ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাখ্যান

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব‌্যু‌রো
  • Update Time : ১০:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • / ১৯৬ Time View

হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করে চলমান সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টায় সারাদেশের মতো রংপুরে নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরাদের ‘কোটা না মেধা-মেধা মেধা, আপস না সংগ্রাম-সংগ্রাম সংগ্রাম, ‘আঠারোর পরিপত্র-পুনর্বহাল করতে হবে, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে, ‘আমার সোনার বাংলায়-বৈষম্যের ঠাঁই নাই, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘আদালত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রেখেছে। তবে এখানে কিছু আইনি দুর্বলতা থাকার সুযোগ রয়েছে। আমরা কোটা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চাই। সব গ্রেডে অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় আনতে হবে।’

আরেক শিক্ষার্থী শিহাব মন্ডল বলেন, ‘আমরা বারবার টালবাহানা দেখতে চাই না। আন্দোলন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা পড়ালেখা করতে চাই। শ্রেণি কক্ষে থাকতে চাই। পড়ালেখা শেষ করে আমরা দেশের সুনাগরিক হতে চাই। আমরা চাই, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারি চাকরিতে বৈষম্যহীন কোটা ব্যবস্থা চলে আসুক, যেটা বার বার পরিবর্তনের দরকার হবে না।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আহসান হাবীব বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিল করে সকল পক্ষের জন্য মোট ৫ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। তাই কোটা সংস্কারের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এদিকে কোটা আন্দোলনের কারনে রংপুরের প্রবেশদ্বার দিয়ে কোন গাড়ি রংপুর বিভা‌গের ৬ জেলা তথা দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামে প্রবেশ করতে পারে নাই। তবে জরুরী গাড়ি যেমন এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ওষুধের গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এতে করে চরম জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ জানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে, তবে আন্দোলনে বাধা কিংবা কোনরকম প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে কোটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাসড়ক অবরোধের সময় আন্দোলনকারীদের কবিতা আবৃত্তি, শ্লোগান , রাস্তায় ক্রিকেট খেলাসহ কখনও বক্তব্য দিয়েই সময় পার করতে দেখা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাখ্যান

ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব‌্যু‌রো
Update Time : ১০:৩৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা প্রত্যাখ্যান করে চলমান সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টায় সারাদেশের মতো রংপুরে নগরীর প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরাদের ‘কোটা না মেধা-মেধা মেধা, আপস না সংগ্রাম-সংগ্রাম সংগ্রাম, ‘আঠারোর পরিপত্র-পুনর্বহাল করতে হবে, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে, ‘আমার সোনার বাংলায়-বৈষম্যের ঠাঁই নাই, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, ‘আদালত ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রেখেছে। তবে এখানে কিছু আইনি দুর্বলতা থাকার সুযোগ রয়েছে। আমরা কোটা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চাই। সব গ্রেডে অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় আনতে হবে।’

আরেক শিক্ষার্থী শিহাব মন্ডল বলেন, ‘আমরা বারবার টালবাহানা দেখতে চাই না। আন্দোলন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা পড়ালেখা করতে চাই। শ্রেণি কক্ষে থাকতে চাই। পড়ালেখা শেষ করে আমরা দেশের সুনাগরিক হতে চাই। আমরা চাই, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরকারি চাকরিতে বৈষম্যহীন কোটা ব্যবস্থা চলে আসুক, যেটা বার বার পরিবর্তনের দরকার হবে না।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আহসান হাবীব বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা বাতিল করে সকল পক্ষের জন্য মোট ৫ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। তাই কোটা সংস্কারের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগ থেকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এদিকে কোটা আন্দোলনের কারনে রংপুরের প্রবেশদ্বার দিয়ে কোন গাড়ি রংপুর বিভা‌গের ৬ জেলা তথা দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামে প্রবেশ করতে পারে নাই। তবে জরুরী গাড়ি যেমন এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও ওষুধের গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হয়। এতে করে চরম জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ জানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে, তবে আন্দোলনে বাধা কিংবা কোনরকম প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে কোটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাসড়ক অবরোধের সময় আন্দোলনকারীদের কবিতা আবৃত্তি, শ্লোগান , রাস্তায় ক্রিকেট খেলাসহ কখনও বক্তব্য দিয়েই সময় পার করতে দেখা গেছে।