টঙ্গীতে মাওলানা মোশাররফ হোসেনকে কবর দিতে বাঁধা, হতবাক তাবলীগের সাথীরা

- Update Time : ০৭:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ৯১ Time View
তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি, বিশ্ব ইজতেমার জুমার নামাজের ইমাম এবং কাকরাইল মসজিদের আহলে শূরা হজরত মাওলানা মোশাররফ হোসেন (রহ.) মারা গেছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ। তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মোশারফ হোসেন কিছুদিন ধরে কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শেষ দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মাওলানা মোশাররফ হোসেন ছিলেন তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশে ভ্রমণকারী এবং বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে জুমার নামাজের ইমামতি করার মাধ্যমে মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা প্রদানে পরিচিত ছিলেন। প্রতি ইজতেমায় তিনি আসর ও ফজরের নামাজের পরে মূল বয়ান করতেন।
তাবলিগ জামাতের নিয়ম অনুযায়ী, কাকরাইল মসজিদের শূরা সদস্য ইন্তেকাল করলে তার দাফন টঙ্গী ময়দানের কবরস্থানে করা হয়।
মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা ছিল টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের কবরস্থানে দাফন হওয়া। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণে বাঁধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাবলীগের সাথীদের হতবাক করেছে।
এর আগে কাকরাইল মসজিদের আহলে শূরার একাধিক শীর্ষ মুরুব্বি—মাওলানা আব্দুল আজীজ খুলনভী রহসহ অনেককে টঙ্গী ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে দাফন করা হয়েছে। সেই নিয়মেই মাওলানা মোশাররফ হোসেনকেও সেখানে দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে তার ছেলে আবু জর বিষয়টি বর্তমান টঙ্গী ময়দান দখলে থাকা অপরপক্ষের মুরুব্বি মাওলানা জুবায়েরের কাছে জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বাঁধা প্রদান করেন। এতে ক্ষোভ ও হতাশা নেমে আসে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত ও মর্মাহত। মাওলানা মোশাররফ ছিলেন কাকরাইলের আহলে শূরা সদস্য ও প্রবীণ মুরুব্বি। তার অসংখ্য কুরবানী রয়েছে তাবলীগের খেদমতে। তাকে কবর দিতে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক ও বোধগম্য নয়। মানুষ চলে যাওয়ার পর তার প্রতি হিংসা রাখা নিঃসন্দেহে একটি পাপ।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৫ বছর বয়সী এ আলেম। তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে শেষ দুই দিন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাবলীগ জামাতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কাকরাইল মসজিদের শূরা সদস্য ইন্তেকাল করলে তাকে টঙ্গী ময়দানের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাওলানা মোশাররফ হোসেনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাবলিগ জামাতের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, যেহেতু জানাজায় সারা দেশ থেকে সাথীরা অংশ নেবেন, তাই জানাজা আজ রাত সাড়ে ৯টায় টঙ্গীর পশ্চিম পাশে বিশ্ব ইজতেমা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। মাওলানা মোশাররফ হোসেন ছিলেন তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রভাবশালী মুরুব্বি।
তিনি দীর্ঘদিন বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজের ইমামতি করেছেন এবং আসর ও ফজরের নামাজের পরে মূল বয়ান প্রদান করতেন। এছাড়া তিনি তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের বহু দেশে ভ্রমণ করে মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তাবলিগ জামাতের ২ গ্রুপের বিবাদ নিরসনে পদক্ষেপ নিল সরকার
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়