ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৭ দিন ধরে উত্তরা থেকে নিখোঁজ যুবলীগ নেতা শামীম

মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু, (উত্তরা) ঢাকা
  • Update Time : ১০:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩
  • / ২৩১ Time View

রাজধানীর উত্তরার এক যুবলীগ নেতা ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গত ৩১ মে গভীর রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিখোঁজ শামীমের ফোন থেকে ফেসবুকে লগইন করা হয়। প্রযুক্তি বলছে, যে ওয়াইফাই দিয়ে শামীমের ফোন লগইন হয়েছিল সেটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আইপি অ্যাড্রেস থেকে। ডিএমপি কর্মকর্তারা, পরিবারের জিডির বিষয়টি স্বীকার করলেও আইপি অ্যাড্রেসের বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ।

গত ৩১ মে মধ্যরাতে হৃদ্‌রোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাকে দেখে রাত ১টা ২৪-এ বের হন শামীম। সঙ্গে নেন ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলটি। দেখা গেল, এক ব্যক্তি শামীমকে অুস্বরণ করছেন। এ সময় সেই ব্যক্তি ইশারা করেন একটি মাইক্রোবাসকে। শামীমের বাইককে তখন ফলো করছে মাইক্রোবাসটি।

উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের লুবনা হাসপাতালের সামনে থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার মূল সড়ক পর্যন্ত এসে ইউটার্ন নিয়ে ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় যাওয়ার কথা শামীমের। কিন্তু রাত দেড়টার পর থেকে বন্ধ পাওয়া যায় তার ফোন। ধারণা করা যায় পশ্চিম থানার মূল সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কী হয়েছিল সে সময়। যদিও ঘটনার ১৭ দিন পরও ওই সড়কের কোনো সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নিজেরাই দেখতে পায়নি বা দেখেনি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

সে রাতে বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও হদিস মেলেনি শামীমের। পরদিন ১ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেছে তার পরিবার। ঘটনার মোড় ঘোরে নিখোঁজের একদিন পর শামীমের মোবাইলটি যখন ফেসবুকে লগইন হয়। ১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মোবাইলটি যে ওয়াইফাই ব্যবহার করে লগইন করা হয় সেটির আইপি অ্যাড্রেস হাতে আসে গণমাধ্যমের।

শামীমের বড় ভাই জানান, ওর ফোনটা বাড়িতে থাকা পিসির সঙ্গে লগইন করা ছিল, সেখান থেকে একটা আইপি নাম্বার পাওয়া গেল; যেখান থেকে লগইন করা হয়েছে। যারা টেকনোলজি ভালো জানেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন তারা বলে দেয় রমনার আশপাশে থেকে এটি লগইন করা হয়েছে।

প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেখা যায় ঢাকা ফাইবার নেট ব্যবহার করছে ওই আইপি অ্যাড্রেসটি, যা ব্যবহৃত হচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ের একটি ভবনে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওই আইপি অ্যাড্রেসটি যে ডিএমপির তা নিশ্চিত করেন। একই অভিযোগ পরিবারেরও। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয় সংবাদ মাধ্যম।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, একটা আইপি অ্যাড্রেস যদি পাওয়া যায়, তাহলে সেটির লোকেশন পাওয়া সম্ভব। সেটি কীভাবে, যে আইপি অ্যাড্রেস খোঁজে পাওয়ার বিভিন্ন টুলস রয়েছে, সে রকম একটি জনপ্রিয় আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে সেটি হচ্ছে, হট ইস মাই অ্যাড্রেস। এখানে গেলে অ্যাড্রেস লুক আপ করলে দেখা যায় এই আইপি অ্যাড্রেসের লোকেশন কোথায়। সেই নাম ধরেই ঠিকানাসহ আসে এবং গুগলের সাহায্যে কাছাকাছি লোকেশনটা পাওয়া যায়।
পরিবারের ধারণা, রাতে যখন শামীম তার বাইকে বাসায় ফিরছিলেন তখন পশ্চিম থানার মূল সড়ক থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। এরপর এয়ারপোর্ট সড়ক ধরে মহাখালী পেরিয়ে গাড়ি যখন রমনার দিকে তখন শামীমের বাইকের ডিজিটাল নম্বর প্লেট ধরা পড়ে বিআরটিএর টাওয়ারে।

শামীমের বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার সিকিউরিটির সঙ্গে। কিন্তু কেউই কথা বলতে রাজি হননি।
অবশ্য ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, শামীমের জিডি নিয়ে কাজ করছেন তারা। তবে আইপি অ্যাড্রেসের বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, তদন্ত করে দেখতে পারি আসলে তিনি কোথায় আছেন। সেট খুব তাড়াতাড়ি করা হবে।
এদিকে শামীমকে না পেয়ে পাগলপ্রায় তার বাবা-মা আর স্ত্রী এবং সন্তানরা।

শামীমের মা বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। পরিবারের দাবি, শামীম কোনো অন্যায় করলে তাকে অবিলম্বে আদালতে সোপর্দ করা হোক। আইনের আওতায় আনা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

১৭ দিন ধরে উত্তরা থেকে নিখোঁজ যুবলীগ নেতা শামীম

Update Time : ১০:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

রাজধানীর উত্তরার এক যুবলীগ নেতা ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গত ৩১ মে গভীর রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিখোঁজ শামীমের ফোন থেকে ফেসবুকে লগইন করা হয়। প্রযুক্তি বলছে, যে ওয়াইফাই দিয়ে শামীমের ফোন লগইন হয়েছিল সেটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আইপি অ্যাড্রেস থেকে। ডিএমপি কর্মকর্তারা, পরিবারের জিডির বিষয়টি স্বীকার করলেও আইপি অ্যাড্রেসের বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ।

গত ৩১ মে মধ্যরাতে হৃদ্‌রোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাকে দেখে রাত ১টা ২৪-এ বের হন শামীম। সঙ্গে নেন ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলটি। দেখা গেল, এক ব্যক্তি শামীমকে অুস্বরণ করছেন। এ সময় সেই ব্যক্তি ইশারা করেন একটি মাইক্রোবাসকে। শামীমের বাইককে তখন ফলো করছে মাইক্রোবাসটি।

উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের লুবনা হাসপাতালের সামনে থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার মূল সড়ক পর্যন্ত এসে ইউটার্ন নিয়ে ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় যাওয়ার কথা শামীমের। কিন্তু রাত দেড়টার পর থেকে বন্ধ পাওয়া যায় তার ফোন। ধারণা করা যায় পশ্চিম থানার মূল সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে কী হয়েছিল সে সময়। যদিও ঘটনার ১৭ দিন পরও ওই সড়কের কোনো সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নিজেরাই দেখতে পায়নি বা দেখেনি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

সে রাতে বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও হদিস মেলেনি শামীমের। পরদিন ১ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেছে তার পরিবার। ঘটনার মোড় ঘোরে নিখোঁজের একদিন পর শামীমের মোবাইলটি যখন ফেসবুকে লগইন হয়। ১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মোবাইলটি যে ওয়াইফাই ব্যবহার করে লগইন করা হয় সেটির আইপি অ্যাড্রেস হাতে আসে গণমাধ্যমের।

শামীমের বড় ভাই জানান, ওর ফোনটা বাড়িতে থাকা পিসির সঙ্গে লগইন করা ছিল, সেখান থেকে একটা আইপি নাম্বার পাওয়া গেল; যেখান থেকে লগইন করা হয়েছে। যারা টেকনোলজি ভালো জানেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন তারা বলে দেয় রমনার আশপাশে থেকে এটি লগইন করা হয়েছে।

প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেখা যায় ঢাকা ফাইবার নেট ব্যবহার করছে ওই আইপি অ্যাড্রেসটি, যা ব্যবহৃত হচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ের একটি ভবনে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওই আইপি অ্যাড্রেসটি যে ডিএমপির তা নিশ্চিত করেন। একই অভিযোগ পরিবারেরও। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয় সংবাদ মাধ্যম।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, একটা আইপি অ্যাড্রেস যদি পাওয়া যায়, তাহলে সেটির লোকেশন পাওয়া সম্ভব। সেটি কীভাবে, যে আইপি অ্যাড্রেস খোঁজে পাওয়ার বিভিন্ন টুলস রয়েছে, সে রকম একটি জনপ্রিয় আইপি অ্যাড্রেস রয়েছে সেটি হচ্ছে, হট ইস মাই অ্যাড্রেস। এখানে গেলে অ্যাড্রেস লুক আপ করলে দেখা যায় এই আইপি অ্যাড্রেসের লোকেশন কোথায়। সেই নাম ধরেই ঠিকানাসহ আসে এবং গুগলের সাহায্যে কাছাকাছি লোকেশনটা পাওয়া যায়।
পরিবারের ধারণা, রাতে যখন শামীম তার বাইকে বাসায় ফিরছিলেন তখন পশ্চিম থানার মূল সড়ক থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়। এরপর এয়ারপোর্ট সড়ক ধরে মহাখালী পেরিয়ে গাড়ি যখন রমনার দিকে তখন শামীমের বাইকের ডিজিটাল নম্বর প্লেট ধরা পড়ে বিআরটিএর টাওয়ারে।

শামীমের বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার সিকিউরিটির সঙ্গে। কিন্তু কেউই কথা বলতে রাজি হননি।
অবশ্য ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, শামীমের জিডি নিয়ে কাজ করছেন তারা। তবে আইপি অ্যাড্রেসের বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, তদন্ত করে দেখতে পারি আসলে তিনি কোথায় আছেন। সেট খুব তাড়াতাড়ি করা হবে।
এদিকে শামীমকে না পেয়ে পাগলপ্রায় তার বাবা-মা আর স্ত্রী এবং সন্তানরা।

শামীমের মা বলেন, আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। পরিবারের দাবি, শামীম কোনো অন্যায় করলে তাকে অবিলম্বে আদালতে সোপর্দ করা হোক। আইনের আওতায় আনা হোক।