ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে যোদ্ধাদের যৌনজীবনে ফেরানোর চেষ্টা

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩
  • / ২৪৮ Time View

রাশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে আহত যোদ্ধাদের যৌনজীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। আর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে রিসেক্স নামে একটি দাতব্য সংস্থা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আহত যেসব যোদ্ধা স্বাভাবিক যৌনজীবনে ফিরতে পারছেন না, তাদের সহায়তা করছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে রিসেক্স প্রকল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইভোনা কস্টিনা বলেন, “মার্কিন সেনারা যুদ্ধের পর এ রকম সমস্যায় পড়েছিলেন। সে ঘটনা জানার পর ২০১৮ সালে প্রথম তাঁরা এ প্রকল্পের ধারণা পেয়েছিলেন।”

ইভোনা জানান, প্রকল্পের শুরুতে বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন তারা। জনগণ ও যোদ্ধাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই তখন বলেছিল, “মানুষ মারা যাচ্ছে, আর আপনারা আছেন যৌনতা নিয়ে!”

রিসেক্স প্রায় ছয় হাজার পুস্তিকা মুদ্রণ করে ইউক্রেনের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র, অভিজ্ঞ সৈনিক ও তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া এই পুস্তিকাগুলো অনলাইনেও সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ভিডিও, গ্রাফিকস, একটি হেল্পলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণাও চালু করেছে তারা। সংস্থাটি তাদের প্রচারণায় স্বমেহন থেকে শুরু করে সেক্স টয়ের মতো বিষয়বস্তু রেখেছে।

ইভোনা বলেন, “আমরা সবকিছুই রাখার চেষ্টা করি। পুস্তিকাটিতে যেসব আহত যোদ্ধা এখনো কুমার বা কুমারী, তাদের জন্য একটি বিশেষ অংশও আছে। তাই তাদের আহত হওয়ার পরের যৌনতা হবে প্রথম যৌনতা, যা তারা কখনো কল্পনা করেননি।”

রিসেক্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাটেরিনা স্কোরোখড জানান, তারা নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের তাদের অভিজ্ঞতা ও শরীরের সঙ্গে মানানসই নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এই প্রকল্পের লক্ষ্য শারীরিক দিকের তুলনায় মানসিক দিকেই বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যাটেরিনা বলেন, “আপনি কীভাবে নিজেকে গ্রহণ করতে পারেন, কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে পারেন এবং যুদ্ধে আহত হওয়ার পরে যৌনতা ও সম্পর্কের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে কীভাবে নিজের ও সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন-এসব নিয়েই এ প্রকল্প।’”

এদিকে ইভোনার ভাষ্য, যৌনতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যবহৃত ভাষাটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি অবশ্যই কোনো নাটকীয় ভাষা নয়। তা অবশ্যই বাধা অতিক্রম করার মতো বিষয় নয়। এসব ভাষা সম্ভবত খেলাধুলার জন্য ভালো। আর সবার যৌনতার মাত্রাও একই নয়। এই প্রকল্প থেকে অনেক আহত যোদ্ধাই মানসিকভাবে স্বস্তি লাভ করেছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

ইউক্রেনে যোদ্ধাদের যৌনজীবনে ফেরানোর চেষ্টা

নওরোজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Update Time : ০৫:৫১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩

রাশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে আহত যোদ্ধাদের যৌনজীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। আর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে রিসেক্স নামে একটি দাতব্য সংস্থা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আহত যেসব যোদ্ধা স্বাভাবিক যৌনজীবনে ফিরতে পারছেন না, তাদের সহায়তা করছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে রিসেক্স প্রকল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইভোনা কস্টিনা বলেন, “মার্কিন সেনারা যুদ্ধের পর এ রকম সমস্যায় পড়েছিলেন। সে ঘটনা জানার পর ২০১৮ সালে প্রথম তাঁরা এ প্রকল্পের ধারণা পেয়েছিলেন।”

ইভোনা জানান, প্রকল্পের শুরুতে বিভ্রান্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন তারা। জনগণ ও যোদ্ধাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। অনেকেই তখন বলেছিল, “মানুষ মারা যাচ্ছে, আর আপনারা আছেন যৌনতা নিয়ে!”

রিসেক্স প্রায় ছয় হাজার পুস্তিকা মুদ্রণ করে ইউক্রেনের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র, অভিজ্ঞ সৈনিক ও তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া এই পুস্তিকাগুলো অনলাইনেও সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ভিডিও, গ্রাফিকস, একটি হেল্পলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণাও চালু করেছে তারা। সংস্থাটি তাদের প্রচারণায় স্বমেহন থেকে শুরু করে সেক্স টয়ের মতো বিষয়বস্তু রেখেছে।

ইভোনা বলেন, “আমরা সবকিছুই রাখার চেষ্টা করি। পুস্তিকাটিতে যেসব আহত যোদ্ধা এখনো কুমার বা কুমারী, তাদের জন্য একটি বিশেষ অংশও আছে। তাই তাদের আহত হওয়ার পরের যৌনতা হবে প্রথম যৌনতা, যা তারা কখনো কল্পনা করেননি।”

রিসেক্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাটেরিনা স্কোরোখড জানান, তারা নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের তাদের অভিজ্ঞতা ও শরীরের সঙ্গে মানানসই নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এই প্রকল্পের লক্ষ্য শারীরিক দিকের তুলনায় মানসিক দিকেই বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যাটেরিনা বলেন, “আপনি কীভাবে নিজেকে গ্রহণ করতে পারেন, কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে পারেন এবং যুদ্ধে আহত হওয়ার পরে যৌনতা ও সম্পর্কের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে কীভাবে নিজের ও সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন-এসব নিয়েই এ প্রকল্প।’”

এদিকে ইভোনার ভাষ্য, যৌনতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যবহৃত ভাষাটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি অবশ্যই কোনো নাটকীয় ভাষা নয়। তা অবশ্যই বাধা অতিক্রম করার মতো বিষয় নয়। এসব ভাষা সম্ভবত খেলাধুলার জন্য ভালো। আর সবার যৌনতার মাত্রাও একই নয়। এই প্রকল্প থেকে অনেক আহত যোদ্ধাই মানসিকভাবে স্বস্তি লাভ করেছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়।