ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
কালীগঞ্জে ঈদ পূর্নমিলনী ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক কাযক্রম গ্রহণ রংপুরে তিস্তা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার যৌথবাহিনীর হাতে রসিক কাউন্সিলর গ্রেফতার লোহাগাড়া সড়ক দূর্ঘটনা ট্রাজেডি: মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হল আরও ৩জন লোহাগাড়ায় থামছেইনা মহাসড়কের মৃত্যুর মিছিল, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫ আহত ৯ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রংপুরে ১২০ পরিবারে ঈদ পালন লঞ্চ থেকে আবর্জনা নদীতে ফেললে নেয়া হবে ব্যবস্থা রংপুরে প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে আটটায় বরগুনায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন ভাই নিহত

একই সঙ্গে দুই স্বামীকে ম্যানেজ করে চলছিল জান্নাতুলের সংসার

নওরোজ ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
  • / ১৩৭ Time View

রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নে একই সময় দুই স্বামীর সঙ্গে সংসার করা নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘটনা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথম স্বামী ইউটিউবার সাগর শেখের সঙ্গে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জান্নাতুল। পরে পরিবারের চাপে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রায় দুই বছর বিষয়টি গোপন রাখলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

দুই স্বামীর মন জয় করেই চলছিলেন জান্নাতুল। স্বামীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুজনের কাউকেই।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফ নামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

জান্নাতুলের বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। জান্নাতুলের বাড়ি নিয়মিত যাতায়াত করতেন সাগর। বেশিরভাগ সময় জান্নাতের সঙ্গেই থাকতেন। সংসার জীবনও ভালোই চলছিল তাদের। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে প্রথম স্বামী সাগরের সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল। স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় সাগর তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী।

চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেন তারা। তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামী ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। এ বিষয়ে সাগর জানতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, ‘জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মধ্যে আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই। কাজ থেকে ফিরে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি তাকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি, ওই ছেলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বর বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি। দুই দিন পর জানতে পারি, জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

সাগর বলেন, সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছে। অথচ তার মেয়ের সাথে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন। এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।

সাগর আরও বলেন, আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সাথে প্রতারণা করেছে জান্নাতুল। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে। এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ।

সাগর বলেন, আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি এবং ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর আমলি আদালতে মামলা করেছি। জান্নাতুল আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অপরাধ।’

জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা জানান, ‘কোনো এক সূত্রে জান্নাতুলদের বাড়িতে গিয়ে আমার তাকে পছন্দ হয়। পরে আমি তার বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ঠিক হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে জানায়, জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাগর ছবিও পাঠায়, তবে আমি পরে জানতে পারি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

এদিকে জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নাতুলের মা হাছিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট, বুঝে নাই। যে কারণে সে সময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪-৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

এ বিষয়ে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কার ছিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের কপি আসার কথা ছিল, তবে তা কখনো পাইনি। সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে জান্নাতুলের বাবা ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে সাগরের সঙ্গে সংসার করবে না।’

এটি এমন ঘটনা, যা সমাজে ছেলেদের নির্যাতনের এক নতুন দিক তুলে ধরেছে, যা নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে অনেককে।

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

একই সঙ্গে দুই স্বামীকে ম্যানেজ করে চলছিল জান্নাতুলের সংসার

নওরোজ ডেস্ক রিপোর্ট
Update Time : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪

রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নে একই সময় দুই স্বামীর সঙ্গে সংসার করা নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘটনা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথম স্বামী ইউটিউবার সাগর শেখের সঙ্গে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জান্নাতুল। পরে পরিবারের চাপে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রায় দুই বছর বিষয়টি গোপন রাখলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

দুই স্বামীর মন জয় করেই চলছিলেন জান্নাতুল। স্বামীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুজনের কাউকেই।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফ নামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

জান্নাতুলের বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। জান্নাতুলের বাড়ি নিয়মিত যাতায়াত করতেন সাগর। বেশিরভাগ সময় জান্নাতের সঙ্গেই থাকতেন। সংসার জীবনও ভালোই চলছিল তাদের। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে প্রথম স্বামী সাগরের সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল। স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় সাগর তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী।

চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেন তারা। তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামী ও ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। এ বিষয়ে সাগর জানতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, ‘জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মধ্যে আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই। কাজ থেকে ফিরে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি তাকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি, ওই ছেলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বর বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি। দুই দিন পর জানতে পারি, জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

সাগর বলেন, সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছে। অথচ তার মেয়ের সাথে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন। এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।

সাগর আরও বলেন, আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সাথে প্রতারণা করেছে জান্নাতুল। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে। এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ।

সাগর বলেন, আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি এবং ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর আমলি আদালতে মামলা করেছি। জান্নাতুল আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অপরাধ।’

জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা জানান, ‘কোনো এক সূত্রে জান্নাতুলদের বাড়িতে গিয়ে আমার তাকে পছন্দ হয়। পরে আমি তার বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ঠিক হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে জানায়, জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাগর ছবিও পাঠায়, তবে আমি পরে জানতে পারি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

এদিকে জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নাতুলের মা হাছিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট, বুঝে নাই। যে কারণে সে সময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪-৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

এ বিষয়ে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কার ছিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের কপি আসার কথা ছিল, তবে তা কখনো পাইনি। সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে জান্নাতুলের বাবা ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে সাগরের সঙ্গে সংসার করবে না।’

এটি এমন ঘটনা, যা সমাজে ছেলেদের নির্যাতনের এক নতুন দিক তুলে ধরেছে, যা নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে অনেককে।

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’