আইসিটি বিভাগে এখনো সক্রিয় হাসিনা পুত্র জয় ও পলক পন্থী চক্র

- Update Time : ০৯:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
- / ৬৩ Time View
আগারগাঁও এর আইসিটি টাওয়ারে অবস্থিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের দাপ্তরিক কার্যালয় । এই ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরেই রয়েছে আইসিটি বিভাগ ও এর আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রকল্পের কার্যালয়।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বিপ্লবের পর থেকেই অন্যান্য সরকারি অফিসের মতো এই ভবনেও বিভিন্নভাবে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। আনসার ক্যু-এর দিন পর্যন্ত এই ভবনে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের নামে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে একটি সুবিধাবাদী চক্র। মূলত সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সিন্ডিকেট ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাবেক কর্মীরাই এই অরাজকতা সৃষ্টির নেপথ্যে কাজ করেছে অভিযোগ উঠলেও টকন নড়েনি কারো।
আইসিটি অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, পলকের দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের রাজত্বকালে তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রচুর নেতাকর্মীকে বিভিন্ন পদে বসিয়েছেন। এছাড়া আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় শুধু নাটোর ও সিংড়ার ক্যাডারই আছ প্রায় শতাধিক। ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলে ভীত হয়ে পড়ে ওই চক্রের সুবিধাভোগীরা। এরপর শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া ও ইঞ্জিনিয়ার নরোত্তম পালের অনুসারী সুবিধাবাদী অংশ নতুন কৌশলে এগোতে থাকে তারা। বদলিয়ে ফেলে লেবাস।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ আগস্ট উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম প্রথমবারের মতো আইসিটি টাওয়ারে গেলে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তা ও প্রকল্পের পরিচালকদের উস্কানিতে প্রধান ফটকের সামনে স্লোগান দেয় কিছু কর্মচারি। নিজেরা বৈষম্যের শিকার দাবী করে স্লোগান দিলেও এরা ছিলো মূলত রাজনৈতিক বিবেচনায় জুনায়েদ আহমেদ পলকের রাজত্বকালে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার। এরপর প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে চক্রটি। কখনো প্রধান ফটক আটকে রেখে, কখনো বা বিভিন্ন কর্মকর্তাকে নিজ কক্ষে আটকে রেখে তারা আইসিটি টাওয়ারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ধর্মঘট ও কর্মবিরতির নামে তারা সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে ।
সূত্র বলছে, শুধু বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেই আউটসোর্সিং ও কনসালটেন্ট এর নামে শতাধিক ক্যাডারকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে যাদের একটি বড়ো অংশই পলকের নিজের নির্বাচনী এলাকা নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা।
হাই-টেক পার্কের সাবেক এমডি বিকর্ণ ঘোষের কাছে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার একজন কর্মচারি জানান, আইসিটি বিভাগের আওতাধীন শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (১১টি) প্রকল্পে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার কমপক্ষে ১০ জন কর্মচারি রয়েছে।
এরমধ্যে সোহাগ, মিলন, নিলয় কুমার মনিরুল ইসলাম ও বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী চিহ্নিত ছাত্রলীগ ক্যাডার। এছাড়া ওই প্রকল্পে কর্মরত প্রিয়াংকা ঘোষ হাই-টেক পার্কের সাবেক এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষের সুপারিশে নিয়োগ প্রাপ্ত, তারা দুজনই যশোরের বাসিন্দা। প্রিয়াংকা ঘোষের বিরুদ্ধেও হাই-টেক পার্কের আরেক পিওন যশোরের বাসিন্দা রাহুল ঘোষের মাধ্যমে আউটসোর্সিং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করে হাই-টেক পার্কের পরিচালক তবিবুর রহমান । যিনি যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।
গুঞ্জন রয়েছে তবিবুর রহমানের সাথে প্রিয়াংকা ঘোষের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, হাই-টেক পার্কের সাবেক এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষ সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ভারতের কাছে অসম ঋণের মাধ্যমে চলমান আরেকটি প্রকল্প জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়)। এই প্রকল্পে পলকের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান সর্বেসর্বা। প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে মিজান পলকের খুবই ঘনিষ্ঠজন। এমনকি তার পলকের সহকারি একান্ত সচিব হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সে এখন এই প্রকল্পেই কাজ করছে। সে ওই প্রকল্পের বিভিন্ন কেনাকাটার সাথে জড়িত বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক আইসিটি টাওয়ারে অরাজকতায় সে পেছন থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছে বলে আইসিটি অধিদপ্তরের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে।
শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার গুলোতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার সংখ্যা রয়েছে ১৮ জন আর নাটোর ও সিংড়ার থেকে রয়েছে ১২ জন। জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্কে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার সংখ্যা রয়েছে ১১ জন এবং নাটোর ও সিংড়ার থেকে রয়েছে ৭ জন। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে রয়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১জন এবং নাটোর ও সিংড়ার ৩ জন। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে যুবলীগ-ছাত্রলীগের রয়েছে ৩ জন এবং নাটোর ও সিংড়ার ১ জন। ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবন ইকোণ্ডসিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ২ জন। বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ শীর্ষক প্রকল্পে রয়েছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৪ জন এবং নাটোর ও সিংড়ার ১ জন।
এদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয় তৎপর ছিলো পলকের সাবেক সহকারি একান্ত সচিব বর্তমানে ডাটা সেন্টারে কর্মরত রঞ্জিত কুমার, পলকের দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর বর্তমানে হাই-টেক পার্কে সংযুক্ত কর্মচারি আনোয়ার হোসেন, পলকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদ্দাম হোসেন ও রাকিবুল ইসলাম এবং আইসিটি বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের কোটায় নিয়োগ পাওয়া রাশেদুর রহমান।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আমিরুল ইসলামের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। বিষয়টি রহস্যজনক।