ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০১:৩০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৮ Time View

ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিদ্রোহী দল বহুদিনের আন্দোলনের তরফে নতুন দেশ গঠনের সংবিধান ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে উত্তর ইয়েমেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) মূলদ এই বিদ্রোহ করছে। তাদের এ পদক্ষেপটি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে নাকি এটি কেবলই প্রতীকী ঘোষণা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে এ ঘোষণায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনা। সৌদি আরব সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

এসটিসির ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ।

এসটিসির সমর্থকরা দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্র দাবিতে বিক্ষোভ করছে। ছবি : এপি

গত মাসে এসটিসি যোদ্ধারা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর কাছ থেকে দক্ষিণের দুটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং প্রধান শহর এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস দখল করে। এর ফলে ইয়েমেন সরকার সেখান থেকে পালিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

এসটিসির এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার হাজরামাউত প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান তাদের ক্যাম্প এবং সামরিক স্থাপনা বোমা হামলা চালিয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত যোদ্ধারা ওই স্থাপনাগুলো দখলের চেষ্টা করেছিল।

এ বিমান হামলায় সৌদি আরবের সবশেষ পদক্ষেপ কী হতে পারে এ বিষয়ে স্কাই নিউজ বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটি এসটিসি বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এসটিসি বলছে, তাদের জন্য পাঠানো আমিরাতি অস্ত্রের একটি চালানেও আঘাত হেনেছে সৌদি আরব।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের মিত্ররা এতদিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিল। এক দশক ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধ আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশটিকে পর্যদুস্ত করে দিয়েছে।

এই জোটের মূল লক্ষ্য ছিল হুথি বিতাড়িত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো। কিন্তু জোটের অভ্যন্তরীণ উপদল এবং দুই উপসাগরীয় রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় এখন সেই জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবেদি শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, এই সংবিধান দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এরপর ‘দক্ষিণের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের’ প্রশ্নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এই দুই বছরে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সংলাপ হওয়া উচিত, যা দক্ষিণের মানুষের অধিকারের পথ ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

৩০ অনুচ্ছেদের এই সংবিধানে ‘স্টেট অব সাউথ আরাবিয়া’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত রাষ্ট্রটি মূলত ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকে থাকা পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব ইয়েমেনের সীমানাকেই নির্দেশ করে।

এ ঘোষণার বাস্তবিক প্রভাব কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘোষণাটি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাকি অংশগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

ইয়েমেন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে ‘দক্ষিণ আরবিয়া’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০১:৩০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বিদ্রোহী দল বহুদিনের আন্দোলনের তরফে নতুন দেশ গঠনের সংবিধান ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে উত্তর ইয়েমেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) মূলদ এই বিদ্রোহ করছে। তাদের এ পদক্ষেপটি বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হবে নাকি এটি কেবলই প্রতীকী ঘোষণা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে এ ঘোষণায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনা। সৌদি আরব সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

এসটিসির ঘোষণার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ।

এসটিসির সমর্থকরা দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্র দাবিতে বিক্ষোভ করছে। ছবি : এপি

গত মাসে এসটিসি যোদ্ধারা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর কাছ থেকে দক্ষিণের দুটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং প্রধান শহর এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস দখল করে। এর ফলে ইয়েমেন সরকার সেখান থেকে পালিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

এসটিসির এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার হাজরামাউত প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান তাদের ক্যাম্প এবং সামরিক স্থাপনা বোমা হামলা চালিয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত যোদ্ধারা ওই স্থাপনাগুলো দখলের চেষ্টা করেছিল।

এ বিমান হামলায় সৌদি আরবের সবশেষ পদক্ষেপ কী হতে পারে এ বিষয়ে স্কাই নিউজ বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটি এসটিসি বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এসটিসি বলছে, তাদের জন্য পাঠানো আমিরাতি অস্ত্রের একটি চালানেও আঘাত হেনেছে সৌদি আরব।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের মিত্ররা এতদিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হয়ে উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিল। এক দশক ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধ আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশটিকে পর্যদুস্ত করে দিয়েছে।

এই জোটের মূল লক্ষ্য ছিল হুথি বিতাড়িত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো। কিন্তু জোটের অভ্যন্তরীণ উপদল এবং দুই উপসাগরীয় রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় এখন সেই জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এসটিসি প্রধান আইদারুস আল-জুবেদি শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, এই সংবিধান দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এরপর ‘দক্ষিণের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের’ প্রশ্নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এই দুই বছরে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সংলাপ হওয়া উচিত, যা দক্ষিণের মানুষের অধিকারের পথ ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

৩০ অনুচ্ছেদের এই সংবিধানে ‘স্টেট অব সাউথ আরাবিয়া’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত রাষ্ট্রটি মূলত ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকে থাকা পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব ইয়েমেনের সীমানাকেই নির্দেশ করে।

এ ঘোষণার বাস্তবিক প্রভাব কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘোষণাটি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাকি অংশগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।