ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

‘গুপ্তহত্যা’র প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাবি প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৪:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ৪৪ Time View

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তহত্যা’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি)শিক্ষার্থীরা। এসময় পিলখানা হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন তারা। মিছিল থেকে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলা এলাকায় এসে শেষ হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের “পিলখানা হত্যার বিচার চাই, সুজন হত্যার বিচার চাই, বিপ্লবীরা রাস্তায় মরে/ সরকার কি করে, আমার ভাই কবরে/ খুনি কেন বাহিরে, আমার ভাই মরলো কেন/ প্রশাসন কি করে, বিচার নিয়ে গরিমসি/মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হুশিয়ার সাবধান, ভারতের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আনজুম শাহারিয়ার বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এদেশে আধিপত্যবাদ, ভারতীয় আগ্রাসন শুরু হয়েছিল৷ বিপ্লব পরবর্তী সরকার এসব বিচার নিশ্চিত করার নামে গড়িমসি করছে ৷ বিপ্লব পরবর্তী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে বিচারের আওতায় এনে তাদের পুনর্বাসন বন্ধ করার কথা ছিল; তাও হয়নি৷ তারা আজ বিভিন্ন স্থানে আমাদের বিপ্লবীদের উপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে হামলা চালানোর ঘোষণা দিচ্ছে৷

জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া জিসান বলেন, বিপ্লবের সাড়ে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে এটা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য লজ্জাজনক৷ বিডিআর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে৷ বাতিলকৃত সেই কমিশন পুনরায় গঠন করতে হবে৷ হত্যাকান্ডের সাথে যুক্তদের অতিসত্ত্বর বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে৷ উপদেষ্টারা জুলাই বিপ্লবে হত্যাকারীদের বিচারে কাজ করতে না পারলে তাদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে আসা উচিত।

গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছিল বিডিআর বিদ্রোহ৷ জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত ছিল তাদের বিচারের দাবিতে ইতোমধ্যে অনেক কর্মসূচিত পরও বর্তমান সরকার কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উপদেষ্টারা হয়তো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পুরোপুরি ধারন করেন না৷ নইলে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পরে এসে আবারো রাজপথে জানের নিরাপত্তার জন্য নামতে হতো না৷ হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত দাবির জন্য এভাবে ধরনা দিতে হতো না৷

তিনি আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী গনতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে৷ জুলাই বিপ্লবের যেসব সহযোদ্ধাদের উপরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা করা হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে এর সাথে জড়িতদের অতিদ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে৷ কমিশন গঠন করে জাতির সামনে পিলখানা হত্যার স্বরুপ উন্মোচন করতে হবে৷

এসময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়েন বলেন, জীবনের নিরাপত্তার জন্য যদি এভাবে বারবার রাজপথে নামতে হয়, তাহলে আমরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হব।

নওরোজ/এসএইচ

Please Share This Post in Your Social Media

‘গুপ্তহত্যা’র প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাবি প্রতিনিধি
Update Time : ০৪:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তহত্যা’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি)শিক্ষার্থীরা। এসময় পিলখানা হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমলের সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন তারা। মিছিল থেকে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলা এলাকায় এসে শেষ হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের “পিলখানা হত্যার বিচার চাই, সুজন হত্যার বিচার চাই, বিপ্লবীরা রাস্তায় মরে/ সরকার কি করে, আমার ভাই কবরে/ খুনি কেন বাহিরে, আমার ভাই মরলো কেন/ প্রশাসন কি করে, বিচার নিয়ে গরিমসি/মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হুশিয়ার সাবধান, ভারতের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এসময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আনজুম শাহারিয়ার বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এদেশে আধিপত্যবাদ, ভারতীয় আগ্রাসন শুরু হয়েছিল৷ বিপ্লব পরবর্তী সরকার এসব বিচার নিশ্চিত করার নামে গড়িমসি করছে ৷ বিপ্লব পরবর্তী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে বিচারের আওতায় এনে তাদের পুনর্বাসন বন্ধ করার কথা ছিল; তাও হয়নি৷ তারা আজ বিভিন্ন স্থানে আমাদের বিপ্লবীদের উপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে হামলা চালানোর ঘোষণা দিচ্ছে৷

জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া জিসান বলেন, বিপ্লবের সাড়ে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে এটা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য লজ্জাজনক৷ বিডিআর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে৷ বাতিলকৃত সেই কমিশন পুনরায় গঠন করতে হবে৷ হত্যাকান্ডের সাথে যুক্তদের অতিসত্ত্বর বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে৷ উপদেষ্টারা জুলাই বিপ্লবে হত্যাকারীদের বিচারে কাজ করতে না পারলে তাদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে আসা উচিত।

গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছিল বিডিআর বিদ্রোহ৷ জুলাই আন্দোলনে হামলা ও হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত ছিল তাদের বিচারের দাবিতে ইতোমধ্যে অনেক কর্মসূচিত পরও বর্তমান সরকার কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। উপদেষ্টারা হয়তো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পুরোপুরি ধারন করেন না৷ নইলে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পরে এসে আবারো রাজপথে জানের নিরাপত্তার জন্য নামতে হতো না৷ হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত দাবির জন্য এভাবে ধরনা দিতে হতো না৷

তিনি আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী গনতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বরূপ জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে৷ জুলাই বিপ্লবের যেসব সহযোদ্ধাদের উপরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা করা হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে এর সাথে জড়িতদের অতিদ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে৷ কমিশন গঠন করে জাতির সামনে পিলখানা হত্যার স্বরুপ উন্মোচন করতে হবে৷

এসময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়েন বলেন, জীবনের নিরাপত্তার জন্য যদি এভাবে বারবার রাজপথে নামতে হয়, তাহলে আমরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করতে বাধ্য হব।

নওরোজ/এসএইচ