ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড্রামে ২৬ টুকরো লাশ: সন্দেহের তীর মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধুর দিকে

নওরোজ রিপোর্ট ও তারাগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭৩ Time View

হাইকোর্টের সামনের সড়কে এই দুই ড্রামের ভেতর থেকে আশরাফুলের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ

হাইকোর্টের সামনের সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিক্ষা ভবনের উল্টা পাশে একটি গাছের নিচে দুটি ড্রামে খণ্ডিত লাশটির পরিচয় মিলেছে। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২)। তিন দিন আগে বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে ঢাকা যান তিনি।

ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কে বা কারা লাশটা ফেলে গেছে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ শুরু করেছে।

জরেজকে আসামি করে মামলা
শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় জরেজের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে সকালে মরদেহ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসেছেন আশরাফুল হকের পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘নিহত আশরাফুল হকের স্ত্রী-স্বজনেরা থানায় এসেছিল। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়েছি। সেগুলো দিয়ে ওসি রমনা, শাহবাগকে সহযোগিতা করছি। এ ঘটনায় ঢাকায় মামলা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার সেখানে যাচ্ছে।’ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

কী বলছে আশরাফুলের পরিবার
আশরাফুলের পরিবার জানায়, কারো সঙ্গে আশরাফুলের শত্রুতা ছিল না। তিনদিন আগে বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকা আসেন তিনি। এরপর থেকেই মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সর্বশেষ তিনদিন আগে মোবাইল ফোনে কল করলে ওপাশ থেকে রিসিভ করে জানানো হয় মোবাইলটি তিনি কুঁড়িয়ে পেয়েছেন।

পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকী বেগম গত বুধবার থেকে স্বামীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে ফোন ধরেছেন জরেজ মিয়া। তিনি লাকীকে জানাতেন, আশরাফুল বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাকী বেগম ভাইকে নিয়ে বদরগঞ্জ থানায় গেলে জানতে পারেন, ঢাকায় নীল রঙের একটি ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় লাশটি।

‌‘আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে’
আশরাফুলের শ্যালক আবদুল মজিদ বলেন, ‘আশরাফুল তার বাবাকে হাসপাতালে রেখে মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকা যায়। গত বুধবার বিকেল ৫টায় বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন সে বোনকে বলেছে, ‘বাবাকে হাসপাতালে রিলিজ দেবে, টাকা-পয়সা দিয়েছি। বাবাকে নিয়ে এসো।’এরপর থাকি আশরাফুলকে কল দিলে তার বন্ধু জরেজ ধরে। আর বলে, আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে।’

আবদুল মজিদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ফোন দিলে আবার জরেজ ফোন ধরে। কিন্তু আশরাফুলকে দেয় না। এ জন্য বোন জরেজের স্ত্রীর কাছে যায়। জরেজের স্ত্রী তাকে ফোন দিলে আশরাফুলের ফোন ধরে না কেন জানতে চাইলে জরেজ বলেন, আশরাফুলের ফোন ড্রেনে কুড়ায় পাইছে। এরপর বোনসহ থানায় আসি। এসে শুনি তাকে খুন করছে। তার লাশ উদ্ধার হইছে ঢাকায়। আমরা হত্যাকারীর বিচার চাই।’

কেন জারেজের প্রতি সন্দেহ
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগের তীর গোপালপুর এলাকার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ আলীর দিকে তুলেছেন নিহত আশরাফুলের মা ও বাবা আব্দুর রশিদ। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিহতের বাড়িতে আশরাফুল হকের মা এছরা খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‌‘মোর ব্যাটাক জরেজ খায়া ফেলাইলো। মোর ব্যাটাক অয় নিয়ে গেইছে। টাকা আনার জন্যে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন। আশরাফুলের স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বাবা-মা রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলার বন্ধু মো. জরেজের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করতেন আশরাফুল। কিন্তু তিন-চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান জরেজ। মাস তিনেক আগে দেশে ফিরে এসে তিনি এবার প্রবাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য বন্ধু আশরাফুলের কাছে তিনি টাকা ধার চেয়েছিলেন। আশরাফুল হক তাকে টাকা দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

এরই মধ্যে গত শনিবার আশরাফুলের বাবা আব্দুর রশিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুরের বেসরকারি প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে বাবার সাথে দেখা করে বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আশরাফুল হকের বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, তার ছেলে আশরাফুল হকের সাথে ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্ব ছিল জরেজ মিয়ার। আগে তারা যৌথ ব্যবসা করলেও জরেজ মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার পর আশরাফুল একাই ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। কিছু দিন আগে জরেজ বিদেশ থেকে ফিরে এসে এবার জাপান যেতে চাচ্ছিল।

আব্দুর রশিদ বলেন, জরেজ আমাকে বলেছে জাপান যাওয়ার জন্য অনেক টাকা লাগবে। এ জন্য আশরাফুল আমাকে টাকা দিতে চেয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আমি হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় আমার সাথে দেখা করে আমার ছেলে বলে বাবা ঢাকায় যাচ্ছি। এ সময় রাতে যেতে নিষেধ করলে আশরাফুল বলেন সমস্যা নেই। আমার জন্য দোয়া করেন। পরে তার বন্ধু জরেজসহ ঢাকায় চলে যান ওই দিনেই।

Please Share This Post in Your Social Media

ড্রামে ২৬ টুকরো লাশ: সন্দেহের তীর মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধুর দিকে

নওরোজ রিপোর্ট ও তারাগঞ্জ প্রতিনিধি
Update Time : ১২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

হাইকোর্টের সামনের সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিক্ষা ভবনের উল্টা পাশে একটি গাছের নিচে দুটি ড্রামে খণ্ডিত লাশটির পরিচয় মিলেছে। তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪২)। তিন দিন আগে বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে ঢাকা যান তিনি।

ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কে বা কারা লাশটা ফেলে গেছে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ শুরু করেছে।

জরেজকে আসামি করে মামলা
শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় জরেজের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে সকালে মরদেহ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসেছেন আশরাফুল হকের পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘নিহত আশরাফুল হকের স্ত্রী-স্বজনেরা থানায় এসেছিল। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়েছি। সেগুলো দিয়ে ওসি রমনা, শাহবাগকে সহযোগিতা করছি। এ ঘটনায় ঢাকায় মামলা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার সেখানে যাচ্ছে।’ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

কী বলছে আশরাফুলের পরিবার
আশরাফুলের পরিবার জানায়, কারো সঙ্গে আশরাফুলের শত্রুতা ছিল না। তিনদিন আগে বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকা আসেন তিনি। এরপর থেকেই মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সর্বশেষ তিনদিন আগে মোবাইল ফোনে কল করলে ওপাশ থেকে রিসিভ করে জানানো হয় মোবাইলটি তিনি কুঁড়িয়ে পেয়েছেন।

পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকী বেগম গত বুধবার থেকে স্বামীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে ফোন ধরেছেন জরেজ মিয়া। তিনি লাকীকে জানাতেন, আশরাফুল বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাকী বেগম ভাইকে নিয়ে বদরগঞ্জ থানায় গেলে জানতে পারেন, ঢাকায় নীল রঙের একটি ড্রামের ভেতর থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আঙুলের ছাপ মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় লাশটি।

‌‘আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে’
আশরাফুলের শ্যালক আবদুল মজিদ বলেন, ‘আশরাফুল তার বাবাকে হাসপাতালে রেখে মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ফেরত বন্ধু জরেজের সঙ্গে ঢাকা যায়। গত বুধবার বিকেল ৫টায় বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন সে বোনকে বলেছে, ‘বাবাকে হাসপাতালে রিলিজ দেবে, টাকা-পয়সা দিয়েছি। বাবাকে নিয়ে এসো।’এরপর থাকি আশরাফুলকে কল দিলে তার বন্ধু জরেজ ধরে। আর বলে, আশরাফুল ব্যস্ত আছে, কালেকশনে গেছে।’

আবদুল মজিদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ফোন দিলে আবার জরেজ ফোন ধরে। কিন্তু আশরাফুলকে দেয় না। এ জন্য বোন জরেজের স্ত্রীর কাছে যায়। জরেজের স্ত্রী তাকে ফোন দিলে আশরাফুলের ফোন ধরে না কেন জানতে চাইলে জরেজ বলেন, আশরাফুলের ফোন ড্রেনে কুড়ায় পাইছে। এরপর বোনসহ থানায় আসি। এসে শুনি তাকে খুন করছে। তার লাশ উদ্ধার হইছে ঢাকায়। আমরা হত্যাকারীর বিচার চাই।’

কেন জারেজের প্রতি সন্দেহ
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগের তীর গোপালপুর এলাকার তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জরেজ আলীর দিকে তুলেছেন নিহত আশরাফুলের মা ও বাবা আব্দুর রশিদ। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিহতের বাড়িতে আশরাফুল হকের মা এছরা খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‌‘মোর ব্যাটাক জরেজ খায়া ফেলাইলো। মোর ব্যাটাক অয় নিয়ে গেইছে। টাকা আনার জন্যে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন। আশরাফুলের স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বাবা-মা রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলার বন্ধু মো. জরেজের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা করতেন আশরাফুল। কিন্তু তিন-চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান জরেজ। মাস তিনেক আগে দেশে ফিরে এসে তিনি এবার প্রবাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য বন্ধু আশরাফুলের কাছে তিনি টাকা ধার চেয়েছিলেন। আশরাফুল হক তাকে টাকা দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

এরই মধ্যে গত শনিবার আশরাফুলের বাবা আব্দুর রশিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুরের বেসরকারি প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে বাবার সাথে দেখা করে বন্ধু জরেজকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আশরাফুল হকের বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, তার ছেলে আশরাফুল হকের সাথে ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্ব ছিল জরেজ মিয়ার। আগে তারা যৌথ ব্যবসা করলেও জরেজ মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার পর আশরাফুল একাই ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। কিছু দিন আগে জরেজ বিদেশ থেকে ফিরে এসে এবার জাপান যেতে চাচ্ছিল।

আব্দুর রশিদ বলেন, জরেজ আমাকে বলেছে জাপান যাওয়ার জন্য অনেক টাকা লাগবে। এ জন্য আশরাফুল আমাকে টাকা দিতে চেয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আমি হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় আমার সাথে দেখা করে আমার ছেলে বলে বাবা ঢাকায় যাচ্ছি। এ সময় রাতে যেতে নিষেধ করলে আশরাফুল বলেন সমস্যা নেই। আমার জন্য দোয়া করেন। পরে তার বন্ধু জরেজসহ ঢাকায় চলে যান ওই দিনেই।