ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
লন্ডনে ‘ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ অগ্রযাত্রায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত সিলেটে বন্যায় ৭ লাখ ৭২ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হাঁড়িভাঙ্গা আম ও সবজি সংরক্ষণের মিঠাপুকুরে বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপিত হবে – কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ভারত-চীন সফরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করার দাবি সৈয়দপুর হিউম্যানিটি ইন ডিস্ট্রেস (হিড) এর কোরবানি প্রোগ্রামে ১৪,৩৯,০০০ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নামাজ-পড়ালেখা নিয়ে শাসন করায় ফাঁস নিল কিশোরী ১ম বঙ্গবন্ধু ইন্দো-বাংলা ফুটসাল সিরিজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত দেশে নয়টি ড্রেজিং স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে : সিলেটে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সিলেটে জনদুর্ভোগ অব্যাহত; পানি কোথাও কমছে কোথাও বাড়ছে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে, বাড়ছে নদীভাঙন

সুইটকে ভোট না দিলে লোহা গরম করে সোজা করার হুমকি ইউপি সদস্যের

কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব্যুরো
  • Update Time : ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪
  • / ৬৩ Time View

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফজলে রাব্বি সুইটকে ভোট না দিলে ভোটারদেরকে জলন্ত আগুনে শিখ (লোহা বা রড) যেমন করে গরম করা সেইভাবে গরম করে সোজা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যে বিরুদ্ধে। ওই ইউপি সদস্যের নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ মে) তাঁর হুমকি দেওয়ার ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ফজলে রাব্বি সুইট গত দুই টাইম থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। এবারও তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি রংপুর জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি।

তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরী ওরফে পলিন চৌধুরী। আগামী ৫জুন এ উপজেলার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ১২ মে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষ হয়েছে। আগামী ২০ মে প্রতীক বরাদ্দ হবে।

মনোনয়নপত্র দাখিল করেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গত বুধবার রাতে কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামে উঠান নির্বাচনী বৈঠক করেন ফজলে রাব্বি সুইট। সেখানে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সুইট এলাকার সন্তান। গত নির্বাচনে এলাকার দুই কেন্দ্রে সুইটের বিপক্ষ প্রার্থীরা ভোট পেয়েছিলেন ৩৩টি। আশা করি এবার যেন সেটাও না পান।’

উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার শনাক্ত করবো সুইটের এগিনেষ্টে কে। আমরা প্রথমে তাদের আদর করবো, হাত ধরবো, প্রয়োজনে পা ধরবো, তবুও যদি সোজা না হয় তাহলে কী করবো? ইউপি সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিতি কয়েকজন বলেন, ঢাশি ধরবো।

ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘না, প্রয়োজনে জ্বলন্ত আগুনে শিক গরম করে সোজা করবো।’

সুইটের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান তবিকুর চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই হুমকি দেওয়ার ২দিন আগে (গত সোমবার) বৈরামপুর এলাকায় আমার যুবলীগের কর্মী সামবেশ ছিল।

ওই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা কর্মী সমাবেশের সামিনা ছিঁড়ে ফেলেন এবং আমার এককর্মীর বাড়িতে হামলা চালান। বিষয়টি থানায় অবগত করলেও ওসি ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে ওই ইউপি সদস্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।’ হাসান তবিকুর চৌধুরী বলেন,‘ ভোট করার অধিকার সবারে আছে। ভোটারেরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করতেই পারেন। কিন্তু ওই ইউপি সদস্যের হুমকি ধামকিতে সুষ্ঠুভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা (বৈরামপুর এলাকা) হামার বাড়ি। সুইটকে ভোট দেওয়া নিয়ে ভাই ভাতিজাদের নিয়ে হাইস্কুল মাঠে ঘরোয়া বৈঠক করেছি। সেখানে যদি পরিবারের মধ্যে দু’একজন ট্যারী হয়, তাহলে হামরা ডাংগাই না মারি সেটা হামার ব্যাপার। হামরা কি অন্য এলাকাত গিয়ে সেটা করোছি?

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীর বাড়িতে হামলা চালাইনি। তবে ওই কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সুইটের পক্ষে ভোট করার কথা বলেছি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলে রাব্বি সুইটের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ‘ওই সদস্যের হুমকির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখা হবে।’ ওসি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বীর কর্মীর বাড়িতে হামলার বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

সুইটকে ভোট না দিলে লোহা গরম করে সোজা করার হুমকি ইউপি সদস্যের

Update Time : ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ফজলে রাব্বি সুইটকে ভোট না দিলে ভোটারদেরকে জলন্ত আগুনে শিখ (লোহা বা রড) যেমন করে গরম করা সেইভাবে গরম করে সোজা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যে বিরুদ্ধে। ওই ইউপি সদস্যের নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ মে) তাঁর হুমকি দেওয়ার ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ফজলে রাব্বি সুইট গত দুই টাইম থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। এবারও তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি রংপুর জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি।

তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরী ওরফে পলিন চৌধুরী। আগামী ৫জুন এ উপজেলার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ১২ মে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষ হয়েছে। আগামী ২০ মে প্রতীক বরাদ্দ হবে।

মনোনয়নপত্র দাখিল করেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গত বুধবার রাতে কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামে উঠান নির্বাচনী বৈঠক করেন ফজলে রাব্বি সুইট। সেখানে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সুইট এলাকার সন্তান। গত নির্বাচনে এলাকার দুই কেন্দ্রে সুইটের বিপক্ষ প্রার্থীরা ভোট পেয়েছিলেন ৩৩টি। আশা করি এবার যেন সেটাও না পান।’

উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এবার শনাক্ত করবো সুইটের এগিনেষ্টে কে। আমরা প্রথমে তাদের আদর করবো, হাত ধরবো, প্রয়োজনে পা ধরবো, তবুও যদি সোজা না হয় তাহলে কী করবো? ইউপি সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে উপস্থিতি কয়েকজন বলেন, ঢাশি ধরবো।

ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘না, প্রয়োজনে জ্বলন্ত আগুনে শিক গরম করে সোজা করবো।’

সুইটের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান তবিকুর চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই হুমকি দেওয়ার ২দিন আগে (গত সোমবার) বৈরামপুর এলাকায় আমার যুবলীগের কর্মী সামবেশ ছিল।

ওই ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা কর্মী সমাবেশের সামিনা ছিঁড়ে ফেলেন এবং আমার এককর্মীর বাড়িতে হামলা চালান। বিষয়টি থানায় অবগত করলেও ওসি ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে ওই ইউপি সদস্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।’ হাসান তবিকুর চৌধুরী বলেন,‘ ভোট করার অধিকার সবারে আছে। ভোটারেরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করতেই পারেন। কিন্তু ওই ইউপি সদস্যের হুমকি ধামকিতে সুষ্ঠুভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা (বৈরামপুর এলাকা) হামার বাড়ি। সুইটকে ভোট দেওয়া নিয়ে ভাই ভাতিজাদের নিয়ে হাইস্কুল মাঠে ঘরোয়া বৈঠক করেছি। সেখানে যদি পরিবারের মধ্যে দু’একজন ট্যারী হয়, তাহলে হামরা ডাংগাই না মারি সেটা হামার ব্যাপার। হামরা কি অন্য এলাকাত গিয়ে সেটা করোছি?

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীর বাড়িতে হামলা চালাইনি। তবে ওই কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সুইটের পক্ষে ভোট করার কথা বলেছি।’

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলে রাব্বি সুইটের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ‘ওই সদস্যের হুমকির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখা হবে।’ ওসি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বীর কর্মীর বাড়িতে হামলার বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি।