ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোসলের মেশিন আনল জাপান, ভেতরে ঢুকলেই ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হবে শরীর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৮ Time View

মানুষ ধোয়ার মেশিন।

ভাবুন, একটি মেশিনের ভেতর শুয়ে আছেন। ঢাকনা বন্ধ, গান বাজছে। আরামে চোখ বুজে আসছে। কিছুক্ষণ পর টের পেলেন কাপড়ের মতোই ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছেন। তারপর ঝরঝরে শরীরে বেরিয়ে এলেন। বিষয়টি অদ্ভুত শোনালেও বাস্তবে এমন এক মেশিন তৈরি করেছে জাপানের এক প্রতিষ্ঠান। যন্ত্রের নাম দিয়েছে ‘মানুষ ধোয়ার মেশিন’।

ওয়ার্ল্ড এক্সপোর দর্শকদের মুগ্ধ করার পর এখন এই মেশিন জাপানের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার ওই প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র এসব তথ্য জানান বলে জানিয়েছে এএফপি।

তার ভাষ্য, ব্যবহারকারীরা একটি পডের ভেতরে শুয়ে পড়েন, ঢাকনা বন্ধ করেন এবং গান শুনতে শুনতে কাপড় ধোয়ার মতোই পরিষ্কার হয়ে যান। তবে আশঙ্কা নেই, মেশিনটি মানুষকে কাপড়ের মতো ঘুরপাক খাওয়াবে না।

ওসাকায় অনুষ্ঠিত ছয় মাসের ওয়ার্ল্ড এক্সপো গত অক্টোবরে শেষ হয়। প্রদর্শনীতে ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন। সেখানে ‘ভবিষ্যতের মানব ওয়াশার’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই যন্ত্রটির একটি নমুনা রাখা হলে তা দেখতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ওই ওয়াশিং মেশিনটি তৈরি করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান সায়েন্স। এটি ১৯৭০ সালে ওসাকায় একই ইভেন্টে প্রদর্শিত একটি যন্ত্রের অতি-আধুনিক সংস্করণ।

সায়েন্সের মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা এএফপিকে বলেন, ‘সেই সময় আমাদের (কোম্পানির) প্রেসিডেন্ট মাত্র ১০ বছরের শিশু ছিলেন, আর তিনি সেই যন্ত্র দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যন্ত্র শুধু শরীরই নয়, আত্মাকেও পরিষ্কার করে। পাশাপাশি এটি ব্যবহারকারীর হৃৎস্পন্দনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাত্তও পর্যবেক্ষণ করে।’

নমুনা যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হবে কি না তা জানতে মার্কিন এক রিসোর্ট কোম্পানি সায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর প্রতিষ্ঠানটি অধিক উৎপাদনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুখপাত্র জানান, ওসাকার একটি হোটেল প্রথম মেশিনটি কিনেছে এবং অতিথিদের জন্য এই সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘অন্য ক্রেতাদের মধ্যে আছে জাপানের বৃহত্তম ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স রিটেইল চেইন ইয়ামাদা দেনকি। তারা আশা করছে এই মেশিন তাদের আউটলেটে আরও ক্রেতা আকর্ষণ করবে।’

‘এর অন্যতম আকর্ষণের একটি দিক হলো অপ্রতুলতা। কেননা আমরা মাত্র প্রায় ৫০টি মেশিন তৈরির পরিকল্পনা করেছি’, যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর খুচরা মূল্য হবে ৬ কোটি ইয়েন (৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার)।

Please Share This Post in Your Social Media

গোসলের মেশিন আনল জাপান, ভেতরে ঢুকলেই ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হবে শরীর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
Update Time : ০৩:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ভাবুন, একটি মেশিনের ভেতর শুয়ে আছেন। ঢাকনা বন্ধ, গান বাজছে। আরামে চোখ বুজে আসছে। কিছুক্ষণ পর টের পেলেন কাপড়ের মতোই ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছেন। তারপর ঝরঝরে শরীরে বেরিয়ে এলেন। বিষয়টি অদ্ভুত শোনালেও বাস্তবে এমন এক মেশিন তৈরি করেছে জাপানের এক প্রতিষ্ঠান। যন্ত্রের নাম দিয়েছে ‘মানুষ ধোয়ার মেশিন’।

ওয়ার্ল্ড এক্সপোর দর্শকদের মুগ্ধ করার পর এখন এই মেশিন জাপানের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার ওই প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র এসব তথ্য জানান বলে জানিয়েছে এএফপি।

তার ভাষ্য, ব্যবহারকারীরা একটি পডের ভেতরে শুয়ে পড়েন, ঢাকনা বন্ধ করেন এবং গান শুনতে শুনতে কাপড় ধোয়ার মতোই পরিষ্কার হয়ে যান। তবে আশঙ্কা নেই, মেশিনটি মানুষকে কাপড়ের মতো ঘুরপাক খাওয়াবে না।

ওসাকায় অনুষ্ঠিত ছয় মাসের ওয়ার্ল্ড এক্সপো গত অক্টোবরে শেষ হয়। প্রদর্শনীতে ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন। সেখানে ‘ভবিষ্যতের মানব ওয়াশার’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই যন্ত্রটির একটি নমুনা রাখা হলে তা দেখতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ওই ওয়াশিং মেশিনটি তৈরি করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান সায়েন্স। এটি ১৯৭০ সালে ওসাকায় একই ইভেন্টে প্রদর্শিত একটি যন্ত্রের অতি-আধুনিক সংস্করণ।

সায়েন্সের মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা এএফপিকে বলেন, ‘সেই সময় আমাদের (কোম্পানির) প্রেসিডেন্ট মাত্র ১০ বছরের শিশু ছিলেন, আর তিনি সেই যন্ত্র দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যন্ত্র শুধু শরীরই নয়, আত্মাকেও পরিষ্কার করে। পাশাপাশি এটি ব্যবহারকারীর হৃৎস্পন্দনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাত্তও পর্যবেক্ষণ করে।’

নমুনা যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হবে কি না তা জানতে মার্কিন এক রিসোর্ট কোম্পানি সায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর প্রতিষ্ঠানটি অধিক উৎপাদনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুখপাত্র জানান, ওসাকার একটি হোটেল প্রথম মেশিনটি কিনেছে এবং অতিথিদের জন্য এই সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘অন্য ক্রেতাদের মধ্যে আছে জাপানের বৃহত্তম ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স রিটেইল চেইন ইয়ামাদা দেনকি। তারা আশা করছে এই মেশিন তাদের আউটলেটে আরও ক্রেতা আকর্ষণ করবে।’

‘এর অন্যতম আকর্ষণের একটি দিক হলো অপ্রতুলতা। কেননা আমরা মাত্র প্রায় ৫০টি মেশিন তৈরির পরিকল্পনা করেছি’, যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর খুচরা মূল্য হবে ৬ কোটি ইয়েন (৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার)।