ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

কানাডা প্রবাসী ভারতীয়দের ‘সতর্ক’ থাকার আহ্বান দিল্লির

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৮৫ Time View

ছবিঃ- সংগৃহীত

কানাডার শিখ ধর্মাবলম্বীদের নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের নিহতের ঘটনা ও তার ফলে দেশটির সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের কারণে নিজ দেশের নাগরিকদের ভারত ভ্রমণে সতর্কবার্তা দিয়েছে অটোয়া।

এই বার্তার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডায় বসবাসরত ভারতীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাফেরা ও দিনযাপন করার বার্তা দিয়েছে দিল্লি।

বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সেই বার্তায় বলা হয়, ‘কানাডায় দিন দিন ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং প্রবাসী ভারতীয়দের ওপর রাজনৈতিক ঘৃণামূলক হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ কারণে যেসব ভারতীয় দেশটিতে ভ্রমণে গিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল ও দিনযাপন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, কানাডায় বসবাসকারী শিখ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর ১৯৭৭ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর জেলা থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। পরে সেখানাকার নাগরিকত্বও অর্জন করেন তিনি।

একই সঙ্গে ভারতের একজন তালিকাভুক্ত ‘ফেরার’ সন্ত্রাসীও ছিলেন হরদীপ। শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় তৎপর দুই রাজনৈতিক সংগঠন খালিস্তানি টাইগার ফোর্স এবং শিখস ফর জাস্টিস কানাডা শাখার নেতা ছিলেন তিনি।

হরদীপকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করাতে আগ্রহী ছিল ভারত। গত ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভ্যানকুভার শহরের একটি গুরুদুয়ারার (শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়) কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হরদীপ।

যে গুরুদুয়ারার সামনে নিহত হয়েছিলেন, সেটির পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সম্প্রতি ভারতকে সরাসরি দায়ী করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

সোমবার কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ট্রুডো বলেন, তার দেশের গোয়েন্দারা হরদীপ হত্যায় ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন।

কানাডার জন্য এই ঘটনাটি যে তীব্র অবমাননাকর, তা বোঝাতে পার্লামেন্ট ভাষণে ট্রুডো বলেন, ‘কানাডার মাটিতে একজন কানাডীয় নাগরিককে হত্যার সঙ্গে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।’

ট্রুডোর এই অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘কানডা সরকারের এই অভিযোগ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারত বরারবরই আইনের শাসনে প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’

ভারত এই বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কানাডার নাগরিকদের ভারত ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেয় কানাডা সরকার। তারপরই কানাডা প্রবাসী ভারতীয়দের পাল্টা সতর্কবার্তা দিল দিল্লি।

Please Share This Post in Your Social Media

কানাডা প্রবাসী ভারতীয়দের ‘সতর্ক’ থাকার আহ্বান দিল্লির

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৬:২৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কানাডার শিখ ধর্মাবলম্বীদের নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের নিহতের ঘটনা ও তার ফলে দেশটির সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের কারণে নিজ দেশের নাগরিকদের ভারত ভ্রমণে সতর্কবার্তা দিয়েছে অটোয়া।

এই বার্তার ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডায় বসবাসরত ভারতীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাফেরা ও দিনযাপন করার বার্তা দিয়েছে দিল্লি।

বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সেই বার্তায় বলা হয়, ‘কানাডায় দিন দিন ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং প্রবাসী ভারতীয়দের ওপর রাজনৈতিক ঘৃণামূলক হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ কারণে যেসব ভারতীয় দেশটিতে ভ্রমণে গিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল ও দিনযাপন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, কানাডায় বসবাসকারী শিখ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর ১৯৭৭ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর জেলা থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। পরে সেখানাকার নাগরিকত্বও অর্জন করেন তিনি।

একই সঙ্গে ভারতের একজন তালিকাভুক্ত ‘ফেরার’ সন্ত্রাসীও ছিলেন হরদীপ। শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় তৎপর দুই রাজনৈতিক সংগঠন খালিস্তানি টাইগার ফোর্স এবং শিখস ফর জাস্টিস কানাডা শাখার নেতা ছিলেন তিনি।

হরদীপকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করাতে আগ্রহী ছিল ভারত। গত ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভ্যানকুভার শহরের একটি গুরুদুয়ারার (শিখ ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়) কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হরদীপ।

যে গুরুদুয়ারার সামনে নিহত হয়েছিলেন, সেটির পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সম্প্রতি ভারতকে সরাসরি দায়ী করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

সোমবার কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ট্রুডো বলেন, তার দেশের গোয়েন্দারা হরদীপ হত্যায় ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন।

কানাডার জন্য এই ঘটনাটি যে তীব্র অবমাননাকর, তা বোঝাতে পার্লামেন্ট ভাষণে ট্রুডো বলেন, ‘কানাডার মাটিতে একজন কানাডীয় নাগরিককে হত্যার সঙ্গে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমাদের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।’

ট্রুডোর এই অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ‘কানডা সরকারের এই অভিযোগ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারত বরারবরই আইনের শাসনে প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’

ভারত এই বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কানাডার নাগরিকদের ভারত ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেয় কানাডা সরকার। তারপরই কানাডা প্রবাসী ভারতীয়দের পাল্টা সতর্কবার্তা দিল দিল্লি।