ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সিলেট

চা বাগানের খাস জমি থেকে ৩০ ভবন উচ্ছেদ, অস্ত্র উদ্ধার

সিলেট প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৪ Time View

ভবন ভাঙচুর করা

সিলেট সদরের খাদিমনগর চা বাগানের খাস জমিতে তৈরি অন্তত ৩০টি ভবন ভাঙচুর করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভবনগুলো ভাংচুর অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাল দলিল লেখক শাহজাহান ওমর। অপরজন চা বাগানের সাবেক ম্যানেজার এবং জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মোসাদ্দেক হোসেন কোরেশী। এর আগে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান মোজাম্মেল হোসেন লিটন (৩৮) আটক এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাগানের সাবেক ম্যানেজারসহ লিটন ও শাহজাহান ওমরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে একটি জালিয়াত চক্র প্রভাব খাটিয়ে বাগানের খাস জমি দখল করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করছিল । বাগান শ্রমিকদের উচ্ছেদের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দু’জনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ জানান, শনিবারের অভিযান অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি প্রচুর মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলীম উল্লাহ খান এবং সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ। অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ আনসার সহযোগিতা প্রদান করে।

সরকারি খাস জমি উদ্ধার

তিনি আরো বলেন, আজ আমরা প্রায় ৩০ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছি। এই জমি খাদিম নগর চা-বাগানের দায়িত্বে ছিলো, কিন্তু তা ঠিকমতো দেখভাল না করার কারণে জমি দখল হয়ে যায়। এখানকার চা শ্রমিকেরা জমি দখলের পাশাপাশি জাল দলিল করে জমি বিক্রি করছিল। এমন অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযানে নেমেছি, এবং সত্যতাও পেয়েছি।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াৎ আরো, জানান, আমরা ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। এবং এখানকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং জমি কেনা-বেচার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সদর উপজেলার ইউএনও।

এদিকে,দীর্ঘদিন পরে হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

সিলেট

চা বাগানের খাস জমি থেকে ৩০ ভবন উচ্ছেদ, অস্ত্র উদ্ধার

সিলেট প্রতিনিধি
Update Time : ০৮:২৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

সিলেট সদরের খাদিমনগর চা বাগানের খাস জমিতে তৈরি অন্তত ৩০টি ভবন ভাঙচুর করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভবনগুলো ভাংচুর অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাল দলিল লেখক শাহজাহান ওমর। অপরজন চা বাগানের সাবেক ম্যানেজার এবং জালিয়াত চক্রের মূল হোতা মোসাদ্দেক হোসেন কোরেশী। এর আগে শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জালিয়াত চক্রের অন্যতম প্রধান মোজাম্মেল হোসেন লিটন (৩৮) আটক এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাগানের সাবেক ম্যানেজারসহ লিটন ও শাহজাহান ওমরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে একটি জালিয়াত চক্র প্রভাব খাটিয়ে বাগানের খাস জমি দখল করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করছিল । বাগান শ্রমিকদের উচ্ছেদের অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দু’জনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ জানান, শনিবারের অভিযান অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি প্রচুর মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলীম উল্লাহ খান এবং সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ। অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ আনসার সহযোগিতা প্রদান করে।

সরকারি খাস জমি উদ্ধার

তিনি আরো বলেন, আজ আমরা প্রায় ৩০ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছি। এই জমি খাদিম নগর চা-বাগানের দায়িত্বে ছিলো, কিন্তু তা ঠিকমতো দেখভাল না করার কারণে জমি দখল হয়ে যায়। এখানকার চা শ্রমিকেরা জমি দখলের পাশাপাশি জাল দলিল করে জমি বিক্রি করছিল। এমন অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযানে নেমেছি, এবং সত্যতাও পেয়েছি।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াৎ আরো, জানান, আমরা ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। এবং এখানকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং জমি কেনা-বেচার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সদর উপজেলার ইউএনও।

এদিকে,দীর্ঘদিন পরে হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।