজর কাড়ে। নিছক পণ্য প্রদর্শন নয়—এ এক প্রকারের বিজ্ঞাপন। আর এই বিজ্ঞাপন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের ওপর।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনী দেখে, তাদের মধ্যে তামাক গ্রহণ শুরুর সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। শিশুরা রঙিন প্যাকেট দেখে সহজেই আগ্রহী হয়, কিশোররা দেখে ‘বড়’ হওয়ার একটা অভিজ্ঞান হিসেবে। এই প্রবণতা তাদের ধীরে ধীরে আসক্তিতে ঠেলে দেয়। একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তাই আমাদের অবশ্যই তামাকপণ্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা শুধু নীতিগত নয়, জনস্বার্থেও জরুরি।

বাংলাদেশে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং পরে ২০১৩ সালে সংশোধন করে বিজ্ঞাপনে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে তামাক কোম্পানিগুলো আইনের ফাঁক ব্যবহার করে এখনও দোকানের ডিসপ্লে বা কাউন্টারকে পরোক্ষ বিজ্ঞাপনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইন পরিপন্থি। তামাকজাত দ্রব্য বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ তামাক-সম্পর্কিত রোগে মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC) এর আর্টিকেল ১৩ অনুযায়ী তামাকপণ্যের সব রকম বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শনী চালু থাকলে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না।

তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশে বছরে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় মাত্র ২২ হাজার কোটি টাকার মতো। বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় রাষ্ট্র। অর্থাৎ, তামাক থেকে আমরা যতটা আয় করি, তার চেয়ে বেশি হারাই স্বাস্থ্য খাতে। এই হিসাবে তামাক ব্যক্তি নয়—রাষ্ট্রে উভয়ের ক্ষতির কারন।

একটি পরিবারে যদি কেউ তামাকসেবী হয়, তার চিকিৎসার খরচে কখনো নিঃস্ব হয় পুরো পরিবার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই ব্যয় বহন করতে গিয়ে শিক্ষার খরচ কমিয়ে দেয়, সন্তানদের পুষ্টিহীনতা বাড়ে, দারিদ্র্য আরও চক্রাকারে বেড়ে যায়। ফলে তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব অনেক গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি ।

তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বহু দেশ কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো প্লেইন প্যাকেজিং আইন চালু করে। এবং দোকানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কানাডা ও যুক্তরাজ্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে; সেখানে দোকানে এটি ক্রেতার সামনে খোলা অবস্থায় রাখা যায় না। নিউজিল্যান্ড “ স্মোক ফ্রী ২০২৫” লক্ষ্য নিয়ে এর দৃশ্যমান প্রদর্শনী সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে। এসব দেশে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ হওয়ার পর শিশু-কিশোরদের তামাক ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

“তামাকমুক্ত বাংলাদেশ”লক্ষ্য অর্জনের পথে যত বাধা আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রয়কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের অবাধ প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী বন্ধ করা গেলে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমবে, তামাক কোম্পানিগুলোর পরোক্ষ বিজ্ঞাপন কৌশল ব্যর্থ হবে, এবং পুরো সমাজে একটি শক্ত বার্তা যাবে—তামাকের বিপজনক দিক সম্পর্কে।

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে “বিক্রয়স্থলে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ” ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নের জন্য নজরদারি ও জরিমানার বিধান কঠোর করতে হবে। একইসাথে সামাজিক সচেতনতা আন্দোলনের প্রসার ঘটাতে হবে। কারণ তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী বন্ধ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি। বিক্রয় কেন্দ্রে এর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি সামজিক দায়বদ্ধতা । একটি সুস্থ-সচেতন-তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শনী বন্ধে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জরুরী। না হলে রঙ্গিন মোড়কের পেছনে লুকিয়ে থাকা মৃত্যু প্রতিদিন আরও অনেক তরুণের জীবন কেড়ে নিবে-নিঃশব্দে।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন

Please Share This Post in Your Social Media

তামাকের রঙিন মোড়কে লুকানো মৃত্যুর হাতছানি

তাসলিমা আখতার
Update Time : ০২:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে হাজির হয়েছে। একেইসাথে এ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ ও সীমাবদ্ধতার দিকগুলো নিয়ে তামাক বিরোধী আন্দোলনকারীরা জরুরি প্রশ্ন তুলছেন। এটি এমন এক পণ্য যা ব্যবহারে নিজের অজান্তেই বিপদ বাসা বাধে শরীরে-মনে ও পরিবেশে। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ—যার বেশির ভাগই কর্মক্ষম বয়সের। এই পরিসংখ্যান আতঙ্কের এবং মর্মান্তিক। পাশাপাশি এ তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় তামাক নিয়ন্ত্রণে আমরা কতটা পিছিয়ে। তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোকসহ নানা মরণব্যাধির কারণ। অর্থনৈতিক ক্ষতির দিক থেকেও ভয়ংকর বোঝা। সমাজে বাসা বাধা নানা বৈষম্য, হতাশা-বিচ্ছিন্নতা- একাকীত্বে তরুণ সমাজও তামাকের প্রতি এক ধরনের আসক্তিতে আটকে আছে। ফলে সমাজে প্রাণবন্ত তরুণ প্রজন্মের বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার এ নিয়ে কার্যকর আইনের সাথে সাথে সামাজিক সচেতনাও জরুরি।

ইতিমধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে সরকারের কিছু কার্যকর উদ্যোগ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু গলদ রয়ে গেছে। যার মধ্যে বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ। মুদি দোকান, চায়ের স্টল বা সুপার শপে প্রায়ই দেখা যায় রঙ্গিন মোড়কে সিগারেট, বিড়ি কিংবা অন্যান্য তামাক দ্রব্য সাজানো যা সহজেই ক্রেতার নজর কাড়ে। নিছক পণ্য প্রদর্শন নয়—এ এক প্রকারের বিজ্ঞাপন। আর এই বিজ্ঞাপন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশু, কিশোর ও তরুণদের ওপর।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনী দেখে, তাদের মধ্যে তামাক গ্রহণ শুরুর সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। শিশুরা রঙিন প্যাকেট দেখে সহজেই আগ্রহী হয়, কিশোররা দেখে ‘বড়’ হওয়ার একটা অভিজ্ঞান হিসেবে। এই প্রবণতা তাদের ধীরে ধীরে আসক্তিতে ঠেলে দেয়। একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তাই আমাদের অবশ্যই তামাকপণ্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা শুধু নীতিগত নয়, জনস্বার্থেও জরুরি।

বাংলাদেশে ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং পরে ২০১৩ সালে সংশোধন করে বিজ্ঞাপনে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে তামাক কোম্পানিগুলো আইনের ফাঁক ব্যবহার করে এখনও দোকানের ডিসপ্লে বা কাউন্টারকে পরোক্ষ বিজ্ঞাপনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আইন পরিপন্থি। তামাকজাত দ্রব্য বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ তামাক-সম্পর্কিত রোগে মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC) এর আর্টিকেল ১৩ অনুযায়ী তামাকপণ্যের সব রকম বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু বিক্রয়কেন্দ্রে প্রদর্শনী চালু থাকলে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না।

তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশে বছরে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর তামাক থেকে সরকারের রাজস্ব আয় মাত্র ২২ হাজার কোটি টাকার মতো। বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় রাষ্ট্র। অর্থাৎ, তামাক থেকে আমরা যতটা আয় করি, তার চেয়ে বেশি হারাই স্বাস্থ্য খাতে। এই হিসাবে তামাক ব্যক্তি নয়—রাষ্ট্রে উভয়ের ক্ষতির কারন।

একটি পরিবারে যদি কেউ তামাকসেবী হয়, তার চিকিৎসার খরচে কখনো নিঃস্ব হয় পুরো পরিবার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই ব্যয় বহন করতে গিয়ে শিক্ষার খরচ কমিয়ে দেয়, সন্তানদের পুষ্টিহীনতা বাড়ে, দারিদ্র্য আরও চক্রাকারে বেড়ে যায়। ফলে তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব অনেক গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি ।

তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বহু দেশ কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো প্লেইন প্যাকেজিং আইন চালু করে। এবং দোকানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কানাডা ও যুক্তরাজ্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে; সেখানে দোকানে এটি ক্রেতার সামনে খোলা অবস্থায় রাখা যায় না। নিউজিল্যান্ড “ স্মোক ফ্রী ২০২৫” লক্ষ্য নিয়ে এর দৃশ্যমান প্রদর্শনী সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে। এসব দেশে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ হওয়ার পর শিশু-কিশোরদের তামাক ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

“তামাকমুক্ত বাংলাদেশ”লক্ষ্য অর্জনের পথে যত বাধা আছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রয়কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের অবাধ প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী বন্ধ করা গেলে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমবে, তামাক কোম্পানিগুলোর পরোক্ষ বিজ্ঞাপন কৌশল ব্যর্থ হবে, এবং পুরো সমাজে একটি শক্ত বার্তা যাবে—তামাকের বিপজনক দিক সম্পর্কে।

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে “বিক্রয়স্থলে প্রদর্শনী নিষিদ্ধ” ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন বাস্তবায়নের জন্য নজরদারি ও জরিমানার বিধান কঠোর করতে হবে। একইসাথে সামাজিক সচেতনতা আন্দোলনের প্রসার ঘটাতে হবে। কারণ তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী বন্ধ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি। বিক্রয় কেন্দ্রে এর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি সামজিক দায়বদ্ধতা । একটি সুস্থ-সচেতন-তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শনী বন্ধে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জরুরী। না হলে রঙ্গিন মোড়কের পেছনে লুকিয়ে থাকা মৃত্যু প্রতিদিন আরও অনেক তরুণের জীবন কেড়ে নিবে-নিঃশব্দে।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন