ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কী কথা হলো ট্রাম্প-মাদুরো বৈঠকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০২:০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯৩ Time View

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তবে গতকাল রোববার এই দুই নেতার মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মাদুরোর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “এটি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। এটি একটি ফোন কল ছিল। আমি বলব না এটা ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসের প্রথমদিকে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর তাতে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মধ্যে সম্ভাব্য একটা বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, এ রকম একটা প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ করেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা নিয়ে আক্রমণাত্মক ও উত্তেজনাকর বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির সম্ভাবনাও তুলে ধরছিলেন, এরমধ্যেই ওই ফোন কলের কথা প্রকাশ পেল।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার উপরের এবং আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু আর বিস্তরিত কিছু জানাননি।

মাদুরো সরকারের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।

তার আকাশসীমা মন্তব্যের অর্থ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলা আসন্ন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “এর মধ্যে অন্য কোনো কিছু খুঁজবেন না।”

রয়টার্স জানায়, মাদুরো ও তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা ট্রাম্পের ফোন কল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রোববার কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা তদন্ত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এখানে তাকে ট্রাম্পের ফোন কল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ওই ফোন কল এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয় না।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহ করে দেশটির নাগরিকদের হত্যা করছেন। ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিকল্পগুলো বিবেচনা করে দেখছে।

এসব বিকল্পের মধ্যে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনাও আছে বলে রয়টার্স খবর দিয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রর ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে ও তিন মাস ধরে তারা ওই এলাকায় কথিত সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার সংক্রান্ত অভিযানের একটি নতুন পর্ব শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিকে (সিআইএ) দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গোপন অভিযান চালানোর অনুমতিও দিয়েছেন।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরতদের বলেছেন, সন্দেহভাজন ভেনেজুয়েলান মাদক কারবারিদের থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ স্থল অভিযান শুরু করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমাবেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলায় জিপিএস সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটছে বলে খবর।

উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) সম্পতি ভেনেজুয়েলার মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করে। তারা এয়ারলাইন্সগুলোতে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে সব উচ্চতায় সতর্কতা অবলম্বন’ করতে বলে।

এরপর ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ভেনেজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ ছয়টি বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের অবতরণ নিষিদ্ধ করে ভেনেজুয়েলা।

Please Share This Post in Your Social Media

কী কথা হলো ট্রাম্প-মাদুরো বৈঠকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০২:০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তবে গতকাল রোববার এই দুই নেতার মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মাদুরোর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “এটি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। এটি একটি ফোন কল ছিল। আমি বলব না এটা ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসের প্রথমদিকে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর তাতে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের মধ্যে সম্ভাব্য একটা বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, এ রকম একটা প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ করেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা নিয়ে আক্রমণাত্মক ও উত্তেজনাকর বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কূটনীতির সম্ভাবনাও তুলে ধরছিলেন, এরমধ্যেই ওই ফোন কলের কথা প্রকাশ পেল।

গত শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার উপরের এবং আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু আর বিস্তরিত কিছু জানাননি।

মাদুরো সরকারের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।

তার আকাশসীমা মন্তব্যের অর্থ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলা আসন্ন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “এর মধ্যে অন্য কোনো কিছু খুঁজবেন না।”

রয়টার্স জানায়, মাদুরো ও তার প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা ট্রাম্পের ফোন কল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রোববার কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা তদন্ত করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এখানে তাকে ট্রাম্পের ফোন কল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ওই ফোন কল এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয় না।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহ করে দেশটির নাগরিকদের হত্যা করছেন। ভেনেজুয়েলার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিকল্পগুলো বিবেচনা করে দেখছে।

এসব বিকল্পের মধ্যে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনাও আছে বলে রয়টার্স খবর দিয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রর ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে ও তিন মাস ধরে তারা ওই এলাকায় কথিত সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার সংক্রান্ত অভিযানের একটি নতুন পর্ব শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিকে (সিআইএ) দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গোপন অভিযান চালানোর অনুমতিও দিয়েছেন।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরতদের বলেছেন, সন্দেহভাজন ভেনেজুয়েলান মাদক কারবারিদের থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ স্থল অভিযান শুরু করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমাবেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলায় জিপিএস সিগন্যালে বিঘ্ন ঘটছে বলে খবর।

উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) সম্পতি ভেনেজুয়েলার মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করে। তারা এয়ারলাইন্সগুলোতে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে সব উচ্চতায় সতর্কতা অবলম্বন’ করতে বলে।

এরপর ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ভেনেজুয়েলায় তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ ছয়টি বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের অবতরণ নিষিদ্ধ করে ভেনেজুয়েলা।