ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুম বন্ধে আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বিএনপির : তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৭ Time View

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জোর করে গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা নিশ্চিত করব যেন বাংলাদেশে আর কোনো গুম না ঘটে। আমরা জাতিসংঘের গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব। এই ভয়ংকর অপরাধের বিচার হবেই– এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

শেখ হাসিনার আমলে গুমের যে ভয়াবহ বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে তিনি এই বাণী দেন।

তারেক রহমান বলেন, জোর করে গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন।

বিশেষ করে স্বৈরশাসিত দেশ বা যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের বা ভিন্ন মতের রাজনৈতিক নেতাদের দমন করতে এ ধরনের কঠোর পদ্ধতি ব্যবহার করে। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে নজিরবিহীন গুমের ঘটনায় দেশবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো একযোগে প্রকাশ করেছে যে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ এর বেশি মানুষকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গুম করেছে।

এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। আজ পর্যন্ত একটি গুমের ঘটনারও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫” নামে একটি আইন প্রণয়নের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।এই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো ছিলেন তাদের পরিবারের প্রাণপ্রিয় সদস্য।

তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অদৃশ্য মানুষগুলো কোথায় আছে আমরা জানি না, তবে রেখে গিয়েছে এক মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর বাংলাদেশ, যেখানে আমাদের অর্জিত মানবাধিকার ও মূল্যবোধ লুণ্ঠিত হয়েছে। গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত।
তারেক রহমান বলেন, গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। গুমের শিকার পরিবাররা অনেক কষ্টে থাকে–তারা প্রিয়জনের খবর পায় না, বিচারও পায় না।প্রতি বছর “আন্তর্জাতিক গুম বিরোধী দিবস” পালন করা হয়। যাতে আমরা গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে পারি এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারি, জাতি, ভাষা, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতভেদ ছাড়াই।আমি এই অমানবিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা নিশ্চিত করব যেন বাংলাদেশে আর কোনো গুম না ঘটে। আমরা জাতিসংঘের গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব। এই ভয়ংকর অপরাধের বিচার হবেই–এটাই আমাদের অঙ্গীকার। মানবতার বিরুদ্ধে এই হিংস্র গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

গুম বন্ধে আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বিএনপির : তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক
Update Time : ১১:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জোর করে গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা নিশ্চিত করব যেন বাংলাদেশে আর কোনো গুম না ঘটে। আমরা জাতিসংঘের গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব। এই ভয়ংকর অপরাধের বিচার হবেই– এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

শেখ হাসিনার আমলে গুমের যে ভয়াবহ বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে তিনি এই বাণী দেন।

তারেক রহমান বলেন, জোর করে গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি মানবাধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন।

বিশেষ করে স্বৈরশাসিত দেশ বা যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের বা ভিন্ন মতের রাজনৈতিক নেতাদের দমন করতে এ ধরনের কঠোর পদ্ধতি ব্যবহার করে। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে নজিরবিহীন গুমের ঘটনায় দেশবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো একযোগে প্রকাশ করেছে যে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ এর বেশি মানুষকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গুম করেছে।

এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। আজ পর্যন্ত একটি গুমের ঘটনারও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার “গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫” নামে একটি আইন প্রণয়নের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।এই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো ছিলেন তাদের পরিবারের প্রাণপ্রিয় সদস্য।

তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অদৃশ্য মানুষগুলো কোথায় আছে আমরা জানি না, তবে রেখে গিয়েছে এক মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর বাংলাদেশ, যেখানে আমাদের অর্জিত মানবাধিকার ও মূল্যবোধ লুণ্ঠিত হয়েছে। গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত।
তারেক রহমান বলেন, গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। গুমের শিকার পরিবাররা অনেক কষ্টে থাকে–তারা প্রিয়জনের খবর পায় না, বিচারও পায় না।প্রতি বছর “আন্তর্জাতিক গুম বিরোধী দিবস” পালন করা হয়। যাতে আমরা গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে পারি এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারি, জাতি, ভাষা, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতভেদ ছাড়াই।আমি এই অমানবিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা নিশ্চিত করব যেন বাংলাদেশে আর কোনো গুম না ঘটে। আমরা জাতিসংঘের গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব। এই ভয়ংকর অপরাধের বিচার হবেই–এটাই আমাদের অঙ্গীকার। মানবতার বিরুদ্ধে এই হিংস্র গুরুতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে।