ডিএনএ পরীক্ষায় শিশু জিহাদ হত্যার রহস্য উদঘাটন

- Update Time : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
- / ১২৭ Time View
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার চরনসিপুরে শিশু জিহাদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই ফরিদপুর জেলা।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানা এলাকার চরনসিপুর গ্রামের জনৈক জসীম শেখ এর ছেলে জিহাদ (১৪) এর মা সেলিনা বেগম অনুমান ৩/৪ বছর যাবৎ সৌদি আরব আছেন। এই মামলার ঘটনার কিছুদিন আগে সেলিনা বিদেশ হতে তার স্বামী জসীম শেখকে তালাক প্রদান করে।
ডিসিষ্ট জিহাদ জানতে পেরে গত ইং ০১/০৯/২২তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.০০ টার সময় নিজ বাড়ী হতে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানাধীন হরিণবাড়ীয়া গ্রামে তার নানা বারেক শেখ এর বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরপর মামলার বাদী ডিসিস্টের দাদা–আঃ লতিফ সেক গত ০৩/০৯/২২ তারিখ সকাল অনুমান ০৭.৩০ টায় মোবাইল ফোনে সংবাদ পান যে, তার নাতী জিহাদ এর মৃতদেহ কালুখালী থানাধীন গঙ্গানন্দপুর ঈদগাহ মাঠে পড়ে আছে। ডিসিস্টের নানা বারেক শেখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিসিস্টের লাশ সনাক্ত করেন। কালুখালী থানা পুলিশ ডিসিস্টের মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুতসহ আলামত জব্দ করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
ময়নাতদন্তকালে ডাক্তার ডিসিস্টের পায়ুপথ হতে রেক্টাল সোয়াব ৪টি ষ্টিক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করেন।সিআইডির ফরেনসিক শাখা ডিসিস্টের পায়ুপথ হতে রেক্টাল সোয়াব পরীক্ষা করে তাতে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পান।
এই ঘটনায় ডিসিস্টের দাদা–আঃ লতিফ সেক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী কালুখালীথানার মামলা নং–০২, তারিখ–০৩/০৯/২০২২ খ্রিঃ, ধারা–৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। কালুখালীথানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মামলার ঘটনাস্থল সংলগ্ন হিরু মোল্লার ঘাট এলাকার মুদি দোকানদার সেলিম মন্ডলকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। আদালতের অনুমতিক্রমে গ্রেফতারকৃত সেলিম মন্ডলকে সিআইডির ফরেনসিক শাখা ঢাকায় উপস্থিত করে ডিএনএ স্যাম্পল প্রদান করাহয়। কিন্তু সিআইডির ফরেনসিক শাখা, ঢাকা ডিসিস্টের সংরক্ষিত ডিএনএ নমুনার সাথে সন্দিগ্ধ গ্রেফতারকৃত সেলিম মন্ডল এর ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষায় মিল পাওয়া যায়নি মর্মে মতামত প্রদান করে।
কালুখালী থানা পুলিশ গত ০৩/০৯/২২ তারিখ হতে ২২/১২/২২ তারিখ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। রহস্য উৎঘাটন করতে না পেরে জেলা পুলিশের আবেদনের পেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মামলার তদন্তভার পিবিআই ফরিদপুরের উপর ন্যাস্ত করেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ফরিদপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃরবিউল ইসলাম, পিএসসি এর সার্বিক সহযোগিতায় পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ)/জনাবমোঃ জালাল উদ্দিন সরদার মামলাটি তদন্ত করেন।
যেহেতু ডিসিস্টের পায়ুপথে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, পিবিআই ফরিপুর জেলা প্রাথমিকভাবেধারণা করে যে, ডিসিস্ট জিহাদ (১৪) কে বলৎকার পূর্বক হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গুরুত্ব সহকারেবলৎকারের বিষয়সহ পিবিআই ফরিপুর জেলা জিহাদ হত্যার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রকাশ্যে ওগোপনে তদন্ত অব্যাহত রাখে।
তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ)/মোঃ জালাল উদ্দিন সরদার গোয়েন্দা তথ্যেরভিত্তিতে জানতে পারেন যে, ঈদুল আযহা/২০২৩ এর দিন (২৯/০৬/২০২৩ইং) সন্ধ্যা অনুমান ০৬.০০ টার সময় কালুখালী সরকারী কলেজের পরিত্যাক্ত টিনসেড রুমের মধ্যে জোর পূর্বক ১টি ছেলে অন্তর বিশ্বাস (১০) পিতা–সুমন বিশ্বাস, সাং–বোয়ালিয়াকে বলাৎকার করার সময় ভিকটিম ডাক চিৎকার করলে তাকে কোমড়ের বেল্ট গলায় পেচাইয়া হত্যার চেষ্টাকালে কলেজের নাইট গার্ড চিৎকার শুনে আগাইয়া গিয়ে ধাওয়া করে অন্যান্যদের সহায়তায় শাকিল (১৬) নামে ১ জন কিশোরকে আটক করে, কালুখালী থানায় সংবাদ দিলে, থানা পুলিশ তাকে থানায় নিয়া যায়।
এই ঘটনায় জনৈক আকাশ মন্ডল বাদী হয়ে শাকিল (১৬) এর বিরুদ্ধে কালুখালী থানার মামলা নং–২৩, তারিখ–২৯/০৬/২৩ইং, ধারা–নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন/২০০০ ৯(১) তৎসহ ৩২৩/৩০৭ পেনাল কোডদায়ের করে। কালুখালী থানা পুলিশ শাকিল (১৬) পিতা–মোঃ সালাম ওরফে ভুস, সাং–গঙ্গানন্দপুর, থানা–কালুখালী, জেলা–রাজবাড়ীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। বিজ্ঞ আদালত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু শাকিল (১৬) কে গাজীপুর জেলার সংশোধনাগারে প্রেরণ করেন মর্মে সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার, জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম, পিবিআই ফরিদপুরকে বিষয়টি অবগত করেন।
পরবর্তীতে পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় বিজ্ঞ আদালতে আবেদন পূর্বক আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু শাকিল (১৬) কে রাজবাড়ী কালুখালী থানার মামলা নং–০২, তারিখ–০৩/০৯/২০২২ খ্রিঃ, ধারা–৩০২/৩৪ পেনাল কোড মামলায় শোন–অ্যারেস্ট এর মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আদালতের অনুমতিক্রমে শাকিল এর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক শাখায় ডিসিস্টেরসংরক্ষিত ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষান্তে রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য প্রেরণ করা হয়। সিআইডি ঢাকার ফরেনসিক শাখা ডিএনএ এর তুলনামূলক পরীক্ষা করে ডিসিস্টের সংরক্ষিত ডিএনএ এর সাথে শাকিল এরডিএনএর মিল পাওয়া যায় মর্মে মতামত প্রদান করেন।