ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪৫তম বিসিএস

সেমিস্টার ড্রপ করা মাভাবিপ্রবির মামুন নিয়োগ পেলেন প্রশাসন ক্যাডারে

সুজন চন্দ্র দাস, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৬৯ Time View

‘সেমিস্টার ড্রপ’ শব্দটি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে ব্যর্থতার প্রতীক হলেও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মির্জা আল মামুন সেই ধারণাকেই বদলে দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ৪৫তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে।

ময়মনসিংহের সরকারি কোয়ার্টারে কর্মজীবী বাবার কাছে বেড়ে ওঠা মামুন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। তবে ক্লাস থ্রিতে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হতে না পারাটা তার জীবনে প্রথম বড় ধাক্কা। সেই ব্যর্থতাই পরবর্তীতে তার অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসিতে জিপিএ–৫ অর্জনের পর তিনি ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে মাভাবিপ্রবির আইসিটি বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রথম বর্ষের সেমিস্টারগুলো আশানুরূপ না হওয়ায় দ্বিতীয় বর্ষে এসে তাকে নিতে হয় সেমিস্টার ড্রপ—যা তার জন্য ছিল মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন সময়। সহপাঠীরা যখন পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি তখন রিঅ্যাডমিশন নিয়ে জুনিয়র ব্যাচে নতুন করে পথচলা শুরু করেন। অপরিচিত পরিবেশ, নতুন সহপাঠী—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে সিনিয়র–জুনিয়রদের সহায়তা এবং নিজের দৃঢ় মনোবলে তিনি ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ২.৭৯ সিজিপিএ নিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু রাকেশ তাকে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। দু’দুবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। কারণ তার কথায়—সেমিস্টার ড্রপ জয় করা মানুষ ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে না। তৃতীয় চেষ্টায় তিনি উত্তীর্ণ হন ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায়। প্রস্তুতির পুরো সময়জুড়েই পাশে ছিলেন ৪৩তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডার নেয়ামুল কবির উৎস এবং ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ডা. অন্তিম হাসান।

বিভাগের লিখিত পরীক্ষার পর মামুন ঢাকায় নীলক্ষেতের ‘কনফিডেন্স’ কোচিংয়ে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। প্রতিদিন ৫–৬ ঘণ্টা অধ্যয়ন ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। পাশাপাশি ব্যাংক চাকরির প্রস্তুতিও চলতে থাকে। ইতিমধ্যে তিনি সোনালী ব্যাংকে আইটি অফিসার পদে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন।
এরপর প্রকাশিত হয় ৪৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার ফল—যেখানে প্রশাসন ক্যাডারে স্থান করে নেন মির্জা আল মামুন।

সাফল্য নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমার মায়ের। তার দোয়া আর বিশ্বাসই আমাকে সব প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তি দিয়েছে।”

বিসিএসের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সেমিস্টার ড্রপ বা ব্যর্থতা কাউকে থামিয়ে দিতে পারে না। পরিকল্পিত পড়াশোনা, নিয়মিত চর্চা আর ধৈর্য—এই তিনটিই সফলতার মূল উপাদান।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মামুন জানান,‌ “দেশের সেবা করা, মানুষের পাশে থাকা এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন আমার লক্ষ্য।”

Please Share This Post in Your Social Media

৪৫তম বিসিএস

সেমিস্টার ড্রপ করা মাভাবিপ্রবির মামুন নিয়োগ পেলেন প্রশাসন ক্যাডারে

সুজন চন্দ্র দাস, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
Update Time : ০৭:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

‘সেমিস্টার ড্রপ’ শব্দটি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে ব্যর্থতার প্রতীক হলেও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মির্জা আল মামুন সেই ধারণাকেই বদলে দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ৪৫তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে।

ময়মনসিংহের সরকারি কোয়ার্টারে কর্মজীবী বাবার কাছে বেড়ে ওঠা মামুন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। তবে ক্লাস থ্রিতে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হতে না পারাটা তার জীবনে প্রথম বড় ধাক্কা। সেই ব্যর্থতাই পরবর্তীতে তার অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে এইচএসসিতে জিপিএ–৫ অর্জনের পর তিনি ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে মাভাবিপ্রবির আইসিটি বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রথম বর্ষের সেমিস্টারগুলো আশানুরূপ না হওয়ায় দ্বিতীয় বর্ষে এসে তাকে নিতে হয় সেমিস্টার ড্রপ—যা তার জন্য ছিল মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন সময়। সহপাঠীরা যখন পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি তখন রিঅ্যাডমিশন নিয়ে জুনিয়র ব্যাচে নতুন করে পথচলা শুরু করেন। অপরিচিত পরিবেশ, নতুন সহপাঠী—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে সিনিয়র–জুনিয়রদের সহায়তা এবং নিজের দৃঢ় মনোবলে তিনি ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত তিনি স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন ২.৭৯ সিজিপিএ নিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু রাকেশ তাকে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। দু’দুবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। কারণ তার কথায়—সেমিস্টার ড্রপ জয় করা মানুষ ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে না। তৃতীয় চেষ্টায় তিনি উত্তীর্ণ হন ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায়। প্রস্তুতির পুরো সময়জুড়েই পাশে ছিলেন ৪৩তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডার নেয়ামুল কবির উৎস এবং ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ডা. অন্তিম হাসান।

বিভাগের লিখিত পরীক্ষার পর মামুন ঢাকায় নীলক্ষেতের ‘কনফিডেন্স’ কোচিংয়ে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। প্রতিদিন ৫–৬ ঘণ্টা অধ্যয়ন ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। পাশাপাশি ব্যাংক চাকরির প্রস্তুতিও চলতে থাকে। ইতিমধ্যে তিনি সোনালী ব্যাংকে আইটি অফিসার পদে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন।
এরপর প্রকাশিত হয় ৪৫তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার ফল—যেখানে প্রশাসন ক্যাডারে স্থান করে নেন মির্জা আল মামুন।

সাফল্য নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমার মায়ের। তার দোয়া আর বিশ্বাসই আমাকে সব প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তি দিয়েছে।”

বিসিএসের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “সেমিস্টার ড্রপ বা ব্যর্থতা কাউকে থামিয়ে দিতে পারে না। পরিকল্পিত পড়াশোনা, নিয়মিত চর্চা আর ধৈর্য—এই তিনটিই সফলতার মূল উপাদান।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মামুন জানান,‌ “দেশের সেবা করা, মানুষের পাশে থাকা এবং পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করাই এখন আমার লক্ষ্য।”