ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৩:৪০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ১৮৫ Time View

রেলের অস্থায়ী শ্রমিকদের ধর্মঘটে টানা ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজধানীর মালিবাগ রেললাইন অবরোধ করেন রেলের অস্থায়ী শ্রমিকরা। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

জানা যায়, সরকারি গেজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রেলপথমন্ত্রী, রেলওয়ে সচিব ও রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়ানি। তাই অস্থায়ী শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে গত রোববার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই কর্মসূচি পালন করেছে রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি।

পরে বিভিন্ন আশ্বাসে রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময় সারা দেশে ট্রেনের শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দূর হয় কর্মসূচি প্রত্যাহার করায়।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্সের বাড়তি টাকা ও সেই অনুসারে পেনশন দেয়ার দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন রেলের রানিং স্টাফরা। তবে এদিন সন্ধ্যায় রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়।

রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তিনি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ফোন করেছিলেন। এ জন্য আমরা ১০ কর্মদিবসের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছিলাম।

রানিং স্টাফদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ রেল আইন অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি টাকা দেওয়া হয়; যা মাইলেজ প্রথা নামে পরিচিত। মূল বেতন অনুযায়ী প্রাপ্য পেনশন থেকে দেওয়া হয় ৭৫ শতাংশ বেশি টাকা। এভাবেই বেতন ও পেনশন পেয়ে আসছিলেন রানিং স্টাফরা।

তবে ২০২১ সালে রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা সীমিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। পেনশনে পাওয়া অতিরিক্ত ৭৫ শতাংশ টাকাও বাতিল করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও সুফল পাননি তারা।

এ অবস্থায় রোববার মধ্যরাত থেকে কর্মবিতরতির ডাক দিয়েছিলেন রানিং স্টাফরা। রেলের রানিং স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন ট্রেনচালক, সহকারী চালক, টিটিই ও ট্রেন পরিচালকরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু

Update Time : ০৩:৪০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রেলের অস্থায়ী শ্রমিকদের ধর্মঘটে টানা ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রাজধানীর মালিবাগ রেললাইন অবরোধ করেন রেলের অস্থায়ী শ্রমিকরা। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

জানা যায়, সরকারি গেজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রেলপথমন্ত্রী, রেলওয়ে সচিব ও রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়ানি। তাই অস্থায়ী শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে গত রোববার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই কর্মসূচি পালন করেছে রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি।

পরে বিভিন্ন আশ্বাসে রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময় সারা দেশে ট্রেনের শিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দূর হয় কর্মসূচি প্রত্যাহার করায়।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্সের বাড়তি টাকা ও সেই অনুসারে পেনশন দেয়ার দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন রেলের রানিং স্টাফরা। তবে এদিন সন্ধ্যায় রেলের রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতি কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়।

রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তিনি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ফোন করেছিলেন। এ জন্য আমরা ১০ কর্মদিবসের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছিলাম।

রানিং স্টাফদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ রেল আইন অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি টাকা দেওয়া হয়; যা মাইলেজ প্রথা নামে পরিচিত। মূল বেতন অনুযায়ী প্রাপ্য পেনশন থেকে দেওয়া হয় ৭৫ শতাংশ বেশি টাকা। এভাবেই বেতন ও পেনশন পেয়ে আসছিলেন রানিং স্টাফরা।

তবে ২০২১ সালে রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা সীমিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। পেনশনে পাওয়া অতিরিক্ত ৭৫ শতাংশ টাকাও বাতিল করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেও সুফল পাননি তারা।

এ অবস্থায় রোববার মধ্যরাত থেকে কর্মবিতরতির ডাক দিয়েছিলেন রানিং স্টাফরা। রেলের রানিং স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন ট্রেনচালক, সহকারী চালক, টিটিই ও ট্রেন পরিচালকরা।