ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ-জাপান

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
  • / ২৬৯ Time View

২০৪১ সাল নাগাদ জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদ্ভাবন, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও জাপান।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিওর উপস্থিতিতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি স্ব স্ব দেশের পক্ষে সহযোগিতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বুধবার আইসিটি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সহযোগিতা স্মারকের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবন, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, ডিজিটাল লিটারেসি, সাইবার সিকিউরিটি, তথ্য আদান-প্রদান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একসাথে কাজ করবে জাপান।

সহযোগিতা স্মারকে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের ঘটনা প্রতিরোধ এবং প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা নতিমালা ও এ ব্যাপারে সর্বোত্তম অনুশীলনের মডেলগুলোর আদান-প্রদান এবং সাইবার নিরাপত্তার চলতি বিষয়ে সংলাপ আয়োজনের পাশাপাশি মানবসম্পদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ে সহযোগিতা করবে দুই দেশ।

তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগামি দেশ জাপানের সাথে সহযোগিতা স্মারককে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেনতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, এই চুক্তি তথ্যপ্রযুক্তিতে জাপানের সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারিত করবে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত ও জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের অভিযাত্রাকে বেগবান করবে।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকার) মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: আইসিটি ২০৪১ মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করেছি। সহযোগিতা স্বারক স্বাক্ষরের ফলে এ মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে প্রকল্প গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আগামীতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হবে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে জাপানের পরামর্শ ও সহযোগিতা একদিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অন্যদিকে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথ সুগম করবে।

সহযোগিতা স্মারক অনুসারে আরও যেসব ক্ষেত্রে উভয় দেশ সহযোগিতা করবে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী এবং আইটি খাতের কর্মীদের আপস্কিলিং প্রোগ্রাম প্রদানের জন্য জাপানি টেক ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউটের সাথে সহযোগিতা। এছাড়াও সাইবার স্পেসে আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা পুনঃনিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় আচরণের ক্ষেত্রে ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২১ সালের UNGGE রিপোর্টের বাস্তবায়নকে উন্নীত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করবে। সাইবারস্পেস এবং সাইবারস্পেসে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ও অ-বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনে চলা এবং সেইসাথে যথাযথভাবে কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস পরিচালনা করে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসারিত করতে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ-জাপান

Update Time : ০৭:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

২০৪১ সাল নাগাদ জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদ্ভাবন, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ ও জাপান।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিওর উপস্থিতিতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি স্ব স্ব দেশের পক্ষে সহযোগিতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। বুধবার আইসিটি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সহযোগিতা স্মারকের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবন, গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, ডিজিটাল লিটারেসি, সাইবার সিকিউরিটি, তথ্য আদান-প্রদান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একসাথে কাজ করবে জাপান।

সহযোগিতা স্মারকে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের ঘটনা প্রতিরোধ এবং প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা নতিমালা ও এ ব্যাপারে সর্বোত্তম অনুশীলনের মডেলগুলোর আদান-প্রদান এবং সাইবার নিরাপত্তার চলতি বিষয়ে সংলাপ আয়োজনের পাশাপাশি মানবসম্পদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ে সহযোগিতা করবে দুই দেশ।

তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগামি দেশ জাপানের সাথে সহযোগিতা স্মারককে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেনতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, এই চুক্তি তথ্যপ্রযুক্তিতে জাপানের সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারিত করবে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত ও জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের অভিযাত্রাকে বেগবান করবে।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকার) মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: আইসিটি ২০৪১ মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করেছি। সহযোগিতা স্বারক স্বাক্ষরের ফলে এ মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে প্রকল্প গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আগামীতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হবে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে জাপানের পরামর্শ ও সহযোগিতা একদিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অন্যদিকে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথ সুগম করবে।

সহযোগিতা স্মারক অনুসারে আরও যেসব ক্ষেত্রে উভয় দেশ সহযোগিতা করবে, সেগুলো হলো—বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী এবং আইটি খাতের কর্মীদের আপস্কিলিং প্রোগ্রাম প্রদানের জন্য জাপানি টেক ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউটের সাথে সহযোগিতা। এছাড়াও সাইবার স্পেসে আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা পুনঃনিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় আচরণের ক্ষেত্রে ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২১ সালের UNGGE রিপোর্টের বাস্তবায়নকে উন্নীত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করবে। সাইবারস্পেস এবং সাইবারস্পেসে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ও অ-বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনে চলা এবং সেইসাথে যথাযথভাবে কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস পরিচালনা করে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসারিত করতে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালাবে।